বস্ত্তত কুরআন ও হাদীসের পরে অন্য কিছুকে ভুলের ঊর্ধ্বে বা চূড়ান্ত বলে গণ্য করা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরে অন্য কাউকে ভুলের ঊর্ধ্বে বলে গণ্য করা এবং কাশফ, ইলকা, স্বপ্ন ইত্যাদিকে ‘কারামত’ বা ব্যক্তিগত সম্মাননার পর্যায় থেকে বের করে ঈমান, আকীদা বা দীনের হক্ক-বাতিল নির্ণয়ের জন্য ব্যবহার করা আকীদার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির অন্যতম কারণ। ইমামগণ এরূপ প্রবণতার ঘোর আপত্তি করেছেন। ইমাম মালিক (রাহ) বলেন:
كُلُّ أَحَدٍ يُؤْخَذُ مِنْ قَوْلِهِ وَيُتْرَكُ إِلاَّ صَاحِبَ هَذَا الْقَبْرِ ﷺ.
‘‘এ কবরে যিনি শায়িত আছেন-রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া অন্য সকল মানুষের ক্ষেত্রেই তার কিছু কথা গ্রহণ ও কিছু কথা বর্জন করতে হয়।।’’
এজন্য আহলুস সুন্নাতের মূলনীতি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরে কোনো ব্যক্তির নিষ্পাপত্ব, অভ্রান্ততা বা বিশেষ জ্ঞানে বিশ্বাস না করা। তাঁরা কাশফ, ইল্হাম, ইত্যাদির অস্তিত্ব বিশ্বাস করেন এবং এগুলিকে ব্যক্তি মুমিনের জন্য ‘কারামত’ ও নিয়ামত বলে গণ্য করেন। কিন্তু এগুলোকে আকীদার ভিত্তি বা কুরআন-সুন্নাহর ব্যাখ্যার উৎস হিসেবে গ্রহণ করেন না। কোনো আলিম-বজুর্গই ‘মাসূম’ বা অভ্রান্ততার পদমর্যাদা পাবেন না। তার অনেক সঠিক মতের পাশাপাশি কিছু ভুল মত থাকবে এটাই স্বাভাবিক ও সুনিশ্চিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরে আর কারো কথাই নির্বিচারে গ্রহণ করা হয় না, কুরআন-সুন্নাহ দিয়ে বিচার করে গ্রহণ করতে হয়। কারো কথা দিয়ে কুরআন বা সুন্নাহ বিচার করা যায় না বরং কুরআন ও সুন্নাহ দিয়ে প্রত্যেকের কথা বিচার করতে হয়।