ওমর সেদিন ক্লাস করাচ্ছিলেন।
রুশ ভালুকদের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষ হয়েছে। সবার আশা ছিলো শরিয়াহ কায়েম হবে। কিন্তু সেক্যুলারের দুর্গন্ধ অনেকের শরীরে রয়ে গেছে। আহমদ শাহ মাসউদ, রব্বানি, গুলবুদ্দীন হেকমতিয়ার প্রমুখের ক্ষমতার প্রভাবের দ্বন্দ্বে সদ্যমুক্ত আফগান দিশেহারা। রুশ তাড়িয়ে যে শান্তির তালাশে ছিলো জাতি, তা অধরা।
মুখলিস কমান্ডার, যোদ্ধাগণ তখন নিজেদের ফাসাদ হতে গুটিয়ে জনজীবনে খাপ খাওয়াতে চাইছেন, সাধারণের ভিড়ে মিশে গেছেন। দেশময় বিশৃঙ্খলা, শান্তি বিঘ্নিত হয়ে গেছে, নিরাপত্তার ছিটেফোঁটা নাই।
ওমর সেদিন ক্লাস করাচ্ছিলেন। একজন ড্রাইভার এলেন। তিনি কিছু জানতে চাইছিলেন। উনাকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অন্যায় ট্যাক্স চাওয়া হচ্ছিল। তিনি শরিয়াহর কথা বলছিলেন। ইসলাম এসব সমর্থন করে কিনা জিজ্ঞেস করেছিলেন আদায়কারীদের। প্রত্তুত্তরে তাকে অশ্রাব্য কথা বলা হয়, দ্বীনকে কটাক্ষ করা হয়, ইসলামকে অবমাননা করা হয়। ইসলাম হতে খারিজ করে দেয় এমন ভাষায় বলা হয়েছিলো।
শুনে উমর কিতাব বন্ধ করে দেন। বলেন, আমাদের বেঁচে থাকা এখন হারাম! যখন প্রকাশ্যে কু/F/রি কথা বলা হয়, ইসলামের নিদর্শনাবলীর অবমাননা করা হয় তখন রুশ ভল্লুক আর এসব চাঁদাবাজ কমান্ডারের মাঝে কী পার্থক্য?
বন্ধ কিতাব উমর আর খোলেননি। ১৫ তালেব নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। বাইক ভাড়া করে দাওয়াত প্রদান শুরু করেন। শরিয়াহর হালাকা, ক্লাসগুলোতে গিয়ে আহবান জানান। অনেকে সাড়া দেয়, অনেকে এড়িয়ে যায়। প্রথম অভিযান চালান আমর বিল মারুফ নাহি আনিল মুনকারের। নাহ, নির্বাচন করেন নাই, ভোট চান নাই হাত বাঁকা করে।
নিরাপত্তাহীন হাইওয়েতে ডাকাতি, লুন্ঠন আর মহিলাদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ ছিলো নিত্যদিনের ঘটনা। তেমনই এক বরযাত্রীদলকে লুন্ঠন করে মহিলাদের উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। মোল্লাদের দল অভিযানে নামেন, দুষ্টের দমন করেন। মহিলাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন, অনেকে অবশ্য আগেই শহিদ হয়েছেন।
আর পেছনে তাকাতে হয়নি। দিনে দিনে তুল্লাবদের আগমন বেড়েছে, শরিয়াহর বাস্তবায়ন দেখে আশপাশের এলাকা হতে অভিযানের আহবান করেছে সাধারণ মানুষ। একসময় কাবুলে গিয়ে তা চূড়ায় পৌঁছেছে।
হায় উমর!
এখন কথিত ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামের নিদর্শন সালাম না দেয়ার কারণে দাড়ি, টুপি, জুব্বাকে অপমান করে শ্রদ্ধেয় ইমামকে অপমান করে মূর্তিপূজারী!
তাও কিতাবগুলো খোলা!
হেকমতিয়ারের হেকমত আফগান থেকে ঝাড়ুপেটা খেয়ে বাংলায় এসে স্থান নিয়েছে। এখন বাংলার গুলবুদ্দীনদের হেকমতকে দৈনিক হাজারো অপমানেও টলানো যায় না।
বাংলার ওমরদের কিতাবগুলো বন্ধ হয় না।
এখানে এভাবে বলার কেউ নাই, এখন আমাদের বেঁচে থাকা হারাম হয়ে গেছে!
মোল্লা নিজামুদ্দিন