Description
বাল্যকালের নৈতিক বিকাশ
বাল্যবয়সে ছেলে-মেয়ের নৈতিক ধারণার প্রসার হয়। সাধারণ নৈতিক ধারণা গড়ে ওঠার ফলে তারা কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির পরিবর্তে ন্যায় অন্যায় শব্দগুলো যে কোনো পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করেত সক্ষম। এছাড়াও একটি বিশেষ প্রতিক্রিয়ার প্রতি সমাজের স্কুলে যে একরকম গুরুত্ব আরোপ করে না তাও বুঝতে পারে। এ জাতীয় উপলব্ধি তাদের ব্যক্তিগত নৈতিক আদর্শের সাথে মিশে যায়।
নৈতিকতার বিকাশ সম্পর্কে পিয়াজের (১৯৭০)০ মতবাদে দেখা যায় যে শিশুদের "ন্যায় বিচার" (Justice) বিষয়ক ধারণা পাঁচ থেকে বারো বছর বয়সের মধ্যে বদলে যায়। মা-বাবার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সঠিক 'অথবা' “ভুল” আচরণ সম্পর্কে শিশুদের মনে যে দৃঢ় ও অনমনীয় বিশ্বাসের সঞ্চার হয় তাও অনেক সময বদলে যায়। সেজন্য যে পরিস্থিতিতে অন্যায় আচরণ সংঘটিত হয়েছে তার উপর গুরুত্ব আরোপ করে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে কোন পরিস্থিতিতে ব্যক্তি নিয়ম ভঙ্গ করেছে ছেলে-মেয়ে তা অনুধাবন করতে সচেষ্ট হয়।
এজন্য পিয়াজে মনে করেন যে নৈতিকতা সম্পর্কে অনমনীয় মনোভাবের পরিবর্তে আপেক্ষিক নৈতিকতা বোধের উদ্ভব হয়। যেমন, মিথ্যা কথা একটি পাঁচ বছরের শিশু সবসময় গর্হিত আচরণ বলে মনে করে। কিন্তু একটি বড় ছেলে অথবা মেয়ে মনে করে যে, কোনো কোনো পরিস্থিতিতে মিথ্যা বলা অপরাধ নয়। কাজেই মিথ্যা বলা মানেই অন্যায় নয়।
পিয়াজের মতবাদের বিশদ ব্যাখ্যা দান প্রসঙ্গে কোলবার্গ (Kohlberg) ৪১ বলেছেন যে বাল্যকাল অথবা শৈশবের শেষ পর্যায়ে নৈতিকতা বিকাশের দ্বিতীয় স্তর অর্থাৎ প্রচলিত নৈতিকতাবোধের একটি পর্যায়। অন্যভাবে বলা যায় যে চিরাচরিতভাবে নিয়ম মেনে চলা ও আনুগত্য বিষয়ক নৈতিকতাবোধ। এ স্তরের প্রথম পর্যায় যাকে কোলবার্গ 'Good boy morality' নামে আখ্যায়িত করেছেন। সেসময় সবার স্বীকৃতি অর্জন এবং সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যে শিশুরা সমাজে প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে চলে। দ্বিতীয় পর্যায়ে কোলবার্গের মতে প্রচলিত নিয়ম সবার জন্য মঙ্গলকর বলে সমাজ বিবেচনা করলে সমাজের অস্বীকৃতির অথবা অনুমোদন এড়াবার উদ্দেশ্যে শিশুদের অবশ্যই সেসব রীতিনীতি মানতে হবে। এ বয়সে শিশুরা কিভাবে (ক) নীতিমালা নির্বাচন করে এবং (খ) নিয়মানুবর্তিতা কতটুকু গুরুত্ববহ তা এখানে আলোচনা করা হলো।
(ক) নৈতিক নীতিমালার বিকাশ (moral code): নৈতিক ধারণার সাধারণীকরণ থেকে নৈতিক নীতিমালার উদ্ভব হয়। তরুণ বয়সের মতো বাল্যকালেও নৈতিক নীতিমালার উপর দলীয় নৈতিক আদর্শের প্রভাব দেখা যায়। এর অর্থ অবশ্য এ নয় যে দলীয় নৈতিক আদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে সবাই পারিবারিক নৈতিক নীতিমালা বিসর্জন দেয়। এর অর্থ হচ্ছে বড় ছেলে-মেয়েকে যদি নৈতিক নীতিমালা নির্বাচন করতে হয় তবে যে দলের সাথে তারা একাত্মতা বজায় রেখেছে সে দলে নিজেদের মর্যাদা
বজায় রাখার উদ্দেশ্যে দলীয় নৈতিক আদর্শকে বেছে নেয়।
#বাল্যকালেরনৈতিকবিকাশযেভাবেঘটে
#বিকাশমনোবিজ্ঞান