গণতান্ত্রিক রাজনীতি নিয়ে মাওলানা মওদূদীর সেকেন্ড থট?
১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর, জামায়াতের জন্য নিজের বেছে নেওয়া পথ নিয়ে মওদুদী নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে এই অংশগ্রহণের জন্য তাঁদের বড় ধরনের খেসারত দিতে হয়েছিল। দলটি ততদিনে তার আদি সারল্য হারিয়ে ফেলেছিল; জড়িয়ে পড়েছিল নানা ধরনের আপসমূলক নৈতিক স্খলন ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা। এই চরম নৈতিক অবক্ষয়ের বিপরীতে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে উল্লেখ করার মতো কোনো নির্বাচনী সাফল্যও দলের জোটেনি।
রাজনীতি তখন এমন এক বিপজ্জনক জুয়ায় পরিণত হয়েছিল, যা নিয়ে সামনে এগোতে মওদুদী দ্বিধাবোধ করছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি জামায়াতের মজলিসে শূরাকে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা পুনর্মূল্যায়ন করার এবং প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে সরে আসার পরামর্শ দেন।
কিন্তু দলটি ততদিনে এতটাই রাজনীতিকীকরণের শিকার হয়েছিল যে, তাঁর এই পরামর্শ মেনে নেওয়ার মতো অবস্থায় আর ছিল না।
বিভিন্ন বিবরণ থেকে জানা যায়, নিজের হাতে গড়া এই দল নিয়ে মওদুদী চরম হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বলেছিলেন, “আমার যদি আগের মতো শারীরিক সামর্থ্য থাকত, তবে আমি সবকিছু একেবারে শূন্য থেকে আবার শুরু করতাম।”
আরেক বন্ধুকে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “ঐতিহাসিকরা যখন জামায়াত নিয়ে লিখবেন, তখন তাঁরা বলবেন যে, এটি ছিল স্রেফ আরও একটি তাজদিদ (নবায়ন) আন্দোলন—যার উত্থান হয়েছিল, আবার পতনও ঘটেছিল।”
Mawdudi and the Making of Islamic Revivalism by Vali Nasr