ওয়াজ মাহফিল আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুথি-পাচালির কাহীনি সাহিত্যের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা অঞ্চলে শত শত বছর ধরে পীর-দরবেশরা বছর বা মাসের নির্দিষ্ট দিনে খানকাহ/দরবারে আয়োজন করতেন ওয়াজ মাহফিল।
বিশেষত ব্রিটিশ আমলে জৌনপুরী ও মুহাম্মদী ধারার বক্তারা এই অঞ্চলে চষে বেড়িয়েছেন, সংগ্রহ করেছেন আন্দোলনের সমর্থন, অর্থ ও সদস্য। এই দীর্ঘ ইতিহাস ভুলে আপনারা বলতে শুরু করেছেন, ওয়াজ মাহফিল আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও এতে সমর্থন জানাচ্ছেন।
বলে রাখা ভালো, ঐতিহাসিকদের মতে দূর্গা পূজা ও ওয়াজ মাহফিল প্রায় একইসময়ে জনপ্রিয় হয়েছে। ব্রিটিশদের বিজয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে প্রবর্তিত হয় দূর্গা পূজা, ব্রিটিশ বিরোধী ধর্মীয় আন্দোলনে জনপ্রিয় হয় ওয়াজ মাহফিল। এভাবে ভাবলে দেখবেন, ওয়াজ মাহফিল আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরব-আফ্রিকায় ওয়াজ মাহফিলের প্রচলন নেই। যেহেতু সবাই আরবি পারে, সরাসরি ধর্মীয় ব্যাখ্যা বুঝতে সক্ষম, তাই আরব-আফ্রিকায় ওয়াজ মাহফিলের পরিবর্তে মসজিদ ভিত্তিক হালাকার মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা-প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। মালয় দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানরা আরবি জানেন না, তাই সেখানেও ধর্মীয় শিক্ষা-প্রশিক্ষণের প্রয়োজনে প্রবর্তিত হয় ওয়াজ মাহফিল।
ওয়াজ মাহফিল আমাদের ঐতিহ্য, সংগ্রাম।
ইফতেখার জামিল
22 October 2022