যৌনদাসত্বের বিষয়টা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটা ঐতিহ্য ও বটে, কিন্তু কেউ মনে রাখেনা। আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা যারা কলকাতায় পালিয়ে গেছিলো, তাদেরকে কেন্দ্রীয় সরকারের আদেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকার লেক সার্কাস এলাকার কিছু বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় এবং হাতখরচের জন্য মাসে মাসে ভাতা দেয়ার বন্দোবস্ত করে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেক উদ্বাস্তু মানুষজন যখন নানা সাহায্যের আশায় তাদের নেতাদের সাথে দেখা করতে যেতো, ঐসব প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় নানা ঘটনা জানা যায়। আওয়ামী লীগ নেতারা তখন দুপুর পর্যন্ত ঘুমাতো, তারপর বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বোতল নিয়ে বসতো। রাতে তাদের মনোরঞ্জন ও দেহরঞ্জনের জন্য বাংলাদেশী উদ্বাস্তু শিবির থেকে অল্পবয়সী মেয়েদেরকে আনা হতো। মহান মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের লালসা পূরণ করা ছাড়া এইসব অসহায় মেয়েদের অন্য কোন উপায় ছিলো না।
"আমার জানতে ইচ্ছে করে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের অভিজাত নাইট ক্লাবগুলোতে ‘বিয়ার হুইসকি' পানরত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মনোমুকুরে একবারও ভেসে উঠেছে কি না সেই গুলিবিদ্ধ কিশোর কাজলের কথা যে মৃত্যুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত চিৎকার করে ঘোষণা করেছে ‘জয় বাংলা'। আমার জানতে ইচ্ছে করে কলকাতায় বিশেষ এলাকায় যুবতী নারী সম্ভোগে অধীর কামাতুর ঐ সকল আওয়ামী লীগ নেতাদের মনোসরোবরে একবারও ভেসে উঠেছে কি যুদ্ধরত পূর্ব বাংলার পশু পাঞ্জাবী কর্তৃক ধর্ষিতা বাঙালী মা বোনের বীভৎস চেহারা?" - সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল।
"যে সকল মানুষকে দেশে থাকতে শ্রদ্ধা করতাম, কলকাতায় অনেকের আচরণ দেখে সরল বাংলায় যাকে বলে কিংকর্তব্যবিমুঢ়- তাই হতে হচ্ছে। এখনও তোমরা স্যার ডাকছ তার বদলে শালা বললেও অবাক কিছু ছিল না। এখানকার একটা সাপ্তাহিক খবরটা ছেপেছে। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রী নাকি সোনাগাছিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। জানেন তো স্যার, সোনাগাছি কি জন্য বিখ্যাত?…পুলিশ অফিসারের জেরার মুখে ভদ্রলোককে কবুল করতেই হল, তিনি ভারতে প্রবাসী সরকারের একজন মন্ত্রী। পুলিশ অফিসার তখন বললেন, তাহলে স্যারের গুডনেমটা বলতে হয়। মন্ত্রী বাহাদুর নিজের নাম প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে ভেরিফাই করে দেখে যে বক্তব্য সঠিক। পুলিশ অফিসারটি দাঁতে জিভ কেটে বললেন, স্যার কেন মিছিমিছি সোনাগাছির মত খারাপ জায়গায় নিজেকে নাহক ঝুট-ঝামেলার মধ্যে পড়বেন। আর ভারত সরকারের আতিথেয়তার নিন্দে করবেন। আগে ভাগে আমাদের স্মরণ করলেই পারতেন, আমরা আপনাকে ভিআইপি-র উপযুক্ত যায়গায় পাঠিয়ে দিতাম" - আহমদ ছফা।