রাশেদ নামে একটি ছেলে বুয়েট থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে বিসিএস পরীক্ষা দিতে চায়। রাশেদের মূলত ইচ্ছা ছিলো-GRE পরীক্ষা দিয়ে আমেরিকা যাবে। এমন সময়ে তার সাক্ষাৎ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তুখোড় ছাত্র সোহানের সাথে। সোহান ইতিহাসে মহাপন্ডিত। বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় যে ৩০০ নাম্বার সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে আসে(বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক),এগুলো সোহানের জন্য একদম সহজ। তার সমস্যা হচ্ছে -অংক এবং বিজ্ঞান। আবার-রাশেদ সাধারণ জ্ঞানে খুব দুর্বল। তাই,এ দু মেধাবীর মাঝে একটা অলিখিত বোঝাপড়া হয় যে-রাশেদ সোহানকে অংক আর বিজ্ঞান পড়াবে,আর সোহান রাশেদকে সাধারণ জ্ঞানে পন্ডিত বানিয়ে ছাড়বে।
যেহেতু দুজনই মেধাবী-তারা সিদ্ধান্ত নিলো কোনো কোচিংয়ে তারা যাবে না। নিজেরাই বইপত্র কিনে মৌলিক জ্ঞানের চর্চা করবে। কোনো সহজ টেকনিক অবলম্বন করে তারা বিসিএস ক্যাডার হতে চায় না।
ইতিহাস,আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ভৌগোলিক জ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়ে উস্তাদ সোহান রাশেদকে বিসিএস পরীক্ষায় ভালো করার পাশাপাশি উপরের বিষয়গুলো সম্পর্কে সহজ ও জ্ঞানগর্ভ ধারণা দিতে শুরু করে।)
তাদের আলোচনার শুরুটা এরকম:-
সোহান:- দেখো রাশেদ,তোমাকে পুরো বিশ্বটা সম্পর্কে একটা ধারণা আমি দিব গল্পের আলোকে। যদিও বিসিএস পরীক্ষার জন্য এত বেশি জানার দরকার নাই। তবে,মনে রেখো জ্ঞানীরাই সফলকাম হয় বিসিএসে। টেকনিক অবলম্বনকারীরা বিপদে পড়ে।
যাই হোক-আটলান্টিক মহাসাগরের ওই পারের দুই মহাদেশ উত্তর আমেরিকা আর দক্ষিণ আমেরিকা সম্পর্কে আলোচনা দিয়েই তোমাকে আমার বিশ্ব চেনানো শুরু ।
রাশেদ-তুমি কি বিসিএস পরীক্ষায় কখনো উরুগুয়ের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আলোচনা কর-এমন প্রশ্ন পেয়েছ?
রাশেদ বললো,সেটা আমি কি করে জানবো? আমি তো প্রশ্ন দেখিনি। আর রিটেনে কি আসবে সেটা আমি প্রিলি পাশ করার আগেই কেন পড়বো?
সোহান উত্তর দিলো:- এটা একটা ভুল ধারণা। তুমি যদি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য সংকল্পবদ্ধ থাকো,প্রিলি এবং রিটেনে আলাদা করে প্রস্তুুতি নেওয়ার কিছু নেই। প্রথম থেকেই রিটেন এবং প্রিলিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তুমি বিসিএস প্রিলির প্রশ্নব্যাংক যেমন কিনেছ,ঠিক তেমনি বিসিএস রিটেনের প্রশ্নব্যাংক কিনে ফেলতে হবে।
যেটা বলছিলাম-তুমি যদি বিসিএস পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভালো করতে চাও-তাহলে সব দেশের খুঁটিনাটি পড়ার দরকার নাই। যেমন-আটলান্টিকের ওই পারে যদিও দুটি মহাদেশ আছে,তাকে আমরা তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করতে পারি।
রাশেদ বললো:- যেমন
সোহান উত্তর দিলো:-বিশাল কানাডা- আমেরিকা আর মেক্সিকোকে আমরা এক ক্যাটাগরিতে রাখতে পারি। এই তিনটা দেশ উত্তর আমেরিকার অন্তর্গত।
রাশেদ বললো:- সোহান,এ তিনটা দেশ যদি উত্তর আমেরিকার একই বলয়ে পড়ে,তাহলে কানাডা-আমেরিকার ভাষা যদি ইংরেজি হয়,তাহলে মেক্সিকোর ভাষা স্প্যানিশ কেন?
সোহান উত্তর দিলো:- রাশেদ,তোমার প্রশ্ন ঠিক আছে। তবে আরেকটা সংশোধন করতে হবে। কানাডাতে কিন্তুু ফরাসী ভাষা বহুল প্রচলিত। আমেরিকা ছিলো বৃটিশের উপনিবেশ,তাই তার ভাষা ইংরেজি। কানাডার কুইবেক প্রদেশ সহ আশপাশ অঞ্চল একসময় শাসন করেছে ফ্রান্স। তাই,ফরাসী ভাষা কানাডাতে আছে। তুমি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় পাবে-কানাডার কোন প্রদেশে ফরাসী ভাষা বহুল প্রচলিত? উত্তর হবে-কুইবেক। কিন্তুু মেক্সিকো শাসন করেছে স্পেন। তাই এর রাষ্ট্রভাষা স্প্যানিশ।
রাশেদের এবার পাল্টা প্রশ্ন:- আমাদের দেশও তো শাসন করেছে বৃটিশরা। কিন্তুু আমাদের মাতৃভাষা তো তাদের শাসনের কারণে ইংরেজি হয়ে যায় নি। যদিও ইংরেজি প্রচলিত
সোহান বললো-সেটা বড় বেদনার ইতিহাস। আমাদের দেশে বৃটিশরা শাসন করলেও তারা স্থানীয় লোকজন,সংস্কৃতিকে একেবারে ধ্বংস করে দেয় নি। ক্ষেত্রবিশেষে লালনও করেছে। কিন্তুু পুরো আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যেমন-স্পেন,পর্তুগাল,বৃটিশ,ফ্রান্স-এরা স্থানীয় লোকজনকে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। তাদেরও নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার ছিলো। কিন্তুু ইউরোপীয়রা তাদের সমূলে বিনাশ করেছে। তাই,পুরো আমেরিকা মহাদেশের প্রত্যেকটা দেশের রাষ্ট্রভাষা দেখবে-ইংরেজি,ফরাসি,স্পেনীশ এবং পর্তুগীজ-এগুলোর যেকোন একটি।
যা হোক,সবে তো শুরু-পৃথিবীর ইতিহাসের সমস্ত আলোচনাই করবো তোমার সাথে।
সোহান আরও বললো-তোমাকে আমি বলবো-আমেরিকার ঘৃন্য দাস ব্যবসা ও তার নির্মুল প্রক্রিয়া। মধ্য আমেরিকার ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ বলতে কোন এলাকাকে বোঝায়। তোমাকে বব মার্লে
র সংগীতের পাঠ শেখাবো। ক্যারিবয়ান অঞ্চলের লোকজন কালো কেন-তাদের বংশধর কারা-এগুলো আলোচনা করবো। কিভাবে সাইমন বলিভার নামে একটা লোক ৪টি দেশের জনক হয়? তুমি আরও জানবে-বিশ্বে সুন্দরীদের সবচেয়ে বেশী আনাগোনা যে দেশটিতে তার নাম ভেনেজুয়েলা। চিলির বামপন্থী শাসক সালভেদর আলেন্দেকে কী র্নৃশংস উপায়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ক্ষমতাচ্যুত করে নরপিশাচ পিনাশোকে বসায় ক্ষমতায়। কলম্বয়িান সাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের অন্ধকারের একশ বছর উপন্যাসের অলিগলি থেকেও ঘুরে আসবো আমরা। একালের ক্রেজ ব্রাজিলিয়ান পাওলো কোয়েলহো তো আছেনই। ব্রাজিলের লোকজন কেন কালো,আর আর্জেন্টাইন্ রা কেন ফর্সা-এটাও আমাদের আলোচনার বাইরে থাকবেনা।
উত্তর আমেরিকা,মধ্য আমেরিকা আর ল্যাটিন আমেরিকার বহু কিচ্ছা শোনাবো কাল থেকে। হয়তো,বিসিএস পরীক্ষায় জন্য এগোলো দরকার নাও হতে পারে,কিন্তুু ওই অঞ্চলটা সম্পর্কে
তুমি জেনে গেলে সব তথ্য হেসে খেলে। আজ এ পর্যন্তুই।
রাশেদ বললো :- তথাস্থ
//
সৌজন্য: আমিনুল ইসলাম