I

Irfan Sadik

July 09, 2026 09:28 PM • 22 views • Original: July 06, 2026 02:09 PM
প্রবন্ধ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকে নিয়ে যে মুসলিম জাতীয়তাবাদি ও সেক্যুলাররা প্রচুর আদিখ্যেতা দেখাচ্ছে, এরা হয় প্রচন্ড ডিসঅনেস্ট, অথবা এরা এতোটাই রিটার্ডেড যে সাধারণভাবে চিন্তা করার ক্যাপাসিটিও তারা হারিয়ে ফেলেছে।

তারা যে কারণে ইসলামিস্টদেরকে অপছন্দ করে, ইসলামিস্টদের যে পয়েন্টগুলোর বিরোধিতা করে, এগুলোর অনেকগুলোই পূর্ণমাত্রায় বা আরো বেশি মাত্রায় খামেনি, তার ছেলে ও বর্তমান ইরানি শাসকবর্গের মধ্যে আছে।

- ২৪ এর অভ্যুত্থানের পরে ইসলামিস্টদের একাংশ যখন শরিআহর কথা বললো, তখন তারা ২৮ কে সাবোটাজের অভিযোগ আনলো ইসলামিস্টদের বিরুদ্ধে। অথচ খোমেনিও একই কাজ করেছিলো একটা সবার অংশগ্রহণে হওয়া অভ্যুত্থানে।

পার্থক্য হলো, ইসলামিস্টরা শুধু বলেছে। আর এদিকে খোমেনি কায়েমও করে ফেলেছে।

- এই মুসলিম জাতীয়তাবাদিরা আগে থেকেই, ইভেন জুলাই আসার পরেও বোরকা পরা ও জার্সি পরা দুজন ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ের জুলাইয়ে লাঠি হাতে বের হওয়ার ছবি দেখিয়ে বলে এটাই নাকি সামনের বাংলাদেশ। ইসলামিস্টরা অন্ধ, বোকা, নারী অধিকারের বিরোধী।

অথচ খামেনির ইরানে শুধু নারীর পোষাকের সমালোচনা করা হয় এমন না, বরং পোষাক কিছুটা এদিক ওদিক থাকলে তাকে জেলেও নেওয়া হয়। শাস্তিও দেওয়া হয়।

- ইসলামিস্টদের অনেককে তারা নানা "যঙ/গি" সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ জানায়। এদিকে খামেনিরা ত/লিব।ন, হ/ম/স, হিযবুল্লাহ, অ/ল-কায়েদ/—যাদেরকে যঙ-ই সংগঠন বলা হয়, এদের অনেককেই কোনো না কোনো পর্যায়ে সাহায্য করেছে।

এদের অনেকের টপ লিডারশিপকেও তারা দেশে নানা চুক্তির মাধ্যমে আশ্রয় দিয়েছে।

এই মুসলিম জাতীয়তাবাদিরা হাসিনাকে ঘৃণা করার দাবি করে, অথচ খামেনি ও ইরানের তত্ত্বাবধায়নে যে পরিমাণ মানুষ হত্য/ করা হয়েছে, যেনোস/ইড চালানো হয়েছে, এসব দিক থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নিতান্তই শিশু খামেনিদের সামনে।

- সির ইয়ায় বাশার আল আসাদ ও তার আগে হাফিজ আল আসাদের হাতে হওয়া ম্যাসাকার ও গণধর্ষণের সরাসরি সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করে গেছে খামেনি।

- এছাড়াও তার প্রকাশ্য নির্দেশে পরিচালিত কুদস ফোর্সসহ সির ইয়ান আর্মির হাতে সির-ইয়া, ইরাকে নিহত হয়েছে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ।

- অ/ফগানিস্ত/নে আমেরিকার আগ্রাসনে সরাসরি আমেরিকাকে সমর্থন করেছে ইরান। মৌলিক না, কাজের। এটা নিয়ে তাদের সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য বক্তব্য আছে।

অথচ তা সত্ত্বেও মুসলিম জাতীয়তাবাদি, শাহবাগী সেক্যুলাররা খামেনিকে নিয়ে আদিখ্যেতা করবে। খামেনিদের মত কাজ অন্য কেউ অল্প করে করলেও সেটার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। তাদেরকে দমন করতে বয়ান দাঁড় করাতে চাইবে। কিন্তু খামেনিকে পাস দেবে।

এর পেছনে কারণ হতে পারে পিউর রিএকশন। আগপিছ না ভেবে যেটা করা রিটার্ডেড লোকদের কাজ। অথবা তারা মারাত্মক ডিসঅনেস্ট। বাংলাদেশে মেইনস্ট্রিম আহলুস সুন্নাহর ইসলামকে ডিলেজিটিমাইজড করতে তারা এ ধরণের কাজ বেছে নিচ্ছে।

অবশ্য চিন্তা করার কারণ নেই। Sooner or later, আল্লাহ সবার চেহারা থেকে পর্দা সরিয়ে নেন। খোমেনিকে তাকফির করা একজন মুয/হিদ আব্দুল্লাহ অ/যয/ম যেভাবে বলেছেন, আল্লাহ অন্তর ও মুখকে বেশিদিন আলাদা থাকতে দেন না।

এভাবে না দাঁড়াবে তাদের রাজনীতি, না তারা ইসলামের যাত্রা ঠেকাতে পারবে।
Back to Archive