কিভাবে শিশুর কথার উন্নতি ঘটে || HUMAN DEVELOPMENT PSYCHOLOGY BANGLA || PSYCHOLOGICAL AUDIOBOOK ||

Description

#কথার_উন্নতি

দু'বছর বয়স হবার সাথে সাথে শিশুরা প্রথম বছরে ভাব বিনিময়ের একটি প্রচলিত নিয়ম প্রদর্শন করে। নিয়মটা হলো অর্থহীন শব্দ প্রয়োগ। প্রাক-শৈশবের প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ দু'বছর বয়সে শিশুরা অর্থহীন শব্দ অস্ফুটভাযা

ব্যবহার করে এবং এসময় কান্নাও অনেক কমে যায়। এ সময় তারা অঙ্গভঙ্গী কিম্বা ইশারার সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করতে চেষ্টা করে সত্যি তবে তা কথার পরিপূরক নয়, কি বলতে চাচ্ছে কেবল সেটাই বোঝায়। অবশ্য বিভিন্ন ধরনের আবেগময় প্রতিক্রিয়া করে এ বয়সে তারা একভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। মনোভাব প্রকাশের অন্যান্য পন্থার চেয়ে এ জাতীয় প্রতিক্রিয়া সবার কাছে গ্রহণীয়।

শৈশবের প্রথম পর্যায়ে অধিকাংশ শিশুর কথা বলার প্রবল আগ্রহের পিছনে দুটি কারণ দেখা যায়। প্রথমত তারা উপলব্ধি করে যে অন্যের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলা খুবই প্রয়োজনীয়। যেসব শিশু সঙ্গীদের সাথে অনায়াসে কথা বলতে পারে তারা কম কথা বলতে সক্ষম শিশুর চেয়ে অনেক ভালভাবে সকলের সাথে মেলামেশা করতে পারে ও সহজেই সমবয়স্কদের দলে সদস্যপদ লাভ করে। ছোট শিশু যারা স্কুল-পূর্ব বয়সে রয়েছে তারা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র অথবা নার্সারিতে আগত সহপাঠীদের মতো সুন্দরভাবে কথা বলতে না পারা পর্যন্ত সামাজিক পরিস্থিতি ও শিক্ষা জীবনে পিছিয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ত কথা বলতে শেখা স্বনির্ভরতা অর্জনের অন্যতম পন্থা। যেসব শিশু নিজের অভাব, চাহিদা অন্যকে বলতে পারে না অথবা নিজেকে অন্যের কাছে বোঝাতে পারে না তাদের সবাই 'অবোধ শিশু" (babyish) হিসাবে অনুকম্পা করে। কাঙ্খিত স্বাধীনতা এসব শিশু অর্জন করতে পারে না। শিশুরা যদি নিজে হাত দিয়ে কিছু কাটা, খাওয়া অথবা দাঁত পরিষ্কার ইত্যাদি কাজ করার ইচ্ছা মা-বাবা অথবা পরিচর্যাকারিনীকে না জানাতে পারে তবে তারা মনে করে যে শিশুটি এসব কাজ করার মতো যোগ্যতা এখনও অর্জন করে নি, সুতরাং কাজগুলো নিজে নিজে কিভাবে করতে হবে তা শিখতে চাচ্ছে না। অতএব তারা শিশুর ব্যক্তিগত করণীয় করে দেয়। এভাবে শিশুদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনতা অর্জনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

উপরের আলোচনায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে সুন্দরভাবে অন্যের সাথে যোগযোগ রক্ষা করার জন্য শিশুদের পক্ষে দুটি ক্ষমতা অর্জন অপরিহার্য। প্রথমটি হচ্ছে, অন্য ব্যক্তি তাকে কি বলছে তা ভালভাবে বুঝতে হবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সুন্দরভাবে কথা বলতে হবে যেন অন্য ব্যক্তি তার কথার অর্থ বুঝতে পারে। শিশু যেন কথা বলতে শেখে মা-বাবা ও পরিচর্যাকারী সাধারণত সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। সেজন্য সমবয়সী দলের স্বীকৃতি লাভের তাগিদের বশবর্তী হয়ে শিশু ভালভাবে অন্যের কথা বোঝার জন্য নিজেরাই সচেষ্ট হয়। অন্যের সাথে ভাব বিনিময়ের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যের বক্তব্য অনুধাবনের.....


#শিশুরযত্ন
#শিশুদেরশিক্ষা



#বিকাশমনোবিজ্ঞান

Details

263 Views
#কথার_উন্নতি

দু'বছর বয়স হবার সাথে সাথে শিশুরা প্রথম বছরে ভাব বিনিময়ের একটি প্রচলিত নিয়ম প্রদর্শন করে। নিয়মটা হলো অর্থহীন শব্দ প্রয়োগ। প্রাক-শৈশবের প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ দু'বছর বয়সে শিশুরা অর্থহীন শব্দ অস্ফুটভাযা

ব্যবহার করে এবং এসময় কান্নাও অনেক কমে যায়। এ সময় তারা অঙ্গভঙ্গী কিম্বা ইশারার সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করতে চেষ্টা করে সত্যি তবে তা কথার পরিপূরক নয়, কি বলতে চাচ্ছে কেবল সেটাই বোঝায়। অবশ্য বিভিন্ন ধরনের আবেগময় প্রতিক্রিয়া করে এ বয়সে তারা একভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। মনোভাব প্রকাশের অন্যান্য পন্থার চেয়ে এ জাতীয় প্রতিক্রিয়া সবার কাছে গ্রহণীয়।

শৈশবের প্রথম পর্যায়ে অধিকাংশ শিশুর কথা বলার প্রবল আগ্রহের পিছনে দুটি কারণ দেখা যায়। প্রথমত তারা উপলব্ধি করে যে অন্যের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলা খুবই প্রয়োজনীয়। যেসব শিশু সঙ্গীদের সাথে অনায়াসে কথা বলতে পারে তারা কম কথা বলতে সক্ষম শিশুর চেয়ে অনেক ভালভাবে সকলের সাথে মেলামেশা করতে পারে ও সহজেই সমবয়স্কদের দলে সদস্যপদ লাভ করে। ছোট শিশু যারা স্কুল-পূর্ব বয়সে রয়েছে তারা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র অথবা নার্সারিতে আগত সহপাঠীদের মতো সুন্দরভাবে কথা বলতে না পারা পর্যন্ত সামাজিক পরিস্থিতি ও শিক্ষা জীবনে পিছিয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ত কথা বলতে শেখা স্বনির্ভরতা অর্জনের অন্যতম পন্থা। যেসব শিশু নিজের অভাব, চাহিদা অন্যকে বলতে পারে না অথবা নিজেকে অন্যের কাছে বোঝাতে পারে না তাদের সবাই 'অবোধ শিশু" (babyish) হিসাবে অনুকম্পা করে। কাঙ্খিত স্বাধীনতা এসব শিশু অর্জন করতে পারে না। শিশুরা যদি নিজে হাত দিয়ে কিছু কাটা, খাওয়া অথবা দাঁত পরিষ্কার ইত্যাদি কাজ করার ইচ্ছা মা-বাবা অথবা পরিচর্যাকারিনীকে না জানাতে পারে তবে তারা মনে করে যে শিশুটি এসব কাজ করার মতো যোগ্যতা এখনও অর্জন করে নি, সুতরাং কাজগুলো নিজে নিজে কিভাবে করতে হবে তা শিখতে চাচ্ছে না। অতএব তারা শিশুর ব্যক্তিগত করণীয় করে দেয়। এভাবে শিশুদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীনতা অর্জনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

উপরের আলোচনায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে সুন্দরভাবে অন্যের সাথে যোগযোগ রক্ষা করার জন্য শিশুদের পক্ষে দুটি ক্ষমতা অর্জন অপরিহার্য। প্রথমটি হচ্ছে, অন্য ব্যক্তি তাকে কি বলছে তা ভালভাবে বুঝতে হবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সুন্দরভাবে কথা বলতে হবে যেন অন্য ব্যক্তি তার কথার অর্থ বুঝতে পারে। শিশু যেন কথা বলতে শেখে মা-বাবা ও পরিচর্যাকারী সাধারণত সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। সেজন্য সমবয়সী দলের স্বীকৃতি লাভের তাগিদের বশবর্তী হয়ে শিশু ভালভাবে অন্যের কথা বোঝার জন্য নিজেরাই সচেষ্ট হয়। অন্যের সাথে ভাব বিনিময়ের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যের বক্তব্য অনুধাবনের.....


#শিশুরযত্ন
#শিশুদেরশিক্ষা



#বিকাশমনোবিজ্ঞান

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার