মসলিনের বুনন পদ্ধতি ||মসলিনের ইতিহাস || ঢাকাই মসলিন || ড. আব্দুল করিম ||

Description

দ্বিতীয় অধ্যায় মসলিনের বুনন প্রণালী

যে কোনো বস্ত্র বয়নের তিনটি স্তর আছে-- কার্পাস সংগ্রহ, সুতা কাটা এবং কাপড় বয়ন। ঢাকাই মসলিনের বৈশিষ্ট্য এই ছিল যে, কার্পাস উৎপাদন থেকে আরম্ভ করে কাপড় তৈরি হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরেই ঢাকা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, বিদেশের উপর নির্ভরশীল ছিল না। ঢাকার মাটিতেই কার্পাস জন্মাত, ঢাকার তাঁতিরাই সুতা কাটত এবং বস্ত্র বয়ন করত। অনেক ক্ষেত্রে চাষি নিজেই তাঁতির কাজ করত এবং তাঁতি নিজেই ছুতার মিস্ত্রির কাজ করে নিজের তাঁত তৈরি করত। তাঁত তৈরির জন্যও কোনো বিদেশি জিনিষের প্রয়োজন ছিল না, কারণ তাঁতে ব্যবহারোপযোগী কাঠ-বাঁশও ঢাকার বুকেই জন্মাত। সামান্য লোহার প্রয়োজন হলেও দেশজ লোহা তার প্রয়োজন মিটাতে সক্ষম ছিল, তবে ঢাকার তাঁত এত সাধারণ ভাবে নির্মিত হতো যে কাঠ এবং বাঁশ এবং ছোট এক টুকরা লোহা তার প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট ছিল। তাঁতের জন্য কোনো দালান-কোঠারও দরকার ছিল না, কারণ বছরের অর্ধেক কাল খোলা আঙ্গিনাতেই তাঁতের কাজ চলত, প্রয়োজন অনুভূত হলে তাঁতির নিজ বাসগৃহে তাঁত সরিয়ে নেয়া বিশেষ দুরূহ কাজ

ছিল না।

মসলিনের যখন স্বর্ণযুগ, তখন প্রয়োজনের তাগিদেই মসলিন বুননের আনুষঙ্গিক সকল কাজ বিভিন্ন শ্রেণীর নিপুণ কারিগরদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। মসলিনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পুরণের জন্য নিপুণ তাঁতিরা একমাত্র বয়ন কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে মনযোগ দিতে অসমর্থ ছিল। সুতরাং একদল লোক উত্তরোত্তর বেশি কার্পাস উৎপাদনে মনোযোগ দেয়, অন্যদের কেউ হয়তঃ সুতা কাটা বা তাঁত নির্মাণে বা কাপড় বয়নে আত্মনিয়োগ করে। ফলে কার্পাস থেকে আরম্ভ করে কাটা সুতা বা তাঁত ইত্যাদি সকল কিছুই বাজারে বেচাকেনার জন্য মজুত থাকত। যাই হোক, একথা অনস্বীকার্য যে, ঢাকাই মসলিন পুরাপুরি দেশজ শিল্প, একমাত্র রপ্তানি ছাড়া আর কিছুর জন্য ঢাকাই মসলিন বাইরের জগতের উপর নির্ভরশীল ছিল না।

কার্পাস উৎপাদন ও সংগ্রহ

মসলিন বুননের উপযোগী সকল কার্পাস ঢাকা জিলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই জন্মাত। সাধারণতঃ পূর্ব বাংলার সর্বত্রই কমবেশি কার্পাস উৎপন্ন হতো।

#মসলিন
#ঢাকাই_মসলিন
#মসলিনেরইতিহাস
#মসলিনের_বুনন_পদ্ধতি
#অডিওবুক

Details

376 Views
দ্বিতীয় অধ্যায় মসলিনের বুনন প্রণালী

যে কোনো বস্ত্র বয়নের তিনটি স্তর আছে-- কার্পাস সংগ্রহ, সুতা কাটা এবং কাপড় বয়ন। ঢাকাই মসলিনের বৈশিষ্ট্য এই ছিল যে, কার্পাস উৎপাদন থেকে আরম্ভ করে কাপড় তৈরি হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরেই ঢাকা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, বিদেশের উপর নির্ভরশীল ছিল না। ঢাকার মাটিতেই কার্পাস জন্মাত, ঢাকার তাঁতিরাই সুতা কাটত এবং বস্ত্র বয়ন করত। অনেক ক্ষেত্রে চাষি নিজেই তাঁতির কাজ করত এবং তাঁতি নিজেই ছুতার মিস্ত্রির কাজ করে নিজের তাঁত তৈরি করত। তাঁত তৈরির জন্যও কোনো বিদেশি জিনিষের প্রয়োজন ছিল না, কারণ তাঁতে ব্যবহারোপযোগী কাঠ-বাঁশও ঢাকার বুকেই জন্মাত। সামান্য লোহার প্রয়োজন হলেও দেশজ লোহা তার প্রয়োজন মিটাতে সক্ষম ছিল, তবে ঢাকার তাঁত এত সাধারণ ভাবে নির্মিত হতো যে কাঠ এবং বাঁশ এবং ছোট এক টুকরা লোহা তার প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট ছিল। তাঁতের জন্য কোনো দালান-কোঠারও দরকার ছিল না, কারণ বছরের অর্ধেক কাল খোলা আঙ্গিনাতেই তাঁতের কাজ চলত, প্রয়োজন অনুভূত হলে তাঁতির নিজ বাসগৃহে তাঁত সরিয়ে নেয়া বিশেষ দুরূহ কাজ

ছিল না।

মসলিনের যখন স্বর্ণযুগ, তখন প্রয়োজনের তাগিদেই মসলিন বুননের আনুষঙ্গিক সকল কাজ বিভিন্ন শ্রেণীর নিপুণ কারিগরদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। মসলিনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পুরণের জন্য নিপুণ তাঁতিরা একমাত্র বয়ন কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে মনযোগ দিতে অসমর্থ ছিল। সুতরাং একদল লোক উত্তরোত্তর বেশি কার্পাস উৎপাদনে মনোযোগ দেয়, অন্যদের কেউ হয়তঃ সুতা কাটা বা তাঁত নির্মাণে বা কাপড় বয়নে আত্মনিয়োগ করে। ফলে কার্পাস থেকে আরম্ভ করে কাটা সুতা বা তাঁত ইত্যাদি সকল কিছুই বাজারে বেচাকেনার জন্য মজুত থাকত। যাই হোক, একথা অনস্বীকার্য যে, ঢাকাই মসলিন পুরাপুরি দেশজ শিল্প, একমাত্র রপ্তানি ছাড়া আর কিছুর জন্য ঢাকাই মসলিন বাইরের জগতের উপর নির্ভরশীল ছিল না।

কার্পাস উৎপাদন ও সংগ্রহ

মসলিন বুননের উপযোগী সকল কার্পাস ঢাকা জিলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই জন্মাত। সাধারণতঃ পূর্ব বাংলার সর্বত্রই কমবেশি কার্পাস উৎপন্ন হতো।

#মসলিন
#ঢাকাই_মসলিন
#মসলিনেরইতিহাস
#মসলিনের_বুনন_পদ্ধতি
#অডিওবুক

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার