A

Abdullah bin bashir

July 20, 2026 07:28 PM • 28 views • Original: July 19, 2026 02:43 PM
ইসলামিক
৫) খেলাফত অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খেলাফতই দ্বীন না। এমনকি দ্বীনের ভিত্তিও না। বড়জোর সেটা জাহেরি শরিয়াত বাস্তবায়নের ভিত্তি। যেসব নবি খেলাফত কায়েম করতে পারেন নাই তারা ব্যার্থ না। আবার খোদ নবি (সা) মদিনায় রাষ্ট্রীয় ভিত্তি স্থাপনের পূর্বেও দ্বীন ছিলো৷ বাদশা নাজ্জাশি ইমান এনেছিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা) মদিনায় ইমারত কায়েমের পরেও নাজ্জাশি সেই রাষ্ট্রে হিজরত করেননি। জাফর তৈয়ার (রা) ইয়াসরিব মদিনা হওয়ার পরের দিন হিজরত করেন নাই। অপারগতাবশত আবু জান্দাল (রা) এবং তাঁর সাথিরা অনেকে খেলাফতের অংশ হতে পারেন নাই। কিন্তু তাঁরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের ইমান এনেছিলেন।

কোন সন্দেহ নাই খেলাফত কায়েম করা উম্মাহর জন্য ওয়াজিব। ওয়াজিবে কেফায়া। কিন্তু তার মানে এটা না যে প্রত্যেক টম ডিক অ্যান্ড হ্যারি খেলাফত কায়েমের জন্য প্রচেষ্টা চালাবে। খোদ হিজব সিরাত থেকে যা আহরন করেছে সেই ঘটনা লক্ষ্য করলে দেখবেন এই খেলাফত কায়েমে প্রক্রিয়ার রাসুলুল্লাহ (সা) এবং কয়েকজন সাহাবা জড়িত ছিলেন। প্রত্যেক সাহাবা জড়িত ছিলেন তা নয়। বেলাল (রা) কি মানুষদের খেলাফতের দাওয়াত দিয়ে বেড়িয়েছেন?সুমাইয়া (রা)? আমাদের যুগে কিছু মানুষ খেলাফত কায়েমের চেষ্টা করবে এটাতো ঠিক আছে। কারও পক্ষে এজন্য অবদান রাখার যৌক্তিক সামর্থ্য থাকলে তারও সেটা করা উচিৎ।

কিন্তু প্রত্যেক মুসলমান দ্বীনের সকল কাজ ছেড়ে কেবল খেলাফতের জন্য চেষ্টা করবে এমন দাবি চূড়ান্ত মাত্রায় অযৌক্তিক এবং অবাস্তব। এমন কাজ সত্যিই করা হলে সেটা বরং খেলাফত  কায়েমের বাস্তব প্রচেষ্টাকে আরও পিছিয়ে দিবে, আরও দুর্বল করে দিবে। বরং অপারগ অবস্থায় যখন খেলাফত নাই তখন দ্বীনের প্রত্যেক অংশকে টিকিয়ে রাখার জন্য উম্মাহ সামষ্টিকভাবে ব্যাক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে টিকিয়ে রাখবে যেনো উম্মাহর খেলাফতের আকাঙ্ক্ষা টিকে থাকে এবং বাস্তবেই খেলাফত কায়েমের সম্ভাবনা তৈরি হলে উম্মাহ সর্বাত্মক সহায়তা করে। যদি আল্লাহ সত্যিই এমন কিছু দিয়েও দেন তবে তার সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষায় নিজেদের জান মাল সর্বস্ব উৎসর্গ করে। তারা উম্মাহর মাযুরিয়াতকে অস্বীকার করে এবং উম্মাহর উপর এমন বোঝা এমনভাবে চাপিয়ে দিতে চায় যার ওজন বাস্তবে বহন করতে না পেরে উম্মাহর এই আকাঙ্ক্ষারই এক সময় মৃত্যু হবে। এ যেনো একটা শিশুর উপর একটা পূর্ব বয়স্ক মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী বোঝা চাপিয়ে দেওয়া যাতে সে হয়তো মারা পরবে অথবা তার মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে। অথচ সে যদি ধীরে ধীরে বড় হতো তবে হয়তো একদিন অনেক বোঝা বহন করতে পারতো।

তারা দ্বীন প্রচারকে মনে করে খলিফার কাজ। দ্বীনের প্রতিরক্ষাকে মনে করে প্রতিরক্ষাকে মনে খলিফার কাজ। ত্রান ও উম্মাহর সহায়তায় দাতব্য সেবাকে মনে করে খলিফার কাজ। তালিম এবং তাযকিয়া খলিফার কাজ। আমর বিল মারুফ নাহী আনিল মুনকার খলিফার কাজ। উসুলের দিক থেকেতো কথাগুলো অসত্য না৷ প্রশ্ন হলো খলিফা না থাকলে কি এসকল কাজ ফেলে রাখা হবে? আবার খলিফা ছাড়া কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য কি এটা সম্ভব যে তারা খেলাফতের জন্যও কাজ করবে আবার অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজ করবে। জাতীয়, আন্তর্জাতিক কুফুরি শক্তি কি সেটা বরদাস্ত করবে? আল্লাহতো খেলাফতের নেয়ামত উম্মাহকে দিয়েছেনই এজন্য যে তারা এগুলো সঠিকভাবে করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু অপারগ অবস্থায় রোমান্টিক ফ্যানাটিসিজমে ভুগে অন্যান্য কাজ সবাই মিলে পরিত্যাগ করার যে মানহায তারা বেছে নিয়েছেন সেটা কোন বুদ্ধিমান যৌক্তিক মানুষ মেনে নিতে পারবেন না৷

আমার এই জিনিসটা তাদের সবচেয়ে খারাপ লাগে। তারা নিজেরা ছাড়া সবার অবদান বাজেভাবে অস্বীকার করে। এজন্য যে ভালো কাজের ক্রেডিট অন্য কাউকে দিতে হবে সেটা তারা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বলবে আল্লাহ এই উম্মাহর ভেতর খায়ের রেখেছেন। সত্য আল্লাহ খায়ের রেখেছেন। কিন্তু কিভাবে?  আল্লাহর একটা সুন্নাহ আছে। তিনি এই জগতকে আসবাবের মুখাপেক্ষী বানিয়েছেন। উম্মাহর এই খায়ের কাদের মাধ্যমে, কোন আসবাবের মাধ্যমে আল্লাহ টিকিয়ে রেখেছেন সেটা তারা কখনো বলবে না। এভাবে তারা কৌশলগতভাবে দলীয় আসাবিয়্যাহ বা এক কথায় হিযবিয়্যাহর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটায়। তাদের কথা শুনলে মনে হবে এই উম্মাহর ভেতর তারাই একমাত্র কাজের কাজ কাজ করছে। অন্য সবাই বাতাসা খাচ্ছে।
.
©
Back to Archive