দিল্লি-মানালি-লাদাখ-কাশ্মীর ভ্রমণ ||Kashmir budget tour Bangla By Road||Manali Ladakh Kashmir tour||

Playlist Audiobooks

Description

২৫ শে জুন, সকাল ৯ টা,বনগাঁ স্টেশনে বসে আছি ট্রেনে,বর্ডার ক্রস করেছি সকাল ৭.৪০ এ। টাকার রেট পেলাম ৭২ করে,যেটা অনলাইনে ৭১ করে। 

বর্ডারে ৫০০ দিয়ে সিরিয়াল ব্রেক করলাম,আসার সময় বাংলাদেশী পুলিশকে দিলাম আরও ১০০, সোজা ইন্ডিয়ান বর্ডার ক্রস করে ফেললাম,এবং অটোতে জনপ্রতি ৫০ রুপি করে বনগাঁ স্টেশন,সেখানে এসে নাস্তা করলাম, ১ লিটার জল ও চা সহ খরচ গেলো ৮০ রুপি এবং শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া ৪০ রুপি।ট্রেন ছেড়েছে ০৯.০৫ এ,দেখি শিয়ালদহ কখন পৌঁছাই, তাঁরপর টিকেট কাটার পালা....

শিয়ালদহ এসে পৌঁছালাম ১১ টার একটু পরে,এখন বাজছে ১৩:৪৬ নেতাজি এক্সপ্রেস এর টিকেট কাটলাম,ফেয়ারলি প্লেস থেকে,স্লিপার ক্লাস ১৮৫০ টাকা দুই জনের।আজ রাত ২১.৫৫ এর ট্রেন, এখন আছি হুগলি নদীর ধারে,অসংখ্য মানুষ স্নান করছে,আমার ও মন মানছে না,বনগাঁর ট্রেনে প্রচুর ভিড় ছিলো,এজন্য দুজনেই একটু ক্লান্ত,দেখি স্নানে নেমে যাব। 


রাত ২২.১৪ ট্রেনের ভেতর,ট্রেন একদম সঠিক সময়ে ছেড়েছে ২১.৫৫ মিনিটে,আগামি ২৪ ঘন্টা এখানেই ঘরবাড়ি, এয়ার এর টিকেট কেটেছি ইন্ডিগোর, ৭ জুলাই ১২.৩০ এর ডিরেক্ট ফ্লাইট ৬ হাজার রুপি করে।

রাতের খাবার এবং জল এবং ট্রেনের ভেতর খাবার এর জন্য খরচ করেছি ২৭৫ রুপি। তাছাড়া বাংলাদেশ থেকে বাকরখনি নিয়ে এসেছিলাম ৭০ টাকার। 

আরও দশদিন থাকতে হবে ভারতে,পাড়ি দিতে হবে বহুপথ,কালকে নামার পর যথাসম্ভব চেষ্টা থাকবে মানালির টিকেট কাটার এবং বাস ধরার! বিল্লাল আর আমার সিট পড়েছে ২ জায়গায়,S-6 এবং S-8, এখন একত্রে নানানভাবে ২-৩ জায়গার মানুষকে ম্যাচিং করে! 

একটা শঙ্কা বা আশঙ্কা থেকেই যাবে,টিটি আসছে কি জানি হয় এখন আবার।

আমার সিটে আছে টঙ্গীর একজন,সেখানে সিট কনফার্ম করা হয়নি,আমরা S-6 এ। ঘুমানোর দরকার আজকে,কালকে জানি আবার কি হয়,দেখা যাক। সময় ২২.৪৬। 


জুন ২৬,এখন সময় ১০.১৩ ট্রেনের ভেতর আছি,বানারস পার হয়েছি ঘন্টা খানেক আগে হয়তো,ট্রেন চলছে,সকালে ২ টা বাকরখনি আর ১০ টাকার চা দিয়ে সকালের নাস্তা সেরে ফেলেছি,জল কিনেছিলাম গতকাল ৫ লিটার৷ 

ট্রেনের সিটটা উপরে হওয়ায় অনেক কিছু দেখতে পারছি না,একটু নিচে নেমে চেষ্টা করি দেখি,কি বর্ণনা করা যায়৷ 


১৫:০৫ এখন আছি পাপোন স্টেশনে, বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে ঠান্ডা পরিবেশ, সুন্দর একটা আবহাওয়া, ট্রেন ছুটে চলছে...

সময় এখন ১৮:২৬ হাত্রাস জংশন পার হয়েছি,প্রচুর বানর দেখলাম জংশন এ,আরও ৩ ঘন্টার পথ দিল্লি,কলকাতা থেকে এখন পর্যন্ত চারপাশের দৃশ্য একইরকম লেগেছে,তবে কিছু জায়গায় দূরে পাহাড় ছিলো,ফাঁকা মাঠ,কতদূর পরপর গাছপালা থোকা-থোকায়,তবে এদিকের মাটি কিছুটা বেশি উর্ভর মনে হচ্ছে আগের তুলনায়,ঘাসের সবুজাভ রঙ এবং মাটির রং দেখে,কিন্তু আরেকটা ব্যাপার মনে হচ্ছে এইদিকে চাষাবাদের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় বাংলাদেশের তুলনায়,এবং বারবার মনে হচ্ছে এ পাশের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি উর্বর বাংলাদেশের মাটি! 


সময় ২২.৩৭,মানালির এসি ভলবো বাসে বসে আছি জনপ্রতি ১৪০০ করে নিলো ভাড়া,দিল্লি স্টেশনে নেমেছি ২১:৩৫ এ,তাঁরপর সেখান থেকে টোটোতে করে ১০০ কাশ্মীর গেট নামিয়েছে,সেখানেই আমাদের বোকা বানালো এবং থ্রেড করলো। প্রথম তাঁরা বলেছে ১৪০০ টাকা ২ জন,যেই ১৫০০ রুপি দিলাম তখন বলতেছে আরোও ১৩০০,পরে বলতেছি যে না,আমরা যাবো না,টাকা ফেরত দেন,লোকটা খুব খারাপ ব্যাবহার করতেছিলো,যে টাকা না দিলে চলে যা,এই ১৩০০ টাকা তোদের বাপ দিবো?বলতেসে টাকা দিবো না,তুই সামনে গিয়ে পুলিশে কমপ্লেইন কর। 


কি আর করা দুজনে ২৮০০ রুপি দিতেই বাধ্য হলাম।অরজিনাল টিকেটের প্রাইস ৯০০ করে পাশের সিটের মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম।

দিল্লির প্রথম অভিজ্ঞতাই জগন্য! দেখা যাক কপালে আর কি কি বাকি। বাস কতদূর এসে আবার সিট নিয়ে কি চেকিং করছে,এখনো ছাড়েনি,আমাদের সিট ছিলো একেবারে পেছনে,সেখানে এক ফেমিলিকে জোড়া করে দিয়ে এক সিট সামনে বসলাম,এখন আবার এসে বলে সামনে যেতে,তাঁরপর আমি বলতেসি যে আমাদের হার্ট ছোটো,এই রিস্ক নিতে চাচ্ছিনা,আমরা যাবো না।পাশের সিটে সুন্দরী দুজন মেয়ে বসছে,তাঁদের ও বলতেসে সামনে যেতে,তাঁরাও মানা করলো...বাস ছেড়েছে সময় এখন ২৩:৩৬। 


২৭ শে জুন বৃহস্পতিবার সময় ০৬:৩৩, এখন একটু বেশি উচু পাহাড় দিয়ে উঠছি,ঘন্টা দেড়েক আগে থেকে পাহাড়ে উঠা শুরু করেছি,শুরুর দিকে প্রচুর গাছপালা ঘেরা জঙ্গল এর মতো ছিলো,এখন ২য় টানেলের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করছি।

যখন সমতল থেকে উপর দিকে উঠা শুরু করেছি মাটিগুলোর সাথে ক্রমাগত  কেমন পাথরের অংশ বাড়া শুরু করেছে,হালকা সাদা-হলুদে মিশ্রিত এক মাটি যার ভেতর ছোটো-বড় পাথরের খন্ডে ঠাসা।কোনোটা গোলাকার,কোনোটা ছুচালো বা ধারালো কিংবা নানান জ্যামিতিক আকৃতির৷ খুব সুন্দর একটি নদীর সাথে কতক্ষণ পরপরই দেখা হচ্ছে।পাথরের বুক থেকেই কেমন সব ঘাস জন্মেছে আমাদের বাংলার কাঁশফুল গাছের মতন। দুই পাশেই পাহাড় তাঁর মধ্যে দিয়েই রাস্তা ধরে চলছে আমাদের বাস। কিছুক্ষণ পরপর ছোটো-বড় পাকা,কাঁচা ঘর চোখে পড়ছে।কিছু জায়গা কেটে সিড়ির মতন করে,জমি থেকে পাথর একপাশে সরিয়ে চাষযোগ্য বানানো হয়েছে। সবুজের প্রাকৃতিক সমারোহে পরিপূর্ণ, মানুষের লাগানো গাছ ব্যাতিরেকে  কোনো গাছই পরিচিত লাগছে না।আম,বড়ই,রেন্ট্রি কড়ই,কলা,বাঁশ,ইউক্যালিপটাস এসব ছাড়া একটি গাছও পরিচিত লাগছে না।মাত্রই একটা টার্নওভার নিলো বাস পুরোপুরি ৩৬০ ডিগ্রি এর মতন,সময় ০৬:৫৭,মাটির রঙের ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন খেয়াল করলাম,এদিকের মাটিগুলো কেমন লাল,বাদামি এবং খয়রি রঙে মিশ্রিত, অদ্ভুত এক রঙ! ৩য় টানেলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি সময় একদম ০৭:০০, এই রোড টায় যতদূর আসলাম,পাহাড় ধসের শঙ্কা বৃষ্টি হলে অনেক বেশি। হালকা একটু ঘুমানো দরকার,কখন জানি আবার ব্রেক নেয়,কে জানে! পাহাড়ের ঝিরির কথাতো একবার ও বললাম না,তাই বলে রাখলাম.. গাছে পাকা লিচু এবং আম দেখলাম। বট,আমলকি,ক্রিসমাস ট্রি, চোখে পড়লো একটা লাল জবা গাছে ফুলসহ।






#লাদাখ
#লাদাখভ্রমণ