ইরানে মাশা আমিনির মৃত্যুর পর তিন দিন সেই খবর প্রচার করেছিলো নয়া দিগন্ত। তারপর ভুলে গেছে। প্রথম আলো সেই মাশার মৃত্যু ও আন্দোলনের খবর কে বানিয়েছে আন্তর্জাতিক পাতার প্রধান আকর্ষণ। একমাস পেরিয়ে গেলেও প্রথম আলোর সেই একই চিত্র, একই চরিত্র। আন্তর্জাতিক পাতা মানেই মাশার মৃত্যু।
কারণ, আন্দোলনটা হিজাব বিরোধী। নারিবাদী।
চার বছর আগে দুই হাজার আঠারোতে বাংলাদেশের মেয়েরা ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দল ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়েছিলো। সেই কথা ক'জন জেনেছিলো, আর ক'জন মনে রেখেছে? বিপরীতে ২০২২ এর দক্ষিণ এশিয়া জয় কেন এতো বিশাল হয়ে উঠলো মানুষের মনে, হয়ে উঠলো অদম্য সাধনার প্রতিক?
উত্তরটা সোজা,মিডিয়ার কারসাজিতে।
মাশার মৃত্যুর জেরে একমাসের আন্দোলনের বয়ান দেখে মানুষ ভাবতে বাধ্য হয়েছে- ইরান-সরকারের বুঝি পতনই হয়ে যাচ্ছে। ২২ এর সাফ জয় কে মানুষ মানতে বাধ্য হয়েছে বিশ্বজয়-রূপে। ওদিকে ১৮ এর এশিয়া জয় নিয়ে ভাবেনি কেও। কেও জানেনি- হিজাবের পক্ষে হাজারো ইরানী নারীর আন্দোলনের খবর।
মানুষের মনন ও মস্তিষ্কে, চিন্তায় ও অনুভূতির কতোটা গভীরে মিডিয়ার বাস, সেটা বুঝতে চাইলে উদাহরণের সংখ্যা একটা-দুটো নয়। মানুষ এখান থেকেই চিন্তার রসদ জোগায়, অনুভূতির খোরাক জাগায়। যদি আজো কেউ তাদের সতর্ক না করে, তবে আর কবে.?
বিনয়ামিন মুবাশ্বির
22 October 2022