𝒎

𝒎𝒖𝒔𝒍𝒊𝒎𝒂𝒕𝒓𝒊𝒙

June 19, 2026 05:50 AM • 64 views • Original: November 11, 2022 02:31 AM
তাবলীগ (প্রচলিত ফরম্যাট) এর কাজটাকে যতদিন যাচ্ছে, পড়াশোনা বাড়ছে... ততই বেশি আমি 'উত্তরোত্তর প্রাসঙ্গিক' ও দরকারী ফীল করতেসি। বুঝেশুনে শুরু করিনি, তবে নজর যত বড় হয়েছে, এই কাজটাকে প্রশ্ন করেছি, বুঝতে চেয়েছি। পাশ্চাত্য দর্শন যত পড়তেছি, তার শক্ত প্রতিরোধ হিসেবে এই কাজটা ততই যৌক্তিক বলে প্রতিভাত হচ্ছে। ইলিয়াস সাহেব রাহিমাহুল্লাহকে আল্লাহ উত্তম জাযা দান করুন। তাঁর দূরদৃষ্টির ছিটেফোঁটা আল্লাহ আমাদেরকেও দান করুন।

আমার শক্ত আন্দাজ: দেশবিভাগের পর ইলিয়াস রহ. এর লক্ষ্য থেকে কাজটা কিছুটা বিচ্যুত হয়েছে এবং এটা স্বাভাবিক, কেউ দায়ী না। আরও খানিক বিচ্যুত হয়েছে পরে, কখন তা বুঝতে আরও পড়তে হবে। এটা ইতিহাসের স্বাভাবিক পরিণতি, এমন না যে এর জন্য কেউ দায়ী বা কাজটা গুরুত্ব হারিয়েছে। তা না।

আজকে একটা দিক নিয়ে ভাবনার উদয় হয়েছে, শেয়ার করি আপনাদের সাথে। পড়ার চেয়ে অনুভবকে ধারালো করতে হবে৷ অক্ষরবাদী পড়াশোনার লাভ সীমিত, পড়ে অনুভব করতে পারাটা আসল পাঠ। তাবলীগের সূত্রে উপযাচক হয়ে নানান শ্রেণীপেশার মানুষের কাছে যেতে হয়। চায়ের দোকানী থেকে নিয়ে বুয়েটের প্রোফেসর। রিকশাওয়ালা মামা থেকে নিয়ে চেয়ারম্যান- জেলা প্রশাসক অব্দি যাওয়া হয়েছে। মওলানা আবদুর রহিম রহ. এর কথাটা তীব্রভাবে সত্য: "অধিকাংশ মানুষের কোনো জীবনদর্শন নেই; এবং যার জীবনদর্শন নেই, বাইডিফল্ট তার জীবনদর্শনের (দীন) স্থান নেয় 'সেক্যুলারিজম'।" এবং বাই ডিফল্ট তার ইবাদত পুঁজিবাদ (পুঁজির বৃদ্ধি) ও জাতিবাদ। এবং তার ইলাহ 'লাইফস্টাইল', তার রব্ব 'চাকরি/ব্যবসা', তার জান্নাত 'বাপের চেয়ে উপরের লেভেলের ভোক্তা হওয়া' এবং তার জাহান্নাম হল 'লাইফস্টাইল নেমে যাওয়া'।

এই 'লাইফস্টাইল' ইলাহর পুঁজিবাদী উপাসনার বেদীতে কোনোকিছু কুরবান করতে তার দ্বিধা নেই। বাপ-মা, সন্তান, ভাই থেকে নিয়ে দীন-ধর্ম-চরিত্র-নীতি-শিক্ষা সব বলির পাঁঠা। দর্শনের ভারি খণ্ডন না, খুব সাধারণ দুটো বাক্যে তারা কাউন্টার দাওয়াহ দেয়। যে কথাটা চায়ের দোকানীও বোঝে, ভার্সিটির প্রোফেসরও বোঝে। অনুভব করতে হবে কথাদুটো।

" দুচোখে যা দেখি, সব মাখলুক (সৃষ্টি)। মাখলুক কিছুই করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন মাখলুক ছাড়া"। এরপর মাখলুকের নিজস্ব ক্ষমতাকে অস্বীকার করা হয়। পানি তেষ্টা মেটায় না, খাবার পেট ভরায় না, ওষুধ রোগমুক্তি দেয় না, আগুন পোড়ায় না, পানি ডোবায় না, ব্যবসা-চাকরি রিজিক দেয় না। সব আল্লাহ করেন। আল্লাহ হুকুম না দিলে যার যা করার কথা, সে তা করবে না৷ ইবরাহীমকে আগুন পোড়াবে না (হাতের রশি পুড়বে), ইসমাইলকে ছুরি কাটবে না (পাথর কাটবে)। যে বস্তুর পিছনে তুমি ছুটছো, সেই বস্তুর ক্ষমতা নেই তোমার প্রয়োজন মেটানোর। সুখ, প্রশান্তি, রোগমুক্তি এগুলো আল্লাহর তরফ থেকে আসে। আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম। খালিক চাইলে মাখলুক ছাড়াও দিতে পারেন, আগেও দিয়েছেন। এমন না যে ইহিতাসে নেই। আবারও করবেন। সুতরাং ইলাহ তো আল্লাহ, লাইফস্টাইল না। শিফা চাও, শাফীকে খুশি কর। রিযিক চাও, রাজ্জাককে মানাও। বিপদমুক্তি চাও, হাফিজকে মানাও। তাঁর হুকুম পালন করে তাঁকে রাজি করতে হয়। বস্তু ব্যবহার করাও তাঁর হুকুম। বস্তু থেকে লাভ পেতে নয়, বরং তাঁর হুকুম পালনার্থে বস্তু ব্যবহার কর৷ নিয়তকে তাঁর দিকে ঘুরাও, মনকে তাঁর দিকে ফিরাও। Give physical to physical... Give metaohysical to metaphysical. তাহলে শান্তি-সফলতা-প্রশান্তি-ফুরফুরে জীবন।

তোতাপাখির মত বলে কী লাভ? মেডিকেলে ভাইভা দিতে গেলে ডাকসাইটে সব ছাত্রের থটব্লক হয়ে যেত। তিনজন প্রোফেসরের সামনে একটা ছাত্র। হাজারবার জানা জিনিসও জবানে আসতে পেত না। এ থেকে মুক্তি পেতে স্যাররা বলতেন: 'গ্রুপস্টাডি করবা, বলে বলে পড়বা, মুখ চালু না হলে ডাক্তারি পাশ হবে না"। তেতাপাখির মত আউড়ে কী লাভ, সেটা বুঝে আসবে মুনকার-নাকীরের ভাইভাবোর্ডে। বলতে বলতে অন্তরে আসে, যিকিরের মত। আর অন্তরে যা আসে তাই কাজে প্রকাশ পায়, আমলে আসে৷ আমলে এলেই মুক্তি পাওয়া যায় ভোগবাদ, পুঁজিবাদ, ক্যারিয়ারিজমের জুলুম থেকে। জীবন হবে ফুরফুরে।

যে যে মানহাজেই থাকুন না কেন, মাঝে মাঝে তাবলীগে সময় দেন। অপছন্দের বেশকিছু বিষয় থাকলেও পছন্দ হবার মত জিনিসেরও অভাব নেই। সব তো আর খারাপ না। আমার মানহাজ হক, বাকি ভিন্ন মানহাজ থেকে কিছু ভালো জিনিস নিজের আমলে এলে তো লস নেই, তাই না?

আর সময় না দিতে পারলেও এই বাক্যদুটো দাওয়ার ভিতর ব্যবহার করুন। নিজেকে নিজে বলুন। একসময় মুক্তি আসবে 'লাইফস্টাইল' নামক ইলাহের গোলামি থেকে। আহ! কী সুখ।

Dr. Shamsul Arefin Shakti
April 2021 ( Facebook )
Back to Archive
Related Posts
Related Books (PDF)