I

Irfan Sadik

July 09, 2026 09:28 PM • 17 views • Original: July 04, 2026 11:32 AM
প্রবন্ধ
গত ১৫-২০ বছরে নারী পুরুষের সম্পর্কে একটা ড্রামাটিক শিফট এসে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটা পরিবর্তন হলো, উপকারের প্রশ্নে।

হলিউড, বলিউড কিংবা আমাদের দেশীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলুন, সবখানেই নারী-পুরুষের সম্পর্ক পুরোপুরি ফ্রয়েডিয়ান। যেকোনো ইন্টারএকশন আল্টিমেটলি প্রেমের সম্পর্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণ উপকার অপকার নেই।

- কোনো ছেলে কোনো মেয়েকে একটা বিষয়ে হেল্প করেছে। পরিণতিতে মেয়ে ছেলের প্রেমে পড়ে গেছে।

- কোনো মেয়ে কোনো ছেলেকে ইনসাল্ট করেছে। এর মানে মেয়ে মনে মনে ছেলেকে পছন্দ করে।

- মেয়ে কোনোভাবে ছেলের প্রতি কৃতজ্ঞ। ছেলের অন্তরে প্রতিদান হিসেবে প্রেমের আহ্বান বসে যাচ্ছে।

অবশ্য শুধু ফিল্ম সিনেমা না। নীল দুনিয়াতেও ব্যাপারটা মোটামুটি এভাবে কাজ করে। আধুনিক ফিল্ম-সিনেমা ও নীল দুনিয়ার নারী-পুরুষ সম্পর্কের ফিলোসফি যে মোটামুটি একই—এটা তারই একটা ইন্ডিকেশন।

ফলে যেটা হয়েছে, সমাজ থেকে নারী পুরুষের স্বাভাবিক সব ইন্টারএকশন হারিয়ে গেছে। সাধারণভাবে উপকারের ধারণা হারিয়ে গেছে। পুরুষ নারীকে সাহায্য করে পটাতে। নারীর জন্যও পুরুষকে সাধারণভাবেই বিশ্বাস করা টাফ হয়ে যায়।

এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই যারা সমাজের মোরাল ডিক্লাইন নিয়ে কনসার্নড, তাদের পক্ষেও এগুলো স্বাভাবিকভাবে দেখা আর সম্ভব হয় না।

সেক্যুলাররা যখন পুরুষ ও মহিলা সাহাবিদের স্বাভাবিক ইন্টারএকশন এনে ইসলামিস্টদের কড়াকড়ির বিরুদ্ধে দলিল দিতে চায়, তখন তা এ কারণে ভুল। সেসময় সামগ্রিকভাবে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এমন ফ্রয়েডিয়ান ছিলো না৷

সেক্যুলাররা তাদের ফিল্ম ও সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি, নীল দুনিয়া, (কু)সাহিত্যের মাধ্যমে এমন এক সমাজ তৈরি করেছে, যেখানে নারীর দেহ সব পরিচয় ছাপিয়ে প্রধান হয়ে ওঠে। আর পুরুষ হয়ে উঠেছে লালসায় আসক্ত এক প্রিডেটর।

ইসলামী সমাজ বাদই দিই, ২০০ বছর আগে, যখন ডিভাইসের এতো প্রসার ছিলো না, সেসময়ও সমাজে নারী-পুরুষের সম্পর্কের বিষয়টা এমন ছিল না। অথচ পর্দা তখনও সেভাবে স্ট্রিক্টলি ফলো করা হতো না।

ইসলাম এখানে সুন্দর সমাধান দেয়। ইসলাম পুরুষের সংযত দৃষ্টি নিশ্চিত করে, অশ্লীলতা প্রসারের মাধ্যমগুলোকে বন্ধ করে দেয়, নারীকে পর্দায় এনে নারীর দেহকে সমাজ ও পুরুষের চিন্তা থেকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়।

সমাজ থেকে যৌনতাকে যখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়, তখন সমাজ ও পরিবারে নারী-পুরুষের হারমনি তৈরি হয়। যৌনতার বাইরে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এভাবেই আল্লাহর বলা সেই সামাজিক সংহতি তৈরি হয়—

"আর মু’মিন পুরুষরা ও মু’মিনা নারীরা হচ্ছে পরস্পর একে অন্যের বন্ধু। তারা সৎ বিষয়ের শিক্ষা দেয় এবং অসৎ বিষয় হতে নিষেধ করে, আর সালাতের পাবন্দী করে ও যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলে।" [সূরা তওবা, আয়াত ৭১]

এভাবেই তৈরি হয় একটা সুন্দর সমাজ, যেখানে পুরুষ ও নারীর সম্মান, সম্ভ্রম ও চিন্তার পবিত্রতা নিশ্চিত হয়।
Back to Archive
Related Posts
Related Books (PDF)