Playlist Audiobooks
Description
স্বপ্নের সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক
ভুলের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অন্তর্নিহিত অর্থ বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের গবেষকদের নজর এড়িয়ে গেছে। তাহলে আসুন, আমরা বরং প্রাচীনদের মতো কিংবা সাধারণ সরল ব্যক্তিদের মতোই প্রাচীন স্বপ্ন- ব্যাখ্যাকারদের রাস্তায় হাঁটি।
প্রথমে আসুন আমরা খোদ স্বপ্নের এলাকাটি-ই পরিদর্শন করি। ঠিক কাকে স্বপ্ন বলে? এককথায় তা বলা শক্ত। তা সত্ত্বেও আমাদের একটি সংজ্ঞা খাঁজে বের করার দরকার নেই। যা আমাদের প্রয়োজন তা হলো এমন একটি বিষয়ের উল্লেখ করা যা সকলেরই চেনা। তবু স্বপ্নের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আমাদের বেছে নিতে হবে। কীভাবে আমরা এদের আবিষ্কার করব? আমরা যে- এলাকায় যাবো তার সীমান্তগুলিতেই রয়েছে পার্থক্যের বিপুল সমারোহ। যেদিকে তাকান দেখবেন কারও সঙ্গে কারও মিল নেই। সমস্ত স্বপ্নের ভেতরই আমরা যাকে সাধারণভাবে সর্বত্র খুঁজে পাবো, সেটিই তাহলে হবে স্বপ্নের মূল ব্যাপার।
এবার আমরা দেখব সমস্ত স্বপ্নের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, স্বপ্ন দেখার সময় আমরা ঘুমিয়ে থাকি! এটা তাহলে দেখাই যাচ্ছে যে ঘুমের অভ্যন্তরীণ মানসিক জীবন হচ্ছে স্বপ্ন, যার জাগ্রত জীবনের সঙ্গে যেমন কিছু মিল আছে, তেমনই পার্থক্য আছে প্রচুর। এটাই হচ্ছে অ্যারিস্টটল-প্রদত্ত স্বপ্নের সংজ্ঞা। হয়তো স্বপ্ন আর ঘুমের সম্পর্ক আরেকটু বেশি কাছাকাছি। স্বপ্ন আমাদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতে পারে; স্বপ্ন দেখে আমরা স্বাভাবিকভাবে জেগে উঠতে পারি আবার স্বপ্ন আমাদের জোর করে জাগিয়ে দিতে পারে। স্বপ্ন, তাহলে মনে হয়, ঘুম আর জাগরণের এক অন্তর্বর্তী অবস্থা! কাজেই আমাদের এবার নজর ফেরাতে হবে ঘুমের দিকে! ঘুম কাকে বলে?
এটা এমন একটা শারীরবিদ্যাগত বা জীববিজ্ঞানগত সমস্যা যার অধিকাংশ বিষয় সম্পর্কে মতবিরোধ আছে। আমরা আমাদের প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর দিতে পারবো না, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা ঘুমের একটি মনোবৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যের সংজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করতে পারি। ঘুম হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যখন বহির্জগতের সঙ্গে আমি কোনো যোগ রাখতে চাই না, যখন বহির্জগৎ সম্পর্কে আমার সমস্ত আগ্রহ প্রত্যাহার করেছি। আমি বহির্জগৎ থেকে সরে এসে ঘুমোতে যাই ও বহির্জগতের সমস্ত উদ্দীপনাকেই দূরে সরিয়ে রাখি। আবার আমি যখন বহির্জগতের নানান ঝামেলায় ক্লান্ত, তখন ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমোতে যাওয়ার আগে আমি জগৎকে বলি, 'দয়া ক'রে আমায় শান্তিতে ঘুমোতে দাও।' বাচ্চারা ঠিক এর উল্টোটা বলে 'না, না এখন আমি ঘুমোবো না, মোটেই ক্লান্ত লাগছে না, এখনো অনেক কিছু ঘটা বাকি।'
কাজেই দেখা যাচ্ছে ঘুমের দৈহিক লক্ষ্য বা জীববিজ্ঞানগত তাৎপর্য হচ্ছে দৈহিক ক্ষয় বা শ্রান্তির অপনোদন, মনোবৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বহির্জগৎ সম্পর্কে আগ্রহ স্থগিত রাখা। বাইরের জগতের সঙ্গে যে-সম্পর্কের মধ্যে আমরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রবেশ করেছিলাম, তা কিছুটা সহনীয় হতে পারে যদি তার মধ্যে বিরতি বা বিশ্রামের অবকাশ থাকে, তাই ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ববর্তী অবস্থায় যেন আমরা কিছু সময় অন্তর-অন্তর ফিরে যেতে চাই, অর্থাৎ মাতৃগর্ভে' ফিরে যেতে চাই, অনেকটা সেই একই অবস্থার ভিতর, সেই একই উষ্ণতায়, অন্ধকারে, উদ্দীপনাহীন অবস্থায়, যা কিনা ভ্রূণাবস্থার বৈশিষ্ট্য। কেউ কেউ ঠিক গর্ভস্থ ভ্রুণের মতোই দু'হাত-পা মুড়ে বলের মতো শরীর গুটিয়ে বসে থাকেন। মনে হয় যেন আমরা প্রাপ্তবয়স্করা বহির্জগৎকে পুরোপুরি মেনে নিতে পারিনি, যেন আমাদের অস্তিত্বের এক তৃতীয়াংশ এখনো পৃথিবীতে জন্মগ্রহণই করেনি। প্রত্যেকদিন ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে যেন আমাদের মনে হয়, এখনই জন্মালাম। অনেকসময় আমরা ঘুম থেকে ওঠার অনুভূতি বর্ণনা করার জন্য বলেই ফেলি 'আ! ঠিক মনে হচ্ছে যেন নবজন্ম হলো'-আর সম্ভবত ঠিক এখানেই আমরা একটা ভুল করি, আমাদের মনে রাখা ভালো, নবজাত শিশু জন্মের পরই ভয়ানক অস্বস্তি বোধ করে। আবার 'জন্ম' সম্পর্কেও অনেক সময়ই আমরা বলি, 'দিনের আলো দেখা।'
এই যদি ঘুমের স্বভাব হয়, তাহলে তার স্বাভাবিক কর্মসূচির মধ্যে স্বপ্নের। কোনো ভূমিকাই নেই, বরং তাকে এক সম্পূর্ণ অবাঞ্ছিত সংযোজন বলা যেতে পারে, আর সত্যি কথা বলতে কী আমরা এটা বিশ্বাসই করি যে স্বপ্নহীন ঘুম....
#সিগমুন্ড_ফ্রয়েড
#মনোবিজ্ঞান
#স্বপ্নের_ব্যাখ্যা
#স্বপ্ন
#স্বপ্ন_দেখার_কারন
#মনঃসমীক্ষণ
#স্বপ্নের_সাথে_ঘুমের_সম্পর্ক