Playlist Audiobooks
Description
বয়ঃসন্ধির পরিবর্তন যেকোন বয়সে শুরু হতে পারে: পাঁচ ছ' বছর থেকে,
উনিশ বছর বয়সের যে কোন সময় বয়ঃপ্রাপ্তির পরিবর্তন শুরু হতে পারে। অবশ্য বর্তমানে আমেরিকার মেয়েরা গড়ে তের বছর বয়সে এবং ছেলেরা গড়ে তার এক বছর পরে যৌন-পরিপক্কতা অর্জন করে। তবে এই পরিপক্কতা সবার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন হয় না। মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তন শেষ হতে দু' থেকে চার বছর সময়ের প্রয়োজন হয় কিন্তু ছেলেদের এর চেয়ে সামান্য বেশী সময় লাগে।
বয়ঃপ্রাপ্তিসূচক পরিবর্তন শুরু ও সম্পূর্ণ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচী না থাকার কারণে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং সময় সংক্ষিপ্ত হলেও নতুন ধরনের পরিবর্তন সবার মধ্যে একই সময় অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে বয়ঃসন্ধিকে বোঝা খুব কঠিন।
একজন ছেলে অথবা মেয়ের বয়ঃপ্রাপ্তি (যৌন-পরিবর্তন) শুরু হয়েছে কিনা এবং বয়ঃসন্ধির কোন পর্যায়ে তারা অবস্থান করছে তা কয়েকটি শারীরিক প্রক্রিয়ায় পরখ করে নির্ধারণ করা যায়। যেমন মেয়েদের ঋতুস্রাব (menarchre), ছেলেদের রাত্রিকালীন শুক্র-নিঃসরণ (nocturnal emission), মূত্রে এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি ও অস্থির বিকাশ ইত্যাদি।
মেয়েদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব শুরু হলেই যৌন-পরিবর্তন শুরু হয়েছে মনে করা হয়। কিন্তু ঋতুস্রাব বয়ঃসন্ধিকালীন সব ধরনের শারীরিক পরিবর্তনের সূচনা অথবা পরিসমাপ্তি নির্দেশ করে না। ঋতুস্রাব শুরু হলে যৌন-অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং যৌন-পরিবর্তনগুলোর বিকাশ শুরু হয় তবে সেগুলোর পরিপূর্ণ বিকাশ সম্পন্ন হয় না। সঠিকভাবে ঋতুস্রাবকে বয়ঃসন্ধিকালীন পরিপক্কতা অর্জনের মধ্যবর্তী পর্যায় বলা যায়।
রাত্রিবেলা স্বপ্নদোষ অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে লিংগ থেকে শুক্র নির্গত (nocturnal emission) হওয়াকে ছেলেদের যৌন-পক্কতার নির্দেশক,
হিসাবে গণ্য করা হয়। ঘুমের মধ্যে অনেক সময় লিঙ্গ উদ্দীপিত হয়ে শুক্র নির্গত হয়। পুরুষদের লিংগে সঞ্চিত অতিরিক্ত যৌন রস এভাবে নিঃসৃত হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অবশ্য সব ছেলের মধ্যে যে এটা ঘটে তা নয় এবং বিষয়টি অনেকের কাছে অজ্ঞাত থেকে যেতে পারে। আরো দেখা যায় যে বয়ঃসন্ধির পরিবর্তন কিছু সময় চলার পর ঋতুস্রাব ও স্বপ্নদোষ শুরু হয় বলে এ প্রক্রিয়াগুলোকে বয়ঃপ্রাপ্তির যথার্থ নির্ণায়ক হিসাবে ব্যবহার করা যায় না।
কিশোরদের প্রতুষের প্রস্রাবের রাসায়নিক বিশ্লেষণ যৌন-পরিপক্কতা নির্ধারণের একটি কার্যকর পদ্ধতি। একইভাবে মেয়েদের প্রস্রাবে গোনাডোট্রপিক গ্রন্তিরসের (এস্ট্রোজেন) উপস্থিতি রাসায়নিক বিশ্লেষণের সাহায্যে নির্ধারণ করে যৌন-পরিপক্কতার মাত্রা নির্ণয় করা হয়। কিন্তু প্রত্যুষের মূত্রের নমুনা (sample) সহজ লভ্য না হওয়ায় এ পদ্ধতির ব্যবহার খুব সীমিত।
দেহের বিভিন্ন অংশের বিশেষত হাত এবং হাঁটু এক্স-রে করে অস্থির আকৃতি লক্ষ্য করলে ছেলেমেয়েদের শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে কিনা এবং কী হারে পরিবর্তন সংগঠিত হচ্ছে তা বোঝা যায়। মূত্রের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করতে গেলে যে যে অসুবিধার সৃষ্টি হয় অস্থি এক্সরে করার পদ্ধতিতেও সে রকম অসুবিধা থাকায় এর ব্যবহার অনেক সময় সম্ভবপর না হলেও যৌন-পরিপক্কতা নির্ণয়ের জন্য এখন পর্যন্ত এটি একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে চলে আসছে ১৬.১৯।
বয়ঃপ্রাপ্তির কারণসমূহ বর্তমান শতাব্দি শুরুর আগে পর্যন্ত সঠিকভাবে জানা যায় নি। অন্তঃক্ষরা-গ্রন্থি সম্বন্ধে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা শুরু হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পরিবর্তনের কারণগুলো আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে। তবুও এখন পর্যন্ত কেন সব ছেলেমেয়ের যৌন-পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট বয়সে শুরু হয় না অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বিশেষজ্ঞরা তার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেন নি। ছেলেমেয়ে যৌন-পরিপক্কতা অর্জন করার প্রায় পাঁচ বছর আগে যে সামান্য পরিমাণে যৌন-গ্রন্থি-রস নিঃসৃত হয় তা এখন সর্বজনবিদিত। সময় অতিক্রমের সাথে সাথে গ্রন্থিরস-নিঃসরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পরিণতি স্বরূপ যৌন-অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন এবং কর্মদক্ষতার উন্নতি সাধন হয়।
মস্তিষ্কের তলদেশে অবস্থিত পিটুইটারী-গ্রন্থি এবং যৌন-গ্রন্থির (gonads) কর্মকাণ্ডের মধ্যে যে একটি সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হয় সে সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞরা একমত। ছেলেদের যৌন-গ্রন্থির নাম অণ্ডাশয় (testes) এবং মেয়েদের.....
#বয়ঃসন্ধিকাল
#বিকাশমনোবিজ্ঞান