আমাদের কিছু ভাইয়েরা অতি তুরাপ্রবণ! তাদের মাঝে একটা বিশাল অংশ অনলাইনে জিহাদের প্রচারণার বিরোধিতা করেন। যারা অনলাইনে জিহাদ জিহাদ করেন তাদের তাচ্ছিল্যতা প্রদর্শন করেন! অথচ আমরা ভুলে যাই, আজ আমরা জ্বিহাদ - কিতাল সম্পর্কে যা জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছি তার ৯৯% এসেছে অনলাইনের কল্যানে। সরাসরি অথব দূরবর্তি মাধ্যমের আলোকে। আমাদের আশেপাশে বিশ্বে যে জ্বিহাদ হচ্ছে তার সম্পূর্ণ জ্ঞানই এসেছে অনলাইনের কারণে! অথচ আমরা এগুলো ভুলে যাই! এর মূল কারণ আমরা ফলাফল দেখতে চাই, অথচ আন্দোলন-সংগ্রাম এমন বিষয় না যে দুদিনেই ফলাফল পাওয়া যাবে। আপনি ইহুদী এবং খ্রিষ্টান মিশনারীদের দেখুন, তারা শত বছর আগে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আজও করে যাচ্ছে, তারা প্রতি প্রজন্মের জন্যে আলাদা আলাদা টাস্ক নির্ধারণ করে। সেই টাস্ক শেষ করার পরে তারা সেই প্রজন্মকে আর গুনায় ধরে না, এক্সপার শেষ হিসেবে বাগারে ফেলে দেয়, যা ইচ্ছে তা করতে দেয়! টার্গেট করে পরের প্রজন্মকে বাচ্চাদেরকে এমনকি, জন্মের আগের বাচ্চাদেরও তারা টার্গেট করে! অনলাইনের মাধ্যমে তারা তাদের কত পার্সেন্ট কাজ হাসিল করেছে আপনি চিন্তা করেছেন? আপনার পাশের সন্তানেরা-ভাইয়েরা-বোনেরা কিভাবে আজ এমন অবক্ষয়ের মাঝে পরে গেলো? তাদের কি আপনার সামনে, অন্য কোথায় সরাসরি কোনো ব্যক্তি এসে এগুলো শিখিয়ে গিয়েছে? যায়নি তো, তাহলে? যারা অনলাইনে জ্বিহাদ নিয়ে, ইসলাম নিয়ে আলোচনা করা মানুষদের তাচ্ছিল্যতা প্রদর্শন করে তারা অদূরদর্শী এবং পরাজিত মানসিকতার ব্যক্তি।
এর সাথে আমি আরো যুক্ত করতে চাই, যারা ইসলাম প্রচার করে তাদের ফেরেশতা মনে করার মানসিকতার ব্যাপারে। ইসলাম তো মানুষকে মানুষ হতে বলে, ফেরেশতা না। বলা হয় মানুষ গোনাহ না করলে আল্লাহ এমন প্রজন্ম নিয়ে আসবেন যারা গোনাহ করবে এবং ক্ষমা চাইবে। আস্তাগফিরুল্লাহ। তাহলে আপনি কেনো মানুষকে, ইসলাম প্রচারকারীকে গোনাহ মুক্ত মনে করেন? তারা গোনাহ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মুসলিম হিসেবে তারা ইসলাম প্রচার করবে এটাও স্বাভাবিক। অনেকে বলবে, তাহলে আমল না করে নাসিহাহ কারীদের ব্যাপারে যে শাস্তির কথা এসেছে! আরে আপনি কি বুঝেন না, সেটা উক্ত ব্যক্তির জন্যে সতর্ক বার্তা যেনো সে আমল করে, এটা তো নাসিহাহ গ্রাহকের জন্যে কোনো অজুহাত হতে পারে না! এটা নাসিহাহ প্রদানকারী ব্যক্তিদের বলার অধিকার নেই যে, আরে আপনি তো নিজেই ইবাদত করেন না তাহলে আমাকে কেনো বলতে এসেছেন!
✍️ আবিরুজ্জামান মোল্লা ভাই