লিখেছেন:- ইফতেখার জামিল।
কেইসস্টাডি, ক
- তুরস্কে নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। কট্টরপন্থী সেকুলার বিরোধীদল ধর্মীয় ভোট বাড়াতে হিজাব সুরক্ষা আইন পাস করার ঘোষণা দিয়েছে। এরদোগান আরও এক কাঠি সরেস। এরদোগান বলেছে, ওয়েল, আসেন হিজাবকে সংবিধানে ঢুকিয়ে দেই। রাজি? এই কথায় বিরোধী দল ভয় পেয়ে পিছু হটেছে।
কেইসস্টাডি, খ
- তখন আমেরিকায় ট্রাম্পের যুগ চলছে। মুসলিম দা’য়ীরা বললেন, আমরা এই জুলুমে থাকতে চাই না। আমরা ডেমোক্রেটদের সমর্থন করবো। শুধু আমেরিকাই নয়, ইউরোপের দেশগুলোতেও মুসলমানরা ডেমোক্রেটদের ‘নাগরিক অধিকার’কে সমর্থন করে আসছিল। ইয়াকিনের মতো প্রতিষ্ঠানও বেশকিছু ভুল করেছিল, নাগরিক অধিকার হিসেবে তারা এবরশন-এল/ জি- বিটিকে ‘রাষ্ট্রীয় বৈধতা’ দিতে বাধ্য হয়েছিল।
দুই কেইস স্টাডি থেকে কি বুঝলেন? আপনি যদি রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হন, তবে আপনি আপনার ব্যাখ্যা, অবস্থান ও মতাদর্শে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হবেন। বাংলাদেশে মূলত এটাই শাহাবাগের সফলতা, ধারাবাহিকতা। ইশরাক তার লেখায় এটাই বলতে চেয়েছে। এই কথায় কি কোন ভুল আছে? ইশরাকের লেখাটা আবার পড়ুন, এই মূলকথার বাইরে আমি আর কিছু পাইনি। ইশরাক মোটেও কোন মুসলিম তরুণকে ‘শাহাবাগি’ ট্যাগ দেয়নি। সে বলেছে, এটি শাহাবাগের ধারাবাহিকতা, প্রভাব ; অনেকে বুঝে বা না বুঝে এই ফাঁদে পা দিচ্ছে। পুরো লেখা বাদ দিয়ে, একটা বাক্য নিয়ে পড়ে থাকলে হবে? পুরো লেখার সমালোচনা করুন, দ্বিমত জানান।
লিডস থেকে ইশরাকের একটা পেপার আসবে, সেটার মূল থিসিস ফাতেহের লেখাটায় চলে এসেছে। সুতরাং 'একটা শব্দ' দিয়ে মূল থিসিস উড়িয়ে দিলে সেটা হবে খুবই দুর্বল কাজ। ইতিহাসতত্ত্ব দিয়ে কেন 'ধর্ম-ধর্মীয় রাজনীতি' ব্যাখ্যা করা যাবে না, সে নিয়ে শীঘ্রই আমারও একটা পেপার আসবে, ইনশাআল্লাহ।
‘গরীব’/ ‘নারী’, এগুলো সামাজিক প্রপঞ্চ। সেকুলার সমাজবিদ্যায় এসব মেথডলজির বিস্তর প্রয়োগ ঘটে। তুহিন খান বুঝে অথবা না বুঝে ‘সামাজিক প্রপঞ্চ ও মেথডলজি’ দিয়ে ধর্ম-রাজনীতি ব্যাখ্যা করছেন, ফলে ভুল-ত্রুটি হচ্ছে, মৌলিকভাবে আমি এই কথায় একমত।
দুইটা দৃষ্টান্ত দেই : ফরহাদ মজহারের কুরবানি ব্যাখ্যা, ফারজানা মাহবুবার নারীবাদ বিতর্কে তুহিন মজহার ও মাহবুবার বয়ানের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। দেখুন, কুরবানি-নারীবাদ ব্যাখ্যায় তাদের পক্ষে কোন যুক্তি ছিল না, সেটা কিন্তু আমি মোটেই বলছি না। তবে মেথডলজির দিক থেকে দুটোই ‘সমাজতাত্ত্বিক মেথডলজির’ মাধ্যমে প্রভাবিত। ধর্মকে, ধর্মীয় ইতিহাস-রাজনীতি-পরিচয়কে আপনি কখনোই কেবল ‘সমাজতাত্ত্বিক মেথডলজি’ দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। বাংলাদেশে শাহাবাগের প্রভাবে এই ধারা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অনেকে ধর্মের ‘আকিদা’ অংশটুকু বাদ দিতে চাচ্ছেন।
তবে আমি ইশরাকেরও সমালোচনা করতে চাই। আমি মনে করি, শাহাবাগের প্রভাবকে ‘শাহাবাগি’ বলে দেয়াটা দোষনীয় কাজ। আমাদের পরিচিত অনেকেই ঝগড়ার একটা পর্যায়ে ধৈর্য হারাচ্ছেন। এটা মোটেই ভালো কথা নয়। আমেরিকার দৃষ্টান্তে ফিরে যাই। ইয়াকিন ভুল করেছে, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে আমি মনে করি, মেথডলজির ‘শক্ত’ সমালোচনা করলেও তাদেরকে বেনিফিট অব ডাউট দেওয়া উচিত। তবে বেনিফিট অফ ডাউট কেন ডাক্তার শক্তি পাবেন না, কেন গায়েবি মামলায় দেশছাড়া ছেলেটা ‘শাহাবাগি প্রভাবের’ সমালোচনা করলেই তাকে ‘আওয়ামীলীগ’ হয়ে যেতে হবে?
ইশরাক-ডাক্তার শক্তি-রাফান একটা নতুন ধর্মীয় ব্যাখ্যার প্রবক্তা, যাকে নিউ ট্রেডিশনালিজম হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। হুজাইফা মাহমুদকে আমি অনুরোধ করেছিলাম এই বিষয়ে লেখার জন্য। আমি মনে করি, হুজাইফার লেখাটা সবার অবশ্য পাঠ্য হওয়া উচিত। আমার মতই হুজাইফাও এই ব্যাখ্যার কিছু সমালোচনা করেছেন।
🖊 ইফতেখার জামিল
19 October, 2022
( Collected from fb )