ভাইফোঁটাকে বাঙ্গালি সংস্কৃতি বলার মধ্যে তেমন কোন ভুল দেখছি না।
.
বাঙ্গালিত্বের যে ধারণা, কাঠামো ও রূপ আমরা আজকে দেখি সেটার বংশগতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো ঘটনা হল:
.
অষ্টাদশ শতাব্দীর 'কলকাতা রেনেসাঁ' (বেঙ্গল রেনেসাঁ/ বাংলার নবজাগরণ) এবং,
.
গত শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গড়ে ওঠা বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।
.
প্রথমটা বাঙ্গালিত্বকে উপমহাদেশীয় পৌত্তলিকতার সাংস্কৃতিক রূপ হিসেবে তৈরি করেছে। পরেরটা বাঙ্গালিত্বকে দেখেছে মুসলিম পরিচয়ের বিকল্প হিসেবে।
.
বাঙ্গালিত্ব এবং বাঙ্গালিয়ানাতে মুসলিম বরাবরই 'বাইরের লোক', 'অপর। লামসাম ব্যাখ্যা দিয়ে, নানা চেরি পিকিং করে বাঙ্গালিয়ানার একটা 'মুসলিম' সংস্করণ বের করার চেষ্টা অর্থহীন, অযৌক্তিক। এবং অবধারিতভাবে এই প্রকল্প ব্যর্থ হবে।
.
এর চেয়ে অনেক সহজ উপায় এভূখন্ডের মুসলিমদের জন্য আছে। ফিরিঙ্গি আপনার ওপর মাতবরি করতে পারবে যখন আপনি তার মতো 'ফর্ক অ্যান্ড স্পুন' দিয়ে খাবার চেষ্টা করবেন। যখন আপনি তার মতো টাই বাঁধা শিখতে চাইবেন। যতোক্ষণ আপনি তার অনুকরণে জাতে উঠতে চাইবেন, ততোক্ষণ সে আপনাকে নাচাতে পারবে। একই কথা বাঙ্গালিয়ানার সাংস্কৃতিক জমিদারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
.
এই মাতবরির সুযোগটা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সরিয়ে নিন। বাঙ্গালিত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করুন। নিজেকে বাঙ্গালি প্রমাণের চেষ্টা বাদ দিন। ভেঙ্গে ফেলুন বাঙ্গালিত্বের চির নড়বড়ে, চির ভঙ্গুর ঘরটাকে।
.
প্রতিপক্ষের অনুমোদন চাওয়ার মানে হল তাকে শক্তিশালী করা। প্রতিপক্ষের মাপকাঠি প্রত্যাখ্যান করার অর্থ তাকে চ্যালেঞ্জ করা। তার শক্তি ছিনিয়ে নেয়া।
.
টিকটক গ্লোবালিসমের যুগে দাদাবাবুর বাঙ্গালিয়ানা এমনিতেই অর্ধমৃত, যা নিশ্চিতভাবে পূর্ণ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অল্প একটু চেষ্টা করলে শব তাড়াতাড়ি চিতায় তুলে দেয়া সম্ভব।
আসিফ আদনান
28/10/2022