নোটস ফ্রম দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড
অভিশাপ। বছরের পর বছর এই অভিশাপ আমাকে টেনে বেড়াতে হচ্ছে। এত যে ঝগড়া হয়, এত যে গালমন্দ করি, তবু তাকে ছাড়তে পারি না। তার অবশ্য বয়স হয়েছে। শুধু যে আমার বাড়িতে কাজ করে যায়, তা নয়। তার অন্য পেশাও আছে। অবসর সময়ে দর্জিগিরি করে টুকটাক উপার্জন করে। একেবারে ফেলনা নয় সে। তবু তাকে দেখতে পারি না। তাক দিকে তাকালেই গা জ্বলে যায়। মোটা কাচের চশমা পরে। উল্টোদিকে চুল আঁচড়ায়। একগাদা তেল মাখে রোজ। সেই তেল তার কপাল বেয়ে চুয়ে চুয়ে পড়ে। এরকম অদ্ভুত চরিত্র আর দেখি নি। আমি তাকে তাড়াতে চাই। তবে সে যায় না। আমার বাসায় সুখ নেই। ছোট বাসা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নেই। এ হচ্ছে আমার নিজস্ব জেলখানা। স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার খুপরি। গোপন গুহা। এখানে আমি নিজেকে লুকিয়ে রাখি। গুটিয়ে রাখি মানবসমাজ থেকে। তবু অ্যাপোলন যাবে না। এই বাসার একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে গেছে সে। সাতবছর চেষ্টা করেও তাকে তাড়াতে পারি নি।
বেতন দিতে দু-তিনদিন দেরি হলে বড়ই উৎপাত করে সে। আমিও মাঝে মাঝে অহেতুক ঝামেলা করি। কেবল তাকে শাস্তি দেবার জন্য। সব সময় অপেক্ষা করি-যতক্ষণ সে নিজমুখে বেতনের কথা না বলে। তারপর একান্ত অনিচ্ছার সঙ্গে ডয়ার থেকে বার করে দিই। তাকে বুঝিয়ে দিতে চাই, আমি প্রভু, সে ভৃত্য। প্রভুর কিছু শ্রদ্ধা পাওনা আছে। সে যদি শ্রদ্ধা দেখাত, বেতন নিয়ে ঝামেলা হত না।
তার চালাকি দেখে আমার পিত্তি জ্বলে যায়। সে জেনে গেছে, শেষ পর্যন্ত আমারই হার হবে। তাই সে সযত্নে নিজেকে আমার চোখের আড়াল করে রাখে। কোন দরকার হলে ভদ্রতা-সৌজন্যের ধার ধারে না, অনুমতিও নেয় না, আমার কামড়ায় ঢুকে পড়ে। তার এক বিশ্রী ভঙ্গি আছে দৃষ্টি আকর্ষণের। দু-হাত পিঠে বেঁধে এক-পা সামনে বাড়িয়ে দাঁড়ায়। অপলক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। যদি জিজ্ঞেস করি, তার কী চাই, উত্তর দেয় না। চুপচাপ তাকিয়ে থাকে। তারপর ঠোট মুচড়িয়ে বিড়বিড় করে কী বলে, কার বাপের সাধ্য বোঝে। তখন আমি বাধ্য হই খুঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করতে। যদি না করি সে বড় বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলতে শুরু করে। ভাবখান এই, কবে যে তার ছেলেমানুষ প্রভুর সুবুদ্ধির উদয় হবে।
#বাংলা_অডিওবুক
#অডিওবুক
#ফিওদরদস্তয়ভস্কি
#রুশ_উপন্যাস