মতিয়র রহমান রেন্টু একজন মুক্তিযোদ্ধা। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁরা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে পাকিস্তান বাহিনীকে পরাজিত করে আমাদের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মদাতা স্রষ্টা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্ত। ন মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি একজন।
সম্ভবত তিনিই একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা যাঁর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারত প্রবাসী সরকারের সনদ রয়েছে।
এই সনদ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে সংর ক্ষিত ও প্রদর্শিত আছে।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ওরিত সরকার-এর কাছ থেকে সংগ্রহ করা মুক্তিযোদ্ধা তালিকার ১নং ভলিউম এর ৪৬২ নং নামটি মতিয়র রহমান রেন্টুর। এই তালিকা ঢাকা ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত ০৪২৭৬ নং মুক্তিযোদ্ধা "আমার ফাঁসি চাই"
গ্রন্থের লেখক মতিয়ুর রহমান রেন্টুর।
৭১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সনদ-এ মতিয়র রহমান রেন্টুকে সার্বিক সহযোগিতা ও তাঁর নিরাপত্তা বিধান করতে বলা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ, লজ্জা ও ঘৃণার বিষয় মুক্তিযোদ্ধা মতিয়র রহমান রেন্টুর নিরাপত্তা বিধানের পরিবর্তে, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা মতিযুর রহমান রেন্টুকে "আমার ফাঁসি চাই" নামক বই লেখার কারণে বিনা বিচারে হত্যা করার পরিকল্পনা ও চেষ্টা করেছিলেন।
পরিকল্পনা মাফিক থানা পুলিশ, এসবি এবং এনএসআই-এর সহযোগিতায় ২০শে জুন ২০০০ সাল বিকেল তিনটায় তাঁর বাসার সম্মুখে তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক নিয়োজিত ভাড়াটিয়া ঘাতকরা মুক্তিযোদ্ধা মতিয়র রহমান রেন্টুকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করলে তাঁর দেহে চারটি গুলি বিদ্ধ হয়। দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহ পাকের কৃপায় দেহে চারটি বুলেট বিদ্ধ অবস্থায়
মুক্তিযোদ্ধা মতিযুর রহমান রেন্টু প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পালিয়ে
জীবন বাঁচানো। এবং বিভীষিকাময় পলাতক জীবনের লোমহর্ষক বিশেষ বিশেষ বাস্তব কাহিনীর অবিশ্বাস্য শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনাসমূহ নিয়েই মূলত রচিত হয়েছে "অন্তরালের হত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী" গ্রন্থটি। আমরা আশা করছি, আপাত দৃষ্টিতে একজন মানুষের পক্ষে যা অসম্ভব, তাও যে সম্ভব এবং কিছু আইন আদালতের বিষয় "অন্তরালের হত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী" গ্রন্থটি পড়লে জানা যাবে।
জানামতে "আমার ফাঁসি চাই" বইটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে নয় (৯) ধরনের নকল হয়েছে। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, জার্মানীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই বইটি নকল হয়েছে।
"আমার ফাঁসি চাই" গ্রন্থটি এবং তাঁর লেখক মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টু আসল গ্রন্থের মাধ্যমে পাঠকের কাছে তেমন পরিচিত নয়।
মূলত নকল বই দ্বারাই এই গ্রন্থ ও লেখক পাঠক সমাজে পরিচিত। পাঠককূল নকলের মাঝেই আসল খুঁজতেন। অনেক রকমের নকলের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন নিজস্ব বিবেচনায়, একেক জন, একেক রকম নকল বইকেই আসল হিসেবে সনাক্ত
করতেন।
যে যেটাকেই আসল বলে সনাক্ত করুক না কেন, আসলে সবই নকল। এই নকলকৃত বইগুলোর সাথে আসল বইয়ের খুব বেশী পার্থক্য না থাকলেও কোন নকল বই-ই আসল বইয়ের মত পূর্ণাঙ্গ রূপে ছিল না।
সব ধরনের নকল বই-ই অসম্পূর্ণ এবং এতে কিছু কিছু শব্দ ও বাক্যের পরিবর্তন রয়েছে। "আমার ফাঁসি চাই" বইয়ের লেখক এবং প্রকাশকের নকলকারীদের প্রতি
কোন অভিযোগ তো নেই-ই, বরং নকলকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞ, এই কারণে যে, এই নকল বইয়ের দ্বারাই "আমার ফাঁসি চাই" গ্রন্থটি এবং লেখক হিসেবে মতিয়ুর রহমান রেন্টু বিশাল পরিচিতি, আলোচিত-সমালোচিত, নিন্দিত-অভিনন্দিত, প্রিয়-
অপ্রিয়, সম্মানিত-অসম্মানিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশাসন আমলে নকলকারীর দল যদি এই গ্রন্থটি নকল করে ছড়িয়ে না দিতেন, তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায় "আমার ফাঁসি চাই"
নামক এই গ্রন্থটি জনতার দৃষ্টির আড়ালেই পড়ে থাকতো। নকল করা অপরাধ এবং নিন্দনীয় না হইলে, নিঃসঙ্কোচে নকলকারীগণ ধন্যবাদ। পাইবার অধিকারী হইতেন।