.
সবাই ক্রিটিক্যাল থিংকার বা চিন্তক হতে চাইবার ফলে-
.
ক। ইসলামের মৌলিক বিষয় – ঈমান আমল সাহাবীদের জীবনী ইত্যাদির পরিবর্তে দর্শন, পাশ্চাত্যবাদ, নাস্তিকদের যুক্তি খন্ডন এসবের দিকে সবার মনোযোগ চলে গিয়েছে। অনেকের ঈমান আমল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
.
খ। সবাই মিলে চিন্তা করছে। কিন্তু কাজ করার লোক নেই। আগে যারা কাজ করত, ট্রেন্ডে ভেসে এখন তারাও চিন্তক হওয়া শুরু করছে।
পাশ্চাত্যবাদ ইত্যাদি নিয়ে লেখালেখি বা চিন্তা করার প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে সমাজের অল্পকিছু যোগ্য মানুষ এ কাজে নিয়োজিত হওয়াই যথেষ্ঠ। বাকীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞানটুকু রেখে সেগুলো ছড়িয়ে দিলেই চলে।
.
সবার আলেম হতে চাইবার ফলে-
.
বাংলাদেশে আলহামদুলিল্লাহ অনেক আলেম রয়েছেন। জেনারেল লাইনের একজন ভাই নতুন করে পড়াশোনা শুরু করলে আর একজন আলেম বৃদ্ধি পাবে। তবে এই ভাই একেবারে আলেম না হয়ে আলেমদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বেসিক ঈল্ম অর্জনের পর তার জাহেল ফ্রেন্ড সার্কেল বা পরিচিতদের মাঝে দাওয়াতের কাজ শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনি এমন কিছু মানুষদের কাছে ইসলামকে প্রেজেন্ট করতে পারবেন যাদের কাছে আলেম মানে হলো ব্যাকডেইটেড, ক্ষ্যাত, মূর্খ। এ ধরণের মানুষদের কাছে আলেমদের পৌছানো অসম্ভব। দুঃখজনক হলেও এটা বাস্তবতা। তো এভাবে ইসলামের দাওয়াহ আরও গতিশীল হতে পারে। নতুন নতুন অনেক মাত্রা আসতে পারে। পাকিস্তানের ইয়ুথ ক্লাব যেমন বহুমাত্রিক দাওয়াহ করছে জেনারেলদের মাঝে তেমন করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সবার আলেম হওয়া যদি জরুরি হতো তাহলে সাহাবীরা জ্ঞানের কেন্দ্র মদীনা ছেড়ে বিশ্বের বিভিন্ন ময়দানে ঝাপিয়ে পড়তেন না।
.
দেখুন কোনো কাজকেই ছোটো ভাববেন না। আল্লাহ সবাইকে সমান যোগ্যতা দিয়ে সৃষ্টি করেন নি। আপনি যদি ইমেজ বানানো, ভিডিও এডিটিং, পেইজের ইনবক্স সামলানো, পোস্ট আপলোড করার মতো কাজ করেন, তাহলে অন্য একজন ভাই (যাকে আল্লাহ যোগ্যতা দিয়েছেন) তিনি উপকারী বই লেখতে পারবেন।
.
আপনি যদি যোগ্য চিন্তক ব্যক্তিদের অনুসরণ করে ইসলামের কথা মানুষের কাছে নিয়ে না যান, যদি মাঠ পর্যায়ে কাজ না করেন, যদি কর্মী বা সংগঠকের ভূমিকা না নেন তাহলে চিন্তকের চিন্তা বইয়ের পাতাতেই আবদ্ধ থাকবে। সেগুলো মূল্যহীন হয়ে পড়বে। সমাজ পরিবর্তনের রোডম্যাপ আপনার সামনে আছে। প্রয়োজনীয় চিন্তক সমাজে উপস্থিত। এমন অবস্থায় আপনার চিন্তক হওয়ার কোনো দরকার আছে ইসলামের জন্য?
.
সমাজ পরিবর্তনের জন্য ১০০ জন লেখক বা ১০০ জন চিন্তকের পরিবর্তে ৫ জন লেখক ও ৯৫ জন সংগঠক/ কর্মী/দাঈ বেশী প্রয়োজন। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সময় থেকে নিয়ে শুরু করে প্রতিটি যুগেই প্রতিটি সমাজেই ইসলাম বা অন্য যেকোনো মতাদর্শ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে লেখক বা চিন্তকদের সংখ্যা ছিল কম। মাঠ পর্যায়ের কর্মী, সংগঠক দাঈদের সংখ্যা ছিল বেশী। তারা একেবারে ময়দানে থেকে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে। লেখক বা চিন্তকদের চাইতেও ইতিহাস পরিবর্তনে মূখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এটাই আসলে আল্লাহর সুন্নাহ। ২+২=৪ হওয়া, পানির পিপাসা মেটানোর ক্ষমতা, সূর্যের পূর্ব থেকে উদয় আর পশ্চিম দিকে অস্ত হয়ে যাওয়া … ইত্যাদি প্রাকৃতিক নিয়মের মতো এটাও একটি প্রাকৃতিক নিয়ম।
.
চার.
কোনো কাজই ছোটো নয়। সব কাজই গুরুত্বপূর্ণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্বাচিত হাদীসটি স্মরণ রাখুন:
“তাকে পাহারায় নিয়োজিত করলে পাহারায় থাকে আর (দলের) পেছনে পেছনে রাখলে পেছনেই থাকে” (সহিহ বুখারী-২৮৮৭)
.
অর্থাৎ যেখানেই তাকে দায়িত্ব দেয়া হোক, তিনি তা পালন করে যান এবং এগিয়ে যান। তিনি যদি সৈন্যদের পিছনে থাকেন তবে পিছনে থেকেই দায়িত্ব পালন করেন। আর যদি তিনি পাহারার দায়িত্ব পান তবে তিনি সে কাজও আঞ্জাম দেন। কারণ তাঁর উদ্দেশ্য হল ‘পুরষ্কার’ চাই তাঁকে যেখানেই রাখা হোক না কেন!।
.
খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা চিন্তা করুন। উনার কাছ থেকে সেনাপতির পদ নিয়ে অন্য এক সাহাবীকে দেওয়া হলো। উনি সংগে সংগে তা মেনে নিয়ে সাধারণ একজন সৈনিকের কাতারে নেমে আসলেন। কোনো প্রতিবাদ নয়, কোনো বিদ্রোহ নয়, কোনো কিছু নয়। কারণ তাঁরা বুঝেছিলেন- আল্লাহ পদ মর্যাদা, সম্মান খ্যাতি প্রভাব প্রতিপত্তি দেখেন না। আল্লাহ দেখেন অন্তরের ইখলাস।
.
দেখুন আপনি কি কাজ করেছেন সেটার চাইতে আপনার অন্তরের অবস্থা কেমন ছিল, নিয়্যত কি ছিল, ইখলাস কেমন ছিল এসবের উপর ভিত্তি করে বিচার হবে। তাই কোনো কোনো দরিদ্র সাহাবী এক টুকরো খেজুর দান করেও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রশংসা পেয়েছেন। আবার কোনো কোনো দানশীল ব্যক্তি প্রচুর দান করেও জাহান্নামে যাবে।
.
কাজের পরিমাণ, কাজের প্রকৃতি এসব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপনার নিয়্যত। মানুষের প্রশংসা, মনোযোগ,আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা, ক্ষমতা কোনো কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার কাজের ইখলাস। মানুষ জানলো কি জানলো না, মানুষ আপনাকে চিনলো কি চিনলো না, আপনার সাথে সেলফি তোলার আবদার করলো কি করলো না, কোনো মজলিশে আপনাকে আদর করে, সম্মান করে সামনে বসালো কিনা, আপনার হাজার হাজার ফ্যান ফলোয়ারস থাকলো