আচ্ছা, দ্বীন ও শরিয়াহর ব্যাপারে উদার হওয়া কি খুব কঠিন কোন ব্যাপার? মানে ধরুন, শরিয়াহর নির্দেশ হলো গান বাদ্য হারাম। আপনি উদারতা দেখিয়ে বললেন ,না হারাম হবে কেন, গান বাজনা খুবই চমৎকার একটা ব্যাপার, এটা মানবীয় ফিতরাতের চাহিদা, এর সমর্থনে কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা, কোন রাজা বাদশা গান শুনছে, কোন স্কলার কিতাব লেখছে ইত্যাদি ইত্যাদি প্রমাণ হিসেবে নিয়ে আসলেন। তো, এতটুক কাজ কিন্তু খুব কঠিন কিছু না। গান শুনতে কার না মনচায়? যেসব মোল্লা মৌলভীরা গান বাজনার ব্যাপারে কঠোরতা করেন তাদের মনও কি চায়না একটু বাঁশি কিংবা সেতারের সুরে বিভোর হয়ে থাকতে? তারা কেন সহজ ও আনন্দময় রাস্তা বাদ দিয়ে কঠোরতার পথে হাঁটলেন? উদার হতে সমস্যা কোথায়? ইসলামতো "উদারতার" শিক্ষা দেয়!
কিংবা ধরুন, সমস্ত ফুকাহায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, যুবতী নারীদের চেহারা খুলে রাখার দ্বারা যদি ফিতনার আশঙ্কা থাকে তাহলে তার জন্য চেহারা ঢেকে রাখা ওয়াজিব। কিন্তু আপনিতো একজন উদার আলেম, আপনার জন্য এই কঠোরতা শোভা পায়না। আপনি বলবেন, মন চাইলে খোলা রাখবে, মন চাইলে ঢেকে রাখবে।আপনার পক্ষে "দলীল"ও আছে অনেক। আর সবচে বড় দলীলতো আছেই, ইসলাম সহজ ও উদারতার শিক্ষা দেয়।
কথা অবশ্যই সত্য। দ্বীন আমাদেরকে উদারতা ও সহনশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়। এবং দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা ও কঠোরতা আরোপ করা কোনভাবেই কাম্য না। কিন্তু এই উদারতার সীমা পরিসীমা কে ঠিক করে দেবে, আপনি ? নাকি শরিয়ত নিজে?
সুতরাং উদারতা বাপারটা প্রশ্নহীন কোন বিষয় না। দেখা দরকার তার উদারতার মাপকাঠি শরিয়ত নাকি নফসের চাহিদা।
আজকাল উদার ও সহনশীল আলেমদের জয়জয়কার চারদিকে।যে যত উদার সে ততবড় আলেম। তার বয়ান ও লেখা ততটাই মন কাড়ে।
এইসব দেখে আমাদেরও মন চায় একটু উদার হই, মন খুলে মানুষকে কাছে ডাকি, মাথায় হাত বুলিয়ে বলি, বাবারা যা খুশি করো, নো প্রবলেম! দ্বীন এতো কঠিন কিছু না!
হুজাইফা মাহমুদ
১৬/০১/২০২২