একটি নন-থিউক্রেটিক (সেক্যুলার) রাষ্ট্র কি শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তির ধর্মতাত্ত্বিক (থিওলজিক্যাল) বিশ্বাসের কারণে তাকে শাস্তি দিতে বা নির্মূল করতে পারে? যতক্ষণ পর্যন্ত সেই বিশ্বাস বাস্তব অপরাধ, সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রূপ না নিচ্ছে, ততক্ষণ একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র কোন নীতিগত বা আইনগত ভিত্তিতে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে?
এ ধরনের আবেগনির্ভর বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত একটি সম্ভাব্য সরকারকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে, যা একসময় স্বৈরাচারী শাসনের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হতে পারে।
Afghanistan-এ Islamic Emirate of Afghanistan একটি থিউক্রেটিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের ভূখণ্ড শাসন করছে। সেখানে রাষ্ট্রের বৈধতার ভিত্তিই ধর্মীয় আইন। কিন্তু বিএনপি কি এমন কোনো ধর্মতাত্ত্বিক ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দাবি করে? যদি না করে, তাহলে একটি সেক্যুলার রাষ্ট্রে কেবল মতাদর্শ বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে দমন-পীড়নের নৈতিক বা সাংবিধানিক ভিত্তি কোথায়?
যিনি এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, তিনি একজন শিক্ষক। আমার জানা মতে, তিনি মুসলিম সমাজেও বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন। কিন্তু এখানে তিনি এমন একটি অবস্থান নিচ্ছেন, যা রাষ্ট্রের হাতে সীমাহীন ক্ষমতা তুলে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তৈরি করে। এটি দ্বিমুখী অবস্থান বলেই মনে হয়।
একটি ইসলামি রাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে খারেজি মতাদর্শ দমনের প্রশ্নটি তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রদর্শনের আলোচনার বিষয় হতে পারে। কিন্তু একটি সেক্যুলার রাষ্ট্রে, যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ বাস্তবে সন্ত্রাস, সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হচ্ছে, ততক্ষণ শুধুমাত্র তার ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্বাসের কারণে রাষ্ট্র কেন এবং কোন নীতির ভিত্তিতে ক্র্যাকডাউন করবে?
আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল: রাষ্ট্র এই ক্ষমতা পেল কোথা থেকে? কিন্তু তার পরিবর্তে এমন বক্তব্যের মাধ্যমে সেই ক্ষমতার পক্ষেই বৈধতার ন্যারেটিভ নির্মাণ করা হচ্ছে।
ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, রাষ্ট্রকে যদি কেবল বিশ্বাস বা মতাদর্শের ভিত্তিতে মানুষকে দমন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে সেই ক্ষমতা একসময় তার সমর্থকদের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়। আজ যাকে "সম্ভাব্য সন্ত্রাসী" বলা হচ্ছে, কাল একই যুক্তিতে অন্য কাউকেও বলা যেতে পারে, "তোমার ধর্মীয় বিশ্বাস আমার রাষ্ট্রীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে মেলে না, তাই তুমিও সম্ভাব্য হুমকি।" তখন আর নিরাপদ থাকবেন না সেই ব্যক্তিরাও, যারা আজ এই সীমাহীন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন। - মোঃ আবিরুজ্জামান মোল্লা (০৭-০৮-২০২৬)