I

Irfan Sadik

July 09, 2026 01:28 PM • 54 views • Original: June 21, 2026 04:33 PM
প্রবন্ধ
বাম থেকে ডান—সব ধরণের সেক্যুলাররা ওয়াহীর মত সত্য হিসেবে একটা কথা সবসময় প্রচার করে। তা হলো, ডারতীয় বিন্দুত্ববাদি রাজনীতি ও বাংলাদেশী ইসলামপন্থী রাজনীতি একই। দুটোই ধর্মীয় উগ্রবাদ। দুটোই সমানভাবে পরিত্যাজ্য, অনাকাঙ্খিত।

ইসলামপন্থী বলতে স্বাভাবিকভাবেই সেক্যুলাররা এমন যেকোনো মানুষ, প্রকল্প, চিন্তা বা কাজকে বোঝায়, যা সমাজ ও রাষ্ট্রে পূর্নাঙ্গভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত চায়।

ব্যাপারটা আসলেই এমন কিনা?

ডারতের যে বিন্দুত্ববাদ—একে পুরোপুরি একটা ধর্মীয় আন্দোলন বলার সুযোগ নেই। বিন্দুত্ববাদের প্রতিষ্ঠাতা সাভারকার নিজেও ধার্মিক ছিলেন না, ছিলেন নাস্তিক। এমনকি তিনি বিন্দুত্ববাদকে ধর্ম থেকে বের করে সভ্যতাগত সাংস্কৃতিক রূপ দিয়েছেন।

সেক্যুলার রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার প্রায়ই দেখা গেছে। বর্তমানে আমেরিকার রিপাবলিকান পার্টি ফার রাইটদের দ্বারা প্রভাবিত। ফার রাইটদের একটা বড় অংশই র‍্যাডিকেল খৃস্টান, যারা সেক্যুলার রাজনীতিকে ওয়েপনাইজ করছে।

মোটামুটি একই ধরনের অবস্থা দেখা যায় জায়নবাদি মুভমেন্টেও। সাভারকারের সাথে হার্জেলের, বিন্দুত্ববাদের সাথে জায়নবাদের এক অদ্ভুত মিল আছে।

বরং সেক্যুলার ডেমোক্রেসির মধ্যেই এমন অনেক হোল আছে, দিক আছে, যেগুলোকে জায়নবাদি, বা বিন্দুত্ববাদিদের মত আইডেন্টিটি পলিটিক্সগুলো এক্সপ্লয়েট করতে পারে। যেমন সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন, পপুলিজম, ডেমোগগারি, সংখ্যালঘুর দূর্বলতা।

এটা একটা দিক।

আরেকটা দিক হলো, ক্যাটাগরি এরর। ধর্ম এবং মতাদর্শ, থিওলজি ও আইডিওলজিকে আলাদা করা। এজন্য উগ্র সেক্যুলারিজম, উগ্র জাতীয়তাবাদ, উগ্র পপুলিজমের উত্থান নিয়ে কেউ কনসার্নড হয় না। কেননা এগুলো ধর্ম না।

অথচ ধর্ম আর মতাদর্শ মৌলিক দিক থেকে আলাদা কিছু না। দুটোই সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যাপারে ডিরেকশন দেয়। দুটোই মানুষকে জীবন চালানোর নিয়মনীতি দেয়। দুটোই নির্দিষ্ট ওয়ার্ল্ডভিউ দেয়। দুটোই অপ্রমাণযোগ্য নানা দিককে নিজের বেসিস ধরে নেয়।

শুধু পার্থক্য হলো—একটাতে স্রষ্টা বা রব আছে, আখিরাত আছে। আরেকটাতে নেই।

অথচ সেক্যুলারিজমও অপ্রমাণযোগ্য রাষ্ট্রের দেবত্ব, স্টেইট অফ ন্যাচার, সব মানুষ সমান, বিভিন্ন স্থাপনা, প্রতীক, ও দিনের পবিত্রতা, বিভিন্ন রিচুয়ালের মাধ্যমে মঙ্গল হওয়া, নানা ভবিষ্যদ্বাণী—অনেক কিছুই নানা মতাদর্শের লোকরা বিশ্বাস করে যা অপ্রমাণযোগ্য।

তাই এখানে দুটো বিষয়কে আলাদা করার কোনো কারণ নেই। সুযোগও নেই। শুধুমাত্র স্রষ্টা বা রবের যেকোনো হস্তক্ষেপ রোধ করতেই এ পৃথকীকরণ করা হয়।

অথচ বাংলাদেশেই ডারতের সমর্থন ও হস্তক্ষেপে উগ্র বাঙালি জাতিবাদ রাজ করেছে, বাংলাদেশকে শেষ করে দিয়েছে নানা দিক থেকেই। আবার দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার যে ঘটনা, সেটার অভিযোগের আঙ্গুলও কিন্তু বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদিদের দিকে।

সেগুলোকে কিন্তু সেক্যুলাররা বলবে না যে ডারতের কারণে উগ্র জাতিবাদের উত্থান হয়।

কিন্তু ডারতীয় আগ্রাসন যত প্রকাশ্য হয়, মানুষ কেন তত ইসলামের দিকে আসে?

কারণ সেক্যুলারিজম, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র সাধারণ মানুষকে ফাইটিং স্পিরিট দিতে পারে নাই। তাকে এমন কিছু দিতে পারে নাই, যেটা রক্ষা করতে সে লড়াই করবে। বিজয়ের সুসংবাদ দিতে পারে নাই। সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে পারে নাই।

সবচেয়ে বড় কথা, উমর রাদিআল্লাহু আনহু যেটা বলেছিলেন, তোমাদের কোনো মাওলা নাই, আমাদের মাওলা আছে।

আমাদের এক আল্লাহ আছেন, যিনি আমাদেরকে বিজয় দেবেন। আমাদের আল্লাহই আমাদেরকে রক্ষা করবেন। আমাদের আল্লাহই ডারতের কুফফ/রদের ধ্বসিয়ে দেবেন। আমরা আমাদের ওয়াদা রক্ষা করলে, আল্লাহও আমাদের প্রতি তার ওয়াদা রক্ষা করবেন।

আল্লাহই আমাদেরকে বলেছেন, “অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে।” [সূরা সফফাত: ১৭২-১৭৩]

তাই যতই খারাপ লাগুক, যখন ঘনকালো ঘুর্নিঝড় এগিয়ে আসে, সমুদ্রের ঠিক মাঝে যখন প্রবল ঝরে পাল ছিঁড়ে যায়, যখন হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে আকাশ, তখন মানুষ ঠিকই ফিরে আসবে তার সত্যিকার অভিভাবক, সত্যিকার রব আল্লাহ আযযা ওয়া যালের কাছে।

"...যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।" [সূরা সফ: ৮]
Back to Archive