I

Irfan Sadik

July 09, 2026 01:27 PM • 48 views • Original: June 16, 2026 10:04 AM
প্রবন্ধ
২০১৮ সালে বিশ্বখ্যাত পাবলিশার Routledge থেকে একটি বই প্রকাশিত হয়। বইটার নাম হলো—Islamophobia in Muslim Majority Societies. বইটা মূলত একটি স্কলারলি রিসার্চ ভলিউম। বেশ কিছু রিসার্চার বিভিন্ন মুসলিম দেশের ইসলামোফোবিয়া নিয়ে এখানে একেকটা অধ্যায় লিখেছেন।

ইসলামোফোবিয়া নিয়ে যখন আলাপ হয়, তখন সাধারণ পশ্চিমা বিশ্ব নিয়ে আলাপ হয়, যেখানে মুসলিমরা মাইনোরিটি। অর্থাৎ অমুসলিমরা মুসলিমদেরকে জুলুম করছ—এমন সিম্পলিফাইড ওয়েতে সাধারণত ইসলামোফোবিয়ার আলাপটা করা হয়।

এ বইয়ে তারা এ বিষয়টাকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন। পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, ইথিওপিয়ার মত নানা মুসলিমপ্রধার দেশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তারা বলেছেন, সেক্যুলার এলিট, পোস্ট কলোনিয়াল ইন্সটিটিউশন, সেক্যুলার জাতিরাষ্ট্র, মিডিয়া ও জাতীয়তাবাদি নানা প্রজেক্টও ইসলামোফোবিয়ার চর্চা করে এবং প্রচার করে।

পোস্ট কলোনিয়াল মুসলিম মেজোরিটি রাষ্ট্রগুলোর শাসনব্যবস্থা, ব্যুরোক্রেসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কলোনিয়ালিজমের সময় প্রতিষ্ঠিত কাঠামো। সে সময় তারা যে কাজ করে যাচ্ছিলো, পরেও তারা সে কাজই করছে—মুসলিমসহ জনসাধারণকে শোষণ করা এবং ইসলামকে আদারিং করে প্রতিরোধের স্পিরিটকে দমন করা।

উল্লেখ্য, এখানের যে এডিটর বা রিসার্চরা, তারা ইসলামিস্ট কেউ না। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের মত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারদের লেখা একটা রিসার্চ ভলিউম এটা।

দ্য পোস্ট, নেত্র নিউজের নাজমুল আহসানসহ অনেকেই ৯০% মুসলমানদের দেশে আদৌ ইসলামোফোবিয়া থাকতে পারে কিনা—এ আলাপটা করছেন। এ আলাপগুলো যারা করছেন তারা প্রায় সবাই হয় কলকাতাপন্থী বাঙালি জাতীয়তাবাদি অথবা পশ্চিমা সেক্যুলার মতাদর্শী লোকজন।

ব্যাপারটা অনেকটা হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্ট শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাজ্ঞদের কাছে এসে রেসিজম অস্বীকার করার মত। যারা জালিম, তারা তো তাদের জুলুমকে জুলুম মনে করবে না। তারা মনে করতে পারে আমরা এটা ডিজার্ভ করি। এমনকি তারা এ জুলুমকে মজলুমের প্রতি দেখানো ভালোবাসা বলেও মনে করতে পারে!

বাস্তবতা হলো, আমাদের এখানে ইসলামকে আদারিং করা, ইসলাম পালনকে নেতিবাচকভাবে চিত্রিত করা এবং প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদেরকে নানারকম বৈষম্য করার মত যে ইসলামবিদ্বেষী বিষয়গুলো ঘটে—সে বিষয়টা এসেছে দুটো ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে।

১. বেঙ্গল রেনেসাঁ এবং ব্রিটিশ-বিন্দু জমিদারদের মৈত্রী
২. পাকিস্তানবিরোধী বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান

ব্রিটিশরা তাদের সিভিলাইজেশনাল প্রজেক্টের অংশ হিসেবে এবং তাদের কাজ এগিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে মুসলিমদের মধ্যে একটা অংশ তৈরি করেছে, যাদের ব্যাপারে ম্যাকলের ভাষায় বললে “রক্ত মাংসে ভারতীয়, চিন্তা চেতনায় ব্রিটিশ”। তাদেরকেই নানা পর্যায়ে ক্ষমতা হ্যান্ড ওভার করে ব্রিটিশরা চলে গেছে।

ফলে আমরা যাদের মধ্যে ইসলামোফোবিয়া দেখি, এরা আদর্শিকভাবে ব্রিটিশ এবং প্রবল আত্মঘৃণা রাখা মুসলিম নামধারী। দ্য পোস্ট, নাজমুল আহসানরা এদেরই অংশ।

মুসলিমদেশে কাঠামোগত ইসলামোফোবিয়া থাকে—এটা অসংখ্য রিসার্চ ও ঘটনা দ্বারা প্রমাণিত। এটা যারা স্বীকার করে না, হয় তারা এটা স্বীকার না করে জুলুম চালিয়ে যেতে চায়, অথবা তারা মূর্খ।
Back to Archive
Related Posts
Related Books (PDF)