সাংবাদিক Rajib Ahamod আজকে একটা পোস্টে বললেন,
"ইসলামপন্থিদের মধ্যে গণতন্ত্রে অংশ নেওয়া নিয়মতান্ত্রিক দল যেমন আছে, আবার গণতন্ত্রকে হারাম মনে করা উগ্রগোষ্ঠীও আছে। প্রথম পক্ষটি ব্যালটে বিশ্বাসী, দ্বিতীয়টি বুলেটে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রথম পক্ষের সহাবস্থান জরুরি। কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষটির স্থান নেই।
... যে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়, গণতন্ত্রে তার স্থান নেয়নি বাংলাদেশের দ্বিতীয় পক্ষটি যেহেতু বুলেটে বিশ্বাসী তো তাদেরও স্থান নেই। তাদের ধরে বিচার করাটা তাই মোটেও ইসলামবিদ্বেষ নয়। জঙ্গী নাটকও নয়।"
এ পোস্টে আবার এনসিপির নেতা Sarwar Tusher এরও লাইক আছে। কিছুদিন আগে সারওয়ার তুষারও এ ধরণের কথা ঢাকা স্ট্রিমের সাক্ষাৎকারে বলেন।
এখানে সাংবাদিক রাজিব আহমদের কথা শুনে বোঝা গেলো, ইসলামপন্থীদের মধ্যে দুইটা অংশ আছে। একটা গুড মুসলিম, আরেকটা ব্যাড মুসলিম।
গুড মুসলিম বা গুড ইসলামিস্ট হলো তারা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
আর ব্যাড মুসলিম বা ব্যাড ইসলামিস্ট মানে হলো যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। রাজিব আহমদের লেখায় ধরে নেওয়া হয়েছে এরা ডিফল্ট বুলেটে বিশ্বাসী। এদেরকে ধরে ধরে বিচার করতে হবে (যদিও এরা আইন ভেঙেছে এমন কিছু না)।
অর্থাৎ কারো কোনো কাজ করার প্রয়োজন নাই, আইন ভাঙার প্রয়োজন নাই, কেউ যদি বিশ্বাস করে গণতন্ত্র কুফরি—তাকে জেলে ভরো, শাস্তি দাও।
এটা তো বাজে রকম অরওয়েলিয়ান চিন্তা বটেই, সাথে এটা পুরোপুরি মিলে যায় ৯/১১ পরবর্তী সময়ে আমেরিকার প্রভাবশালী থিংক ট্যাংক RAND Corporation-এর সাথে। যারা মুসলিমদেরকে চারভাগে ভাগ করেছে। এর মধ্যে তাদের কাছে গুড মুসলিম হলো মডার্নিস্ট ও সেক্যুলারিস্ট মুসলিমরা।
তাদের বৈশিষ্ট্য কী?
এরা গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন, প্লুরালিজম, তাদের প্রেস্ক্রাইভড নারী অধিকার, হিউম্যান রাইটস ইত্যাদিতে বিশ্বাস করে। যারা তা করে না, এরা মৌলবাদি, ট্র্যাডিশনালিস্ট মুসলিম। আমেরিকার লড়াই মূলত এদের সাথেই।
র্যান্ড বলছে—মডার্নিস্ট ও সেক্যুলারিস্টদের সাথে আমেরিকার এলাই করতে হবে, যাতে করে "মৌলবাদি"দেরকে দমন করা যায়।
রাজিব আহমেদের মত সাংবাদিকরা যে বাংলাদেশে র্যান্ডের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে, এবং এনসিপির মত প্রভাবশালী দলের নেতারাও যে এসব এজেন্ডার সাথে একমত এবং এটা নিজেরাও বিশ্বাস করে, তা জেনে আশা করি আমেরিকা খুশীই হবে। ফান্ড আসবে।
গণতন্ত্র কুফরি বিশ্বাস করা—এটাকে ধরা হয়েছে জ/ঙ-ইবাদের স্ট্যান্ডার্ড। অথচ ট্র্যাডিশনাল অসংখ্য দেওবন্দী আলিম, সালাফি আলিমরা, ইভেন জামাআত-ইখওয়ানের প্রধান প্রধান তাত্ত্বিকরা সবাই মনে করতো গণতন্ত্র কুফরি। এটা নিয়ে দ্বিমত নেই।
এমনকি যারা গণতান্ত্রিক পন্থায় যান, এমন আলিমরাও গণতন্ত্রকে কুফরিই মনে করেন। দ্বিমতের জায়গা হলো, সেক্যুলার রাষ্ট্রকে উলটে দিতে গণতন্ত্রকে ব্যবহার করা হবে কি হবে না, যাবে কি যাবে না তা নিয়ে। হুকুম নিয়ে তেমন কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন নেই।
রাজিব আহমেদ ও সারওয়ার তুষারের সংজ্ঞা অনুসারে, বাংলাদেশে দেওবন্দি, সালাফি আলিম ও ছাত্রদের বড় অংশই হলো জঙ-ই।
এই হলো জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশ।
জুলাইয়ের দল ও সাংবাদিক থেকে নিয়ে রাজনীতিবিদরা শুধু আপনার বিশ্বাস ও কথার জন্য আপনাকে জেলে দেওয়া, শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে এডভোকেট করছে। জর্জ অরওয়েলের ডিস্টোপিয়ার মত শুধু চিন্তার কারণে আপনি ক্রিমিনালাইজড হচ্ছেন।
ভালো। চালিয়ে যান। আপনারা আমেরিকার থিংক ট্যাংকদের কথা অনুসারে কাজ করুন, আমরা করবো আল্লাহর কথা অনুসারে। দেখা যাক, কাকে আল্লাহ বিজয়ী করেন।
হাসবুনাল্লাহ।