#৪০০০
এন্ড্রিউ টেইটের গত দুই বছরের এক্টিভিজম যদি আপনি খেয়াল করেন তো দেখবেন সে টলারেন্স, রাইটস ও ভ্যালুজ নিয়ে এমন অনেক বিষয়কে টাচ করেছে, যা পশ্চিমে কেউ করতে সাহস করে না। এই বিষয়গুলি মানুষের একেবারে ফিতরাতী বৈশিষ্ট্য হলেও আনন্যাচারাল জায়োম্যাসনিক ওয়োক স্যুডোরিলিজিয়ন তার এনার্কিক রেটোরিক্যাল ফ্রিডমের স্ট্যান্ডার্ডে সেগুলোকে অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে, আপনি যদি অর্থডক্স জুইশ/ক্রিশ্চিয়ানদের দেখেন, আপনি দেখবেন, এই জায়গায় তাদের অবস্থানের সাথে এন্ড্রিউ টেইটের কথা মিলে গেছে।
পশ্চিমা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পর্দার আড়ালে এই অর্থডক্সদের বয়ান বা কনজারভেটিভ ক্যাথলিকদের বয়ান, তাদের বাকস্বাধীনতা হারিয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে সিয়ানের একটা অনুবাদ বইয়ের কথা বলেছিলাম, আনপ্রটেক্টেড, মিরিয়াম গ্রসম্যানের লেখা। এই বই পড়লে আপনার মনে হবে, খাইসে, এই মহিলা তো ফান্ডামেন্টালিস্ট!! আসলে, প্রতিটা রিলিজিয়ন তো কিছু ফান্ডামেন্টসের উপরেই কাজ করে!! ফান্ডামেন্ট ছাড়া ইভেন ওয়োক রিলিজিয়নও কাজ করে না।
এন্ড্রিউ টেইটের ইসলাম গ্রহন একটা খুবই শক্তিশালী বার্তা, ইসলাম নিশ্চিহ্ণ হচ্ছে না, ইসলাম ইউরোপকে জয় করছে সেভাবে যেভাবে মুসলিমরা জয় করেছিল মোঙ্গলদের।
এখন থেকে চারশো বছর আগেও, মানুষ ইসলাম গ্রহন করতো মুসলমানদের চরিত্র-ব্যবহার-সভ্যতা-সংস্কৃতি দেখে। কলোনিয়ালিজম ও নিজেদের গাফলতির কারনে আমাদের চরিত্র-সংস্কৃতি এত নিচে নেমেছে যে, আমরা এখন নিজেরা নিজেদেরকে সন্দেহ করি এবং বাইরে থেকে কোন অমুসলিম যদি মুসলমান হতে চায়, তাহলে আর যাই হোক, আম মুসলমানদের দেখে তার ইসলাম গ্রহন করার সম্ভাবনা খুবই কম।
কোন হিন্দু যদি বাংলাদেশের হুজুরদের মধ্যে হওয়া ক্যাচাল ফলো করে, তারপক্ষে মুসলমান হওয়া নিঃসন্দেহে কঠিন হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ এক অলৌকিকতা ইসলামের ভেতরে দিয়ে দিয়েছেন, তা হচ্ছে ফিতরাতি রুহানিয়্যাত। কেউ যখন মানুষের মৌলিক বিবেচনাগুলি অনুসরন করতে শেখে ও বোঝে, সম্ভাবনা খুবই বেশি, সে ইসলামের কাছাকাছি চলে আসবে।
মোঙ্গলরা যখন ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম জাহানের প্রায় অর্ধেক ভুখন্ড ও ৭৫% জনসংখ্যা নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিল, তখন মুসলমানরা ভেবেছিল, রোজ কেয়ামত আসন্ন এবং খুব সম্ভবত ইসলাম আর কোনদিন মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না। মোঙ্গলদের রাজত্বে মুসলমানদের খতনা ও কুরবানী নিষিদ্ধ ছিল, চেঙ্গিজ খানের আইন ইয়াসায় মুসলমানদের উল্লেখ করা হয়েছে দাসের জাত হিসেবে।
কিন্তু মাত্র চল্লিশ বছরের মধ্যেই দেখা গেল চেঙ্গিজের নাতিরা ইসলাম গ্রহন করতে শুরু করেছেন। বারকি খানকে দিয়ে শুরু, এরপর একে একে নোগাই-নিকুদার-আহমেদ-গাজানরা ইসলামে আসলেন, যদিও গাজানের ইসলাম গ্রহনের উদ্দেশ্য নিয়ে আছে বিভিন্ন ধরনের বিসংবাদ। যেই চেঙ্গিজ মুসলিমদের দাসের জাত ডাকতেন, তার রক্তধারার অর্ধেক হয়ে গেল মুসলমান, মাত্র একশো বছরের মধ্যে।
এটা আল্লাহর কাছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের করা দোয়ার ফল, কিয়ামত আসার ঠিক আগের যামানা ছাড়া ইসলামকে আল্লাহ দুনিয়া থেকে কখনোই একেবারে মিটিয়ে দেবেন না, মুসলমানরা ভুল বিষয়ে কখনো সম্পুর্ন একমত হবে না এবং মুসলমানদেরকে আল্লাহ গযব দিয়ে সম্পুর্নভাবে ধ্বংস করে দেবেন না।
ইউরোপ, মুসলিম বিশ্বকে জয় করেছে ১৭৫৭-১৯১৯ সালের মধ্যে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মুসলিমদের অবস্থা এমন ছিল যে, খলীফা পদ নেয়ার সাহস কারো হয় নি এবং একশো বছর হয়ে গেছে এখনো কোন মুসলিম রাষ্ট্র নিজেকে খিলাফতের উত্তরসুরী দাবী করতে সাহস করে নি। এটা ছিল মুসলিমদের ওপর ইউরোপিয়ান প্রোটেস্ট্যান্ট সিভিলাইজেশানের টোটাল ভিক্টরি।
কিন্তু এরপর থেকেই, বিশেষভাবে দেখা গেল আশির দশক থেকে, ইউরোপে ইসলাম জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে। এই মুহুর্তে পশ্চিমে ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং রিলিজিয়ন হচ্ছে ইসলাম।
কথা হচ্ছে, কেন??
এই মুহুর্তে পৃথিবীর মূল সংঘাত হচ্ছে জায়োম্যাসনিক নিওলিবারেল কনজুমারিজম বনাম নিও অর্থডক্স আব্রাহামিক ট্র্যাডিশনালিজমের লড়াই। ইউক্রেনে আমেরিকা-ইউকে-জার্মানী-ফ্রান্স বনাম রাশিয়া-চায়না অক্ষের লড়াই মূলত এই লড়াইয়েরই ময়দানী মোকাবিলা।
সভ্যতার সংঘাত তত্ত্ব অনুযায়ী পশ্চিমা জায়োম্যাসনিক সভ্যতার সঙ্গে লড়াই হওয়ার কথা মুসলিম ও চাইনিজ সভ্যতার। আবার আলেক্সান্ডার দুগিনের ট্রান্সআটলান্টিক বনাম ইউরেশিয়ান সভ্যতার সংঘাত তত্ত্বে আটলান্টিকের দুই পাড়ের প্রটেস্ট্যান্ট/ম্যাসনিক সভ্যতার সাথে লড়াই হতে যাচ্ছে ইউরেশিয়ান সভ্যতার। এখানে ইউরেশিয়ান পক্ষ নিও অর্থডক্স আব্রাহামিক, এই পক্ষে আছে কমবেশি আব্রাহামিক সভ্যতা ও ধর্মে বিশ্বাসী বেশিরভাগ রাষ্ট্র, পক্ষান্তরে ট্রান্স আটলান্টিক সভ্যতার পক্ষে আছে বেশিরভাগ ম্যাসনিক-প্রটেস্ট্যান্ট ভাবধারার এনলাইটেন্ড শক্তি। এখন থেকে ৫-৭ বছর আগে যখন এসব নিয়ে নিয়মিত চর্চা করতাম, তখন এই ব্যাপারগুলি নিয়ে প্রায়ই লিখতাম, এখন সময়ের অভাবে লিখি না, পড়াও হয় না।