┇𝐓𝐡𝐞 𝐂𝐥𝐚𝐬𝐡 𝐨𝐟 𝐂𝐢𝐯𝐢𝐥𝐢𝐳𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧𝐬 | সভ্যতার সংঘাত┇
'প্রকৃত শত্রু না থাকলে কখনো প্রকৃত বন্ধু থাকতে পারে না। ঘৃণার বিষয়কে ঘৃণা না করলে প্রকৃত 'উত্তম'কে ভালবাসা যায় না।'
বর্তমান বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের মাঝে এক আশংকাজনক বৈশিষ্ট্য দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। সেকুলার কারিকুলামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে তারা জীবন উপকরণের 'আধুনিকায়ন' ও জীবন দর্শনের 'পশ্চিমাকরণ' এর মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারছে না। পশ্চিমাদের ধনভাণ্ডার আর চাকচিক্যময় জীবন দেখে তারা ভেবে নিচ্ছে, পশ্চিমাদের উদারনীতি, গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্নকরণ সহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের ফলেই আজ তারা সমগ্র বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করেছে, নিজেদের দেশে 'সুশাসন' প্রতিষ্ঠা করেছে। চিন্তার রাজ্যে এই নব উদ্ভাবিত ধারণা ঢুকে যাওয়ায় ব্যক্তির 'ইসলামী বিশ্বাস' আর 'সফলতা'র মন্ত্রে সৃষ্টি হয় দ্বন্দ্ব। ফলাফল, কলেজ-ভার্সিটি এমনকি মাদ্রাসারও অনেক স্টুডেন্ট আজ আত্ম-পরিচয় সংকটে ভুগছে।
.
তরুণ প্রজন্মের এই আত্ম-পরিচয় হীনতায় ভোগার কারণ কি? এক দিকে নতুন প্রজন্ম আজ ইসলামকে ভাবছে ব্যাক ডেটেড, আর অন্যদিকে ওয়েস্টার্ন কালচারের সবকিছুকে লেটেস্ট ভেবে গ্রহণ করে নিচ্ছে চোখ বুজে। ফলে যাদের বুকে টেনে নেবার কথা, সেই পরম হিতাকাঙ্ক্ষী ভাইদের 'আধুনিকতার পথে প্রতিবন্ধকতা' ভেবে তাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যাদের কথা বলছি, তারা সকলেই কিন্তু নিজেদেরকে মুসলিম ভাবে, তবে ইসলামের অনেক বিষয়ই তাদের কাছে 'মধ্যযুগীয়' বলে মনে হয়। ইসলামের প্রতি বিশ্বাসে এই দ্বিবিভাজনের ফলে তারা মুসলিমদের মাঝে তৈরি করছে এক নতুন বিভাজন রেখা; যার ফলে ইসলামী সভ্যতায় সৃষ্টি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সংঘাত। অথচ এসকল তরুণ তরুণীরা জানে না, তারা এমন এক প্রতিযোগিতায় ইসলামী সভ্যতাকে ভিতর থেকে নিজেদের অজান্তেই দুর্বল করে দিচ্ছে, যে প্রতিযোগিতা সভ্যতার প্রতিযোগিতা। আর সে প্রতিযোগিতাকে পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীরা আদর করে বলেন,' সভ্যতার সংঘাত।'
.
পাশ্চাত্য সভ্যতা আজ দাঁড়িয়ে আছে খাদের কিনারায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর দিগ্বিজয়ী পশ্চিমারা চূড়ান্ত উৎকর্ষের যুগ পেরিয়ে আজ তাদের সভ্যতার বার্ধক্যের অন্তিম সময়ে এসে পৌঁছেছে। অবশ্যম্ভাবী পতনের মুখে দাঁড়িয়ে আজ তাদের সামনে দুটি অপশন রয়েছে,
১. স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে নিজেদের সভ্যতার ধ্বংস অবলোকন
২. সভ্যতার নবায়ন ও পুনর্জাগরণ
.
বইটি কেন পড়বেন?
► ইসলামের সাথে পশ্চিমা সভ্যতার সম্পর্কের স্বরুপ অনুধাবন করতে
► পশ্চিমা সভ্যতার প্রকৃত রূপ চিহ্নিত করতে
► পশ্চিমা সভ্যতার উত্থানের প্রকৃত কারণ অনুধাবন করতে
► পশ্চিমা মূল্যবোধগুলো 'সার্বজনীন'- এই দাবির অসাড়তা অনুধাবন করতে।
► ঘুমিয়ে থাকা নিজের বিবেককে জাগাতে
► অবশ্যম্ভাবী এক সংঘাতে পক্ষ-বিপক্ষ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তে উপনীত হতে
► সর্বোপরি 'আমি কে', এবং 'আমি কে নই'- এই দুটি প্রশ্নের উত্তর জানতে।
Disclaimer: বইটিতে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে অনেক বিকৃত তথ্য দেয়া আছে, সেসব তথ্য কোন মতেই গ্রহণ করা যাবে না। শুধুমাত্র ইসলামের প্রতি পশ্চিমাদের এপ্রোচ সম্পর্কে ধারণা অর্জন এবং পশ্চিমা সভ্যতা সম্পর্কে ধারণা পেতেই বইটি পড়তে পারেন।
Tags:
দ্য ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন অ্যান্ড দ্য রিমেকিং অব ওয়ার্ল্ড অর্ডার
স্যামুয়েল পি. হ্যান্টিংটন
অডিওবই