৯ম হিজরি || তাবুকযুদ্ধ, ইসলামি হজ,বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের 'আগমন এবং দলে দলে লোকজনের ইসলামগ্রহণ ||সিরাত

Description

তাবুকযুদ্ধ, ইসলামি হজ,বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের 'আগমন এবং দলে দলে লোকজনের ইসলামগ্রহণ ||সিরাত


৬. বনু আবদে কায়েসের প্রতিনিধিদল
এই গোত্রের সবাই খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। এরপর তাঁরা নবিজির খিদমতে এসে মুসলমান হন। তিনি এ সময় ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি তাঁদের শিক্ষা দেন।
৭. বনু হানিফের প্রতিনিধিদল
এই গোত্রের প্রতিনিধিদল নবিজির খিদমতে এসে মুসলমান হয়। তাদের মধ্যে মুসায়লিমাও ছিল। সে পরবর্তী সময়ে নবুওয়াতের মিথ্যা দাবির কারণে 'মুসায়লিমাতুল কাজ্জাব' নামে কুখ্যাতি লাভ করে। আবু বকর রা.-এর খিলাফতকালে তার সকল অনুসারীসহ সাহাবিদের হাতে নিহত হয়।
শিক্ষণীয়, মুসায়লিমা যখন নবুওয়াতের দাবি করে, তখন সে রাসুল, কুরআন ও ইসলামকে অস্বীকার করেনি।১০ এ প্রসঙ্গে হাদিস ও তাফসিরশাস্ত্রের প্রখ্যাত ইমাম শায়খ আবু জাফর তাবারি রাহ, তাঁর আত-তারিখ গ্রন্থে লেখেন, 'মুসায়লিমা তার মুআজ্জিনকে আজানের মধ্যে সবসময় 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ' বলার নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু শেষ নবি মুহাম্মাদ এ-এর পর যেহেতু কোনো প্রকার নবুওয়াতের দাবি করা অবৈধ; বরং সাধারণভাবে নবুওয়াতের দাবি করা কুরআনের অসংখ্য আয়াত, মুতাওয়াতির হাদিস এবং উম্মাহর ঐকমত্যে খতমে নবুওয়াতের সর্বসম্মত আকিদাকে অস্বীকার করা হয়, এ জন্য সাহাবিরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মুসায়লিমা যে শরিয়তহীন নবুওয়াতের দাবি করছে, তা কুফরি এবং দীন ছেড়ে মুরতাদ হওয়ার নামান্তর। ফলে তাঁরা সম্মিলিতভাবে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। আজান, নামাজ, তিলাওয়াত এসব কাজ বহাল রাখলেও তাকে কাফির-মুরতাদ বলা থেকে তাঁদের বাধা দিয়ে রাখতে পারেনি।
মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির দাবি মুসায়লিমাতুল কাজ্জাবের চেয়েও মারাত্মক। সে নিজেকে সকল নবি থেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে মনে করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং অনেক নবি সম্পর্কে এমন পীড়াদায়ক ও অপমানজনক মন্তব্য করেছে, যা কোনো সভ্য মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ করে সে ইসা আ. সম্পর্কে এমনসব অপবাদ আরোপ করেছে এবং নোংরা ভাষায় গালাগাল করেছে যে, কোনো মুসলমান তা শুনে ধৈর্য ধরে থাকতে পারে না।১৪

Playlists

Details

392 Views
তাবুকযুদ্ধ, ইসলামি হজ,বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের 'আগমন এবং দলে দলে লোকজনের ইসলামগ্রহণ ||সিরাত


৬. বনু আবদে কায়েসের প্রতিনিধিদল
এই গোত্রের সবাই খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। এরপর তাঁরা নবিজির খিদমতে এসে মুসলমান হন। তিনি এ সময় ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি তাঁদের শিক্ষা দেন।
৭. বনু হানিফের প্রতিনিধিদল
এই গোত্রের প্রতিনিধিদল নবিজির খিদমতে এসে মুসলমান হয়। তাদের মধ্যে মুসায়লিমাও ছিল। সে পরবর্তী সময়ে নবুওয়াতের মিথ্যা দাবির কারণে 'মুসায়লিমাতুল কাজ্জাব' নামে কুখ্যাতি লাভ করে। আবু বকর রা.-এর খিলাফতকালে তার সকল অনুসারীসহ সাহাবিদের হাতে নিহত হয়।
শিক্ষণীয়, মুসায়লিমা যখন নবুওয়াতের দাবি করে, তখন সে রাসুল, কুরআন ও ইসলামকে অস্বীকার করেনি।১০ এ প্রসঙ্গে হাদিস ও তাফসিরশাস্ত্রের প্রখ্যাত ইমাম শায়খ আবু জাফর তাবারি রাহ, তাঁর আত-তারিখ গ্রন্থে লেখেন, 'মুসায়লিমা তার মুআজ্জিনকে আজানের মধ্যে সবসময় 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ' বলার নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু শেষ নবি মুহাম্মাদ এ-এর পর যেহেতু কোনো প্রকার নবুওয়াতের দাবি করা অবৈধ; বরং সাধারণভাবে নবুওয়াতের দাবি করা কুরআনের অসংখ্য আয়াত, মুতাওয়াতির হাদিস এবং উম্মাহর ঐকমত্যে খতমে নবুওয়াতের সর্বসম্মত আকিদাকে অস্বীকার করা হয়, এ জন্য সাহাবিরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মুসায়লিমা যে শরিয়তহীন নবুওয়াতের দাবি করছে, তা কুফরি এবং দীন ছেড়ে মুরতাদ হওয়ার নামান্তর। ফলে তাঁরা সম্মিলিতভাবে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। আজান, নামাজ, তিলাওয়াত এসব কাজ বহাল রাখলেও তাকে কাফির-মুরতাদ বলা থেকে তাঁদের বাধা দিয়ে রাখতে পারেনি।
মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির দাবি মুসায়লিমাতুল কাজ্জাবের চেয়েও মারাত্মক। সে নিজেকে সকল নবি থেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে মনে করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং অনেক নবি সম্পর্কে এমন পীড়াদায়ক ও অপমানজনক মন্তব্য করেছে, যা কোনো সভ্য মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ করে সে ইসা আ. সম্পর্কে এমনসব অপবাদ আরোপ করেছে এবং নোংরা ভাষায় গালাগাল করেছে যে, কোনো মুসলমান তা শুনে ধৈর্য ধরে থাকতে পারে না।১৪

Playlists

Related Audio Books