Playlist Audiobooks
Description
ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামীলীগঃ বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সূচনা পর্ব! ৮ম পর্ব
লেখক : আহমেদ মূসা
৭ই মার্চ ১৯৭৩, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এক পাতানো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন সর্ম্পকে দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক গণকন্ঠের প্রতিবেদনে সন্ত্রাস, গুন্ডামি, নির্যাতন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, পোলিং এজেন্ট প্রহৃত, খুন প্রভৃতির খবর ছাপা হয়। ৮ই মার্চের দৈনিক সংবাদের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত কয়েকটি খবরের শিরোনাম ছিল : ‘সিলেট-১ কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই’, ‘পটুয়াখালীতে ব্যালট পেপার ছিনতাই’, ‘চট্টগ্রামে ৩১টি ব্যালট পেপারসহ ২ব্যক্তি গ্রেফতার’, ‘ধামরাইতে রক্ষীবাহিনীর সন্ত্রাস’, ‘ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে বিচিত্র ঘটনা ঘটেছে’, ‘নির্বাচন দারুন অবাধ হয়েছে,’ ‘একজন একাধিকবার অবাধে ভোট দিতে পেরেছে’, ‘জাসদের দু’জন কর্মী হাইজ্যাক’, ‘ঢাকার একটি কেন্দ্রে সন্ত্রাস ও গুলি’, ‘পটিয়ায় ভোট সন্ত্রাসী-মাস্তানরাই দিয়েছে’, ‘কুমিল্লা শহরে ব্যাপক সন্ত্রাস’, ‘নির্বাচন প্রহসনে পরিণত’, ‘কালিগঞ্জে সন্ত্রাস’, ‘রাজশাহী ভোট কেন্দ্রে সন্ত্রাস’, ‘ভোট নাট্যের দু’টি দৃশ্য’ প্রভৃতি।
৯ই মার্চ ন্যাপের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ ভট্টাচার্য্য এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “কমপক্ষে ৭০টি আসনে ন্যাপ ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সুনিশ্চিত বিজয়কে শাসকদল ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, ভুয়া ভোট, পোলিং বুথ দখল, পোলিং এজেন্ট অপহরণ, বিদেশী সাহায্য সংস্থা, জাতিসংঘ, সরকারি গাড়ি ও রেডক্রসের গাড়ির অপব্যবহার প্রভৃতি চরম অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের মাধ্যমে উক্ত নির্বাচন ক্ষেত্রসমূহে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে এবং বিরোধী দলের প্রার্থীদের জোর পূর্বক পরাজিত করেছে।”
৯ই মার্চ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাসদ সভাপতি মেজর (অবঃ) জলিল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব যেভাবে নির্বাচনের সময় প্রচলিত কোন ন্যায়নীতির তোয়াক্কা না করে সমস্ত গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন এতে আমি তাকে জাতির পিতা বলতে ঘৃনাবোধ করি।”
মুজিবের শাসন আমলে ২৫ হাজার বিরোধী মতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যার যে অভিযোগ রয়েছে সে সম্পর্কে সচ্ছ কিছুটা ধারনা পাবেন এই বইয়ে৷