ফরহাদ মজহার লিখেছেন ‘ইসলাম স্রেফ ধর্ম মাত্র নয়, মার্কস-ফয়েরবাখের দিক থেকে একটি মতাদর্শ বা ইডিওলজিও বটে।‘
ভুল ।
ইসলাম হচ্ছে পরিপূর্ণ এক দ্বীন। একে ইডিওলজি বানাবার চেষ্টার সাথে ইসলামকে বাদ দিয়ে ইসলামকে নানাখাতে ব্যবহারের মজহারিয় চেষ্টা জড়িত, এর সম্পর্ক ইসলামের সাথে নয়।
ইসলামকে ইডিওলোজি হিসেবে ব্যবহারের নিজস্ব মতামতকে সত্য স্থির করে তিনি বলছেন ‘‘যেহেতু বারবার বলা হচ্ছে লালনে কোন লালনীয় মরমীয় ইসলাম নাই, লালন ইসলামের পালটা কোন ইসলাম, কিম্বা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের বিপরীতে নতুন কোন ধর্ম কায়েম করতে আসেন নি। ... জিজ্ঞাসা করে, লালনের ইসলাম কোন ইসলাম? অথচ লালনের আলাপ ইসলামের ইমান-আকিদার আলাপ না।‘‘
খেয়াল করুন। তিনি বলছেন লালনের আলাপ ইসলামের ইমান-আকিদার আলাপ না। ইসলামের ইমান-আকিদার আলাপ না, আবার ইসলামের আলাপ হন লালন । কারণ মজহার লিখেছেন ‘‘লালনের ঘরের চর্চা থেকেই তিনি ইসলাম পেয়েছেন।দিন দিন তা শক্তিশালী হচ্ছে।‘‘ (দেখুন, মুসা আল হাফিজের প্রতি ফরহাদ মজহারের পোস্ট, ৪ মে, ২০২০)
ইমান-আকিদার বিষয় না হয়ে লালন ইসলামের বিষয় হন কীভাবে? সেই ইডিওলোজির কেরামতিতে। এর মানে ফরহাদ মজহার ইসলামকে ইমান আকিদা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ইডিওলজি বানাতে চান।
তিনি পর্যালোচনার মাধ্যমে ইসলামের মহিমা স্পষ্ট করতে চান সবার কাছে। তবে সেটা ইসলামের পন্থায় নয়, মার্ক্সের দেখানো রাস্তায়। মজহারের ভাষায় - ‘‘ধর্ম ও মতাদর্শ নির্বিশেষে ইসলামের মহিমা সকলের কাছে পরিষ্কার হাজির করা যায়। মার্কস এই পথ আমাদের দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।‘‘ ( দেখুন : ফ.ম. এর পোস্ট, ২৬ অক্টোবর, ২০২২)
মজার ব্যাপার হলো শুধু তার ইডিওলোজি-ইসলামকে মার্ক্সের পন্থায় ব্যাখ্যা করেই তিনি থামবেন না, ধর্ম ইসলামকেও ব্যাখ্যা করবেন! ফলে তিনি বলছেন -ধর্ম ও মতাদর্শ নির্বিশেষে ইসলামের মহিমা... ‘‘
এর মানে ইসলাম দুইটা দাঁড়াচ্ছে। এক. ধর্ম, দুই. মতাদর্শ। কিন্তু উভয়ের মহিমা বয়ান হবে মার্ক্সের পন্থায়। তাই বলে পন্থাটা শুধু মার্ক্সের হবে আর লালন ঘুমিয়ে থাকবেন, তা হয় না, তিনিও আছেন এখানে।
ফ.ম. এর সাথে সাম্প্রতিক তর্ক শুরু হয়েছে যে কথা থেকে, সেটা হলো লালনের সাথে প্রথাগত ইসলামের সম্পর্ক নেই। সেই কথাটাই তিনি এখানে ঘুরিয়ে বললেন-‘‘ লালনের আলাপ ইসলামের ইমান-আকিদার আলাপ না।‘‘
এর মানে ইমান -আকিদাসহ যে ইসলাম, সেটা প্রথাগত? একে বাদ দিয়ে যে ইসলাম সেটা মজহারের ইডিওলোজি!! যা তিনি পেয়েছেন লালনের ঘরের চর্চা থেকে!!
আচ্ছা, ইমান-আকিদা থেকে বিচ্ছিন্ন হলে ইসলামের কী থাকে? তখন ইসলামকে যেমন ইচ্ছা , ব্যবহারের বস্তু বানানো যায়। ফরহাদ মজহার সেই খেলাটা খেলতে চান ?
এখানে বিতণ্ডা করছে মুসা আল হাফিজ। অতএব তার প্রতি তাচ্ছিল্যের সুরেই লম্বা পোস্টটি শুরু করেছেন । তার অহমের ভাষা এই- Ôবুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক পর্যালোচনার হিম্মত অনেকের থাকে না। কোন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য আপনি আন্তরিক চেষ্টা করলেও উপলব্ধি, বুদ্ধি , শিক্ষা ও পর্যালোচনার ক্ষমতা অর্জনের অভাবে কিছু মানুষকে কখনই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় তুলে আনতে পারবেন না।Õ
যে আলোচনা দিয়ে তিনি শুরু করেছেন, সেই ভাষা ও বাক্যাবলি কি আমিও ব্যবহার করবো? দরকার নেই। কারণ ফরহাদ মজহার তাঁর আলোচনার শুরুতেই ধরা খেয়ে গেছেন। নিজের মতো এক ইসলামই তিনি প্রস্তাব করছেন ইডিওলোজির নামে। তার তাচ্ছিল্য তার দিকেই ফিরে যাচ্ছে।
(অসমাপ্ত)
উস্তাদ মুসা আল হাফিজ
27 অক্টোবর 2022