ঢাবির কেমিস্ট্রির শিক্ষকের সাথে সম্পর্কিত পোস্টার দেখে সুশীলরা খুব বিনোদিত ও ট্রলে ব্যাস্ত। তারা ভেবেই পাচ্ছে না কীভাবে একজন প্রফেসর এমন অন্ধবিশ্বাসী, অবৈজ্ঞানিক ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হতে পারে। সুশীল হতে প্রাণপন চেষ্টা করা কেউ কেউ প্রফেসরের কম্মোকে ট্রল করে টেনে নিয়ে গেছেন কোনো এক ডাক্তারের কাছে। ধার্মিকদের এসব গাধামি দেখে তারা খুবই লজ্জিত।
আচ্ছা গাধামির দায়টা কী শুধু ধার্মিকদের ওপরই বর্তায়? কেন প্রগতিশীলদের ওপর বর্তায় না?
যেমন ধরুন, এসো হে বৈশাখ এসো এসো—কোন বৈজ্ঞান আমাদের জানাল যে বৈশাখ হইলো রক্তমাংসের মানুষ যারে ডাকলে সে উরি মা বলে চইল্যা আসবে? তাগো এই যে আহ্বান:
‘তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমুর্ষূরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। ’
এইটার পিছে কোন বৈজ্ঞান আছে? ‘তাপস নিঃশ্বাস বায়ে’ কথাটার মানে দেখলাম নির্মল বিশুদ্ধ বাতাস যাতে সকল রোগ-শোক উড়িয়ে নিয়ে যায়৷ আহারে, করোনা নির্মল বিশুদ্ধ বাতাসে বইয়া বইয়া এত্তগুলা মানুষের সানডে মানডে ক্লোজ করে দিল, আর হেতে বাতাস দিয়া রোগ উড়ায়া দিতাছে। হো মাই গাড!
আচ্ছা, আগুন দিয়ে গোছল কইরা ধরনী পবিত্র হইয়া যাইবো—এইটা কোন জামানার বৈজ্ঞান রে ভাই? অ্যাসগার্ড থেইকা থর বাবাজি নাইমা আইলেও তো এমন বৈজ্ঞান বাহির হইবে না।
আচ্ছা চেইতেন না, গান বাদ দিলাম। ইয়ে মানে মোমবাতি জ্বালায়া বা মশাল জ্বালায়া মিছিল কোনো।বৈজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত জানি? আগুন দিয়ে মৌলবাদের আস্তানা গুড়ায়া দেয়ার বাসনা যে প্রগতিবাজরা প্রকাশ্যে বলেন, সেইটা কী বৈজ্ঞান নাকি নাৎসীবাদ?
মঙ্গলশোভাযাত্রায় কত কিসের মূর্তি মুখোশ, গান বাজনা নিয়ে যাত্রা হয়! এসব যে খুব বৈজ্ঞান সম্মত তা তো আমরা জানি। বাতিঘর, পাঠক সমাবেশ কিবা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রোগ্রামে যে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালায়া সভা সেমিনার হয় সেইটার পিছে বৈজ্ঞান কী? আগুনের সামনে বা খাম্বার সামনে দাড়ায়া ফুল দেয়া—এইটা কোন বৈজ্ঞান? লাল রঙ মানে শহীদের রক্ত আর সবুজ রঙ মানে শ্যামল দেশ—এইটা কোনো বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারবে?
সুশীল হতে চাওয়ারা এখন প্রাণপনে বড়দের মান রক্ষায় বলবে আরে ভাই এইগুলা তো মেটাফোর।
হুম, তা কেমিট্রির প্রফেসর মেটাফোর করলেই দোষ। তার ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানদোষ ধরা যাবে শুধু।
দিনশেষে চালুনি বলে সূচরে, তোর পিছে কেন ছেদা?
রাফান আহমাদ
23/10/2022
From Facebook