জামাআতে ইসলামী মানহাযের লোকদের একটা সমস্যা হলো, তারা সবকিছু রাজনীতির দৃষ্টিতে দেখে। রাজনীতিকেই ইসলামের মূল বিষয় বলে তারা মনে করে। রাজনীতির স্বার্থে সব কিছুকে বৈধ মনে করে। (রাজনীতি বলতে সেক্যুলার ডেমোক্রেটিক রাজনীতি)
.
তাই আপনি দেখবেন, ইসলামপন্থীদের মধ্যে যারা সেক্যুলার ডেমোক্রেট রাজনীতি করে না, তাদের ব্যাপারে এ লোকরা খুবই হস্টাইল। এটা কওমি-সালাফি আলিমদের থেকে নিয়ে তাজদিদি ইসলামিস্ট—সবাইকেই তারা মূর্খ কিংবা খারেজি বা নানাকিছু মনে করে।
.
এই একই কারণে, তারা হারামকে হালাল বানায়, সব হারামের পক্ষে যুক্তি বের করে ফেলে, নিজের দলের ইমেইজ বাঁচাতে সাহাবাদেরকে তোহমত দেয়, ঢাবি সংসদ নির্বাচনে গ্লোরিফাইড ক্লাস ক্যাপ্টেন হওয়ার জন্য দ্বীনের মৌলিক বিষয়াশয় ছেড়ে দেয়, বদলে ফেলে।
.
যদিও মাওলানা মওদূদী রাহিমাহুল্লাহর দ্বীনের জন্য অনেক ভূমিকা আছে, কিন্তু এ চিন্তার ভিত্তি তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সালাত, সিয়াম থেকে নিয়ে কুরআনি অনেক পরিভাষাকেও তিনি প্রচলিত রাজনীতির সাথে গুলিয়ে ফেলেছিলেন।
.
তাই জামাআতের এ ধরণের কথার সমস্যা ব্যক্তির সমস্যা না। সমস্যা তাদের মানহায, উসূল ও তাদের প্রতিষ্ঠাতা তাত্ত্বিকের দৃষ্টিভঙ্গিতে। জামায়াত-শিবির দল হিসেবে এগুলো সমাধান করবে বলে মনে হয় না। কারণ তা করলে তাদের রাজনীতিই টিকে থাকে না।
.
কিন্তু জামাআত-শিবিরের মধ্যে যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর প্রকৃত অনুসরণ করতে চান, যথাযথভাবে দ্বীন বুঝতে চান, তাদের দ্বীনের মৌলিক উসুলে ফিরে আসা উচিত। ইসলামের এই রিচ সিলসিলা থেকে নিজের চিন্তা ও মতাদর্শ পরিশুদ্ধ করা উচিত।