ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিকতা আছে। প্রাতিষ্ঠানিকতা আছে বলেই ধর্ম সুশংঙ্খল। প্রত্যেক ধর্মের আছে রীতি-নীতি, বিধি-বিধান। রীতি-নীতি ও বিধি-বিধানের মাপকাঠি ধরেই মানুষের ধার্মিকতা মাপজোখ করা হয়। ধর্মীয় রীতি-নীতির মাপকাঠিতে বলে দেওয়া যায়, কে কতটা ধার্মিক। যে ধর্মীয় রীতি-নীতি মান্য করে আর যে মান্য করে না, দুয়ের ধার্মিকতা সমান নয়।
এসব ধর্মীয় রীতি-নীতি অস্বীকার করে, শৃঙ্খলা থেকে নিজেকে মুক্ত করেই মানুষ হয় নাস্তিক। নাস্তিকেরা নিজেদেরকে মুক্তমনা দাবি করে এই দৃষ্টিকোণে যে, তারা কোনো বিধি ও বিধানের অধীন নয়। তারা স্রেফ তাদের মনের অধীন। নাস্তিকেরা যেহেতু কোনো বিধানের অনুবর্তী নয়, সেই কারণে নাস্তিকদের খাঁটি-অখাঁটি নির্ণয় করা যায় না। খাঁটিত্ব নির্ণয় করা যেত, যদি তাদের কোনো কেন্দ্রীয় মাপকাঠি থাকত। যেহেতু এমন কিছু নেই, তাদের খাঁটি-অখাঁটি বলতে কিছু নেই। ফলে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাও নেই।
তবে প্রায়ই আনন্দের সঙ্গে লক্ষ করি, নাস্তিকদের মধ্যেও প্রাতিষ্ঠানিকতা গড়ে উঠেছে। অনলাইনে প্রায়ই খেয়াল করি, নাস্তিকেরা পরস্পরে ঝগড়া বাঁধলে কে কত বড় নাস্তিক প্রমাণ করতে হয়। একেকজন নিজের নাস্তিকতার খাঁটিত্ব প্রমাণের জন্য প্রাণপাত করে। যখন খাঁটিত্ব প্রমাণ করতে হয়, তখন একটা মাপকাঠি স্বীকার করতেই হয়। কোনো মাপকাঠি না থাকলে কীসের ভিত্তিতে খাঁটি-অখাঁটি নির্ণয় করবে!
আনন্দের কথা বলছি এজন্য যে, এই মাপকাঠি জিনিসটা ধর্মীয় অনুষঙ্গ। ধর্মে অবিশ্বাসীদেরকে ধর্মীয় অনুষঙ্গ মেনেই নিজের নাস্তিকতা প্রমাণ করতে হচ্ছে দেখে, কিছুটা পুলক অনুভব করি।
আসল কথা হলো, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন 'ফিতরাত' দিয়ে। ইসলামের এই 'ফিতরাত' শব্দটা ব্যাপক অর্থব্যঞ্জক। শব্দটার সহজ তরজমা হলো স্বাভাবিকতা। যা কিছু স্বাভাবিক, সব কিছু দিয়ে আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। যা কিছু অস্বাভাবিক, যা কিছু কৃত্রিম— তা মানুষের স্বভাবধর্ম নয়। মানুষের জন্য স্বাভাবিকতা হলো শৃঙ্খলার মধ্যে থাকা। এই শৃঙ্খলা আছে ধর্মে। কেউ যদি এই স্বাভাবিক শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে অস্বাভাবিক বিশৃঙ্খলা গ্রহণ করে, এই বিশৃঙ্খলাও তাকে করতে হবে কিছুটা নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। এই জিনিসটাই লক্ষ করছি নাস্তিকদের মধ্যে। অস্বাভাবিক নাস্তিকতাও ধর্মীয় রূপ পরিগ্রহ করেছে।
শেষ কথা হলো, কুল্লু শাইইন ইয়ারজিয়ু ইলা আসলিহ — সব কিছু তার মূলে ফিরে যাবে। যাচ্ছেও।
❏ আবুল কাসেম আদিল, ৯-১০-২০১৭
(নাস্তিকরা দাবি করছে, রকমারির সোহাগ খাঁটি নাস্তিক ছিলেন না। সে পরিপ্রেক্ষিতে আবার শেয়ার করলাম।)
From Facebook