ভারত বাংলাদেশে হিন্দুদেরকে কেন বারবার রাস্তায় নামাচ্ছে?
নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে ইতিহাস বলে, ক্রমাগত আন্দোলন হলো একটা র্যাডিকালাইজেশন প্রসেস। এর মানে বুঝতে হলে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে রুশ বিপ্লবী জুলিয়াস মার্টভের "অন এজিটেশন' প্যামপ্লেটে।
বলশেভিকরা শ্রমিকদেরকে আন্দোলনে যুক্ত করতে চায়। এজন্য তাদেরকে কম্যিউনিজমে দীক্ষিত করা দরকার ছিল। সেজন্য তারা কিছু শ্রমিককে এনে ক্লাস করানো শুরু করে। কিন্তু যত দিন যায়, লক্ষ্য করে, আসলে এভাবে কাজ হচ্ছে না। শত বছর লেগে যাবে।
তাই জুলিয়াস মার্টভ আনলেন এজিটেশনের তত্ত্ব। তত্ত্বটা খুব সিম্পলি বললে, শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতে করতে তাদেরকে এ চিন্তায় দীক্ষিত করা। অর্থাৎ শ্রমিকদেরকে সমস্যা নিয়ে বারবার পুঁজিপতি ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উষ্কে দেওয়া।
এর মাধ্যমে কয়েকটা অর্জন আসবে—
১. শ্রমিকদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি বাড়বে
২. তারা ক্রমশ পুঁজিপতি ও রাষ্ট্রকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করবে
৩. সহ শ্রমিক ভাইদের সাথে শ্রেণী মৈত্রী তৈরি হবে
৪. একসময় তারা বুঝতে পারবে, বারবার আন্দোলন করেও লাভ হচ্ছে না। দাবি আদায়ে তাই রাষ্ট্রকেই ফেলে দিতে হবে
পরিকল্পনাটা বেশ ভালো। লেনিনও তা পছন্দ করেছিল। এটা কাজেও দিয়েছিল।
এবার বারবার বাংলাদেশি হিন্দুদেরকে নামানোর লক্ষ্যগুলো এর সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন। বাংলাদেশে নানা ধরণের হিন্দু আছে। হিন্দুত্ববাদি তো আছেই, তবে অনেকেই মুসলিমদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখে। অনেকে লিবারেল, অনেকে বামপন্থী।
অনেকে জাস্ট কেয়ার করে না। সে তার জীবন নিয়ে আছে।
এখন তাদেরকে দিয়ে কিছু করাতে হলে তাদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি করতে হবে, মুসলিমদের সাথে শত্রুতা তৈরি করতে হবে, নিজেদের মধ্যে সংহতি তৈরি করবে, নিজেদের হিন্দু আইডেন্টিটির প্রতি সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
(উল্লেখ্য, এই আইডেন্টিটি হলো সাভারকারের তৈরি করা দ্য হিন্দু আইডেন্টিটি। এর সাথে হিন্দু ধর্ম কিংবা হিন্দুস্থানের বাসিন্দা হিসেবে হিন্দু পরিচয়ের সম্পর্ক নেই)
এজন্য লক্ষ্য করবেন, যে মিছিল বা সমাবেশ হচ্ছে, সেখানকার বক্তব্যগুলো খুবই উষ্কানিমূলক। মুসলিমদেরকে তাদের দেশ থেকেই বের করে দেওয়ার মত কথা বলা হচ্ছে। জায়গাগুলোতে নিজেদের ঐতিহাসিক দাবি আছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তাই বারবার তাদেরকে দিয়ে আন্দোলন করানোর ফলে কিছু উদ্দেশ্য অর্জিত হবে—
১. হিন্দুদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি বাড়বে
২. তারা ক্রমশ মুসলিমদেরকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করবে
৩. সহ হিন্দু ভাইদের সাথে মৈত্রী তৈরি হবে
৪. একসময় তারা বুঝতে পারবে, বারবার আন্দোলন করেও লাভ হচ্ছে না। দাবি আদায়ে তাই মুসলিমদের সাথে চুড়ান্ত সংঘাতে লিপ্ত হতে হবে
মার্টভদের লক্ষ্য ছিল কম্যিউনিস্ট বিপ্লব। ডিক্টেটরশিপ অফ দ্য প্রোলিটারিয়েট।
বারবার হিন্দুদেরকে রাস্তায় নামিয়ে এজিটেশন করা লোকদের আল্টিমেট লক্ষ্য কী? ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষে মদদে যা হচ্ছে, তাকে কি নিরীহভাবে দেখার সুযোগ আছে? নাকি বারবার এগুলো করার আল্টিমেট লক্ষ্য হলো অখন্ড ভারত?
ভেবে দেখুন।