ফেটাস বিকাশ পর্যায়:
(ক
) গর্ভস্রাব : মা গর্ভবতী হওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে যে কোনো সময়ে গর্ভস্রাব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; সবচেয়ে সংকটময় সময় হচ্ছে গর্ভকালের কোনো একটি সময়ে মায়ের নিয়মিত মাসিক স্রাব শুরু।
(
খ) অকালে জন্ম : সন্তান অকালে ভূমিষ্ঠ হলে যদি ওজন ২ পাউন্ড ৩ আউন্সের কম হয় তবে বেশি ওজন বিশিষ্ট নবজাতকদের চেয়ে এরা কম দিন বাঁচে এবং এদের মধ্যে যে কোনো ধরনের বৈকল্য দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
(গ) প্রসবকালীন জটিলতা: মায়ের মানসিক পীড়ন জরায়ুর সংকোচন বিঘ্নিত
করে। এ ধরনের বিঘ্ন সন্তান প্রসব প্রক্রিয়ায় জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
(
ঘ) বিকাশের অনিয়ম: বিকাশ পর্যায়ে যে কোনো পারিপার্শ্বিক অবস্থা গর্ভস্থ শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ভ্রূণ বিকাশকে বিঘ্নিত করবে এবং এতে তার সার্বিক বিকাশ ব্যাহত হবে।
২.১৩ শারীরিক বিপত্তি সৃষ্টিকারী শর্তাবলী
গর্ভধারণের পর বিকাশসূচক তিনটি পর্যায়ের সম্ভাব্য দৈহিক বিপত্তির গুরুত্ব অথবা এর ব্যাপকতা প্রধানত দুটি শর্তের উপর নির্ভর করে। প্রথমটি হচ্ছে যে গর্ভধারণের কতদিন পরে মা বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে। চেস (Chess)-এর সমীক্ষার রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে চিকিৎসকদের মতে গর্ভবতী মা প্রথম তিন মাসের মধ্যে রুবেলা রোগে আক্রান্ত হলে ফেটাসের স্বাভাবিক বিকাশ বিঘ্নিত হয়। এ রোগের ফলে সন্তানের চোখ অথবা কান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এ ছাড়াও হৃৎপিন্ডের বৈকল্য দেখা দিতে পারে। হিনোনেন ও সহ-গবেষকরা (Heinonen ) ২৪ তাদের গবেষণায় দেখতে পান যে, যদি গর্ভধারণের প্রথম দিকে গর্ভবতী মাকে ওষুধের আকারে এস্ট্রোজেন (estrogen) প্রজেস্টিন (projestin) ইত্যাদি গ্রন্থিরস খাওয়ানো হয় তবে গর্ভস্থ শিশুর হৃৎপিন্ডের স্বাভাবিক কার্যাবলী ব্যাহত হয় এবং ফলে হৃৎপিন্ডের জন্মগত রোগ হয়।
দ্বিতীয় শর্ত হল প্রতিকূল পরিবেশ। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে বেশ কিছু বিষয় গর্ভে শিশুর স্বাভাবিকভাবে বিকশিত পরিবেশকে বিঘ্নিত করে। এখানে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হল।
(ক) মায়ের পুষ্টিহীনতা: মায়ের দেহে পুষ্টির অভাব যে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ
বিশেষভাবে মস্তিষ্কের বিকাশকে বিঘ্নিত করে সে সম্পর্কে গবেষণাভিত্তিক যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ৩৬,৩৮,৪০ মা যদি অতিরিক্ত ধূমপান কিম্বা মদ্যপান করেন তবে তা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ বিশেষভাবে শেষের দিকে ফেটাসের বিকাশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। ১৪,৩০,৩৩ মা এসময় নেশার উদ্রেককারী ওষুধ সেবন করলেও এরকম ক্ষতি হতে পারে। ১২,২১
(খ) মায়ের বয়স: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে মা যে বয়সে গর্ভবতী হন সে বয়সটিও অনেক সময় শিশুর স্বাভাবিক বিকাশধারায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এর কারণ হচ্ছে যে মধ্যবয়সে মহিলাদের ঋতুবন্ধের (menopause) বয়স যত সন্নিকটবর্তী হয় ততই অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যাবলী হ্রাস পায়। তাই ঐ বয়সে গর্ভধারণ করলে ভ্রূণ (embryo) এবং ফেটাসের স্বাভাবিক বিকাশ মন্থরগতিসম্পন্ন হয়। পরিণতি হিসেবে ক্রেটিনিজম (cretinism) ডাউন'স উপসর্গ (downs syndrome), হৃৎপিন্ডের ত্রুটিপূর্ণ আকৃতি (heart malformations), হাইড্রোসেফালাস (hydrocephalus) ইত্যাদি বৈকল্য দেখা দিতে পারে। দৈহিক ত্রুটিও এ জাতীয় রোগের প্রধান উপসর্গ।
(গ) বৃদ্ধির পশ্চাৎপদতা: গর্ভবতী মায়ের বয়স এবং নবজাত সন্তানের মধ্যে ডাউন্স উপসর্গ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে নীচের রেখাচিত্রের সাহায্যে তা ব্যাখ্যা করা হল:
#অডিওবুক
#বাংলা_অডিওবুক
#বিকাশমনোবিজ্ঞান