সাহাবায়ে কেরাম সকলেই আলিম ছিলেন না। কিন্তু তারা সকলেই দায়ী ও দ্বীনের খাদেম ছিলেন। সবাই লেখক বা চিন্তক ছিলেন না, কিন্তু আদর্শের প্রচারক ছিলেন।
মুসলিম সমাজকে এই বাস্তবতা ভালভাবে বুঝতে হবে। দ্বীন পালন ও দ্বীনের জ্ঞান লাভ করা মানেই আলেম হয়ে যাওয়া নয়। দ্বীনে ফেরা মানেই লেখক কিংবা চিন্তক হয়ে যাওয়া নয়।
হুজুগ ও শুহরতের লাল-নীল ফ্যান্টাসিতে না পড়ে প্রত্যককে নিজ বাস্তবতা বুঝতে হবে। নিজের মেধা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতাকে চিহ্নিত করতে হবে। তারপর সেই অনুযায়ী নিজেকে দ্বীনের জন্য কাজে লাগাতে হবে। সবাই যদি এক স্রোতেই প্রবাহিত হয় তাহলে তো দ্বীনের মোহনা বা জোয়ার সৃষ্টি হবে না। এরজন্য প্রয়োজন বিভিন্ন স্রোতে প্রবাহিত হয়ে এক মোহনায় এসে মিলিত হওয়া।
মুসলিম সমাজের একটি দল অবশ্যই আলেম, চিন্তক ও লেখক হবেন। কিন্তু সকল মুসলিমকেই দ্বীনের দায়ী এবং দ্বীনের সেবক হতে হবে।
বাংলাদেশে ইসলাম ও মুসলিমদের বিদ্যমান বাস্তবতায় প্রতিটি এলাকায় এলাকায় দায়ী এবং সংগঠকের প্রয়োজন। সংগঠক মানে দল গঠন করা নয়। বরং সার্কেল জোড়ানোর যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি উদ্দেশ্যে। ইসলামকে সামাজিকভাবে শক্তিশালী করতে এবং ইসলামের চাহিদাকে মূলধারায় পরিণত করতে এদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হবে।
জোর করে নিজেকে কিছু বানাতে যাওয়া সময়নষ্ট করা এবং দুষ্টুচক্রে আটকে যাওয়া ছাড়া কিছুই উপহার দিবে না। বরং নিজেকে আরো হতাশ ও কর্মোক্ষম করে তুলবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ইলম শেখার প্রতি মনোযোগী হোন। আলেমদের তত্ত্বাবধায়ন গ্রহণ করুন। নিজেকে কোন প্রকার ফ্যান্টাসি, ইলমী বিলাসিতা, চিন্তার কাল্পনিক সুখ, সোহবতের দুষ্টচক্রে আটকে ফেলবেন না এবং নিজের কর্মক্ষমতাকে ভোতা বানিয়ে ফেলবেন না। দায়িত্বশীল হোন, কর্মমুখী হোন এবং সচেতন হোন।
ইফতেখার সিফাত