Description
শৈশবের প্রথম পর্যায়
(Early Childhood)
৫.১ শৈশবের প্রথম পর্যায়ের বৈশিষ্ট্যাবলী
অনেকের কাছে শৈশব জীবনের এমন একটি দীর্ঘ সময় যে সময় ব্যক্তি বেশ অসহায় ও অন্যের উপর নির্ভরশীল। শিশুরা মনে করে যে শৈশব কখনো কখনো শেষ হবে না। তাই তারা সেই সুদিনের অপেক্ষা করে যখন সমাজ তাদের আর নাবালক হিসাবে না ভেবে "সাবালক" আখ্যা দেবে। শৈশবের শুরু প্রায় দু'বছর বয়সে যখন প্রাক-শৈশবকালের পরমুখাপেক্ষিতা অপেক্ষাকৃত কমে আসে। তখন থেকে যৌন পরিপক্বতা অর্জনের বয়স পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। মেয়েরা গড়ে আনুমানিক তেরো বছর বয়সে এবং ছেলেরা চৌদ্দ বছর বয়সে যৌন পরিপক্বতা লাভ করে। যৌন পরিপক্বতা অর্জনের পরে ছেলে-মেয়েকে তরুণ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। অতএব মোটামুটিভাবে মেয়েদের এগারো এবং ছেলেদের বারো বছরের পূর্ব পর্যন্ত শিশু হিসাবে গণ্য করা হয়।
এগারো অথবা বারো বছর ধরে বালক-বালিকাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে মানসিক ও দৈহিক পরিবর্তন চলে। প্রত্যেক বয়সে সমাজ নির্ধারিত বিশেষ বিশেষ যোগ্যতা অর্জনের প্রত্যাশা পূর্ণ করতে হয় বলে শৈশবের সূচনায় ও শেষ পর্যায়ে শিশুর আচরণে পার্থক্য দেখা দেয়।
সে কারণে শৈশবকে যে প্রাথমিক পর্যায় ও শেষ পর্যায় এ রকম দুটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পর্যায়ে বিভক্ত করা উচিত তা সর্বজনস্বীকৃত। প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী হারলকের মতে দু'বছর থেকে ছ'বছর পর্যন্ত বয় শৈশবের প্রাথমিক পর্যায় নির্দেশ করে এবং ছ'বছর থেকে শুরু করে যৌন পরিপক্বতা অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত সময়কে শৈশবের শেষ পর্যায় অথবা বাল্যকাল বলা যায়। তাই প্রাক-শৈশবের পরনির্ভরশীলতা ত্যাগ করে শিশুরা যখন ক্রমশ স্বাধীন হয়ে ওঠে সে সময় থেকে শুরু করে যখন সে স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয় তখনই শৈশবের প্রথম পর্যায় শেষ বলা যায়।
বিকাশ মনোবিজ্ঞান-১৪
#ধানমন্ডি৩২