ইউক্রেনের এই লড়াইয়ে কিন্তু আপনি মুসলিম সভ্যতাকে প্রায় অনুপস্থিত থাকতে দেখবেন। কারন দিনশেষে ট্রান্সআটলান্টিক বা সাইনো-রাশান অক্ষের যে সামর্থ্য, তার বিপরীতে মুসলিমদের সামর্থ্য অতি ক্ষীন, বাস্তবে ২০৫০-২০৮০ সালের আগে মুসলিম কোন রাষ্ট্রেরই আমেরিকা/রাশা বা চায়নার কারো সাথে টক্কর দেয়ার মত জায়গায় পৌছানো অসম্ভব যদি না তারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে একে অন্যকে পঙ্গু করে দেয়।
এজন্য একদিকে ইউক্রেন তুর্কী বায়রাকতার উড়ায়, অন্যদিকে রাশা ইরানী কামিকাজি উড়ায়, কিন্তু তুর্কী বা ইরান আদতে এই সংঘাতে কোন মেজর প্লেয়ারই না।
কিন্তু মতাদর্শ বা জীবনাদর্শ হিসেবে আমরা দেখি, মুসলিমরা কোন খেলোয়াড় না হলেও ইসলামই জায়োম্যাসনিক কনজুমারিজমের বিপরীতে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে হাজির হয়েছে।
আব্রাহামিক রিলিজিয়নগুলার শক্তি হচ্ছে, এই প্রতিটা রিলিজিয়নের অর্থডক্স মূল্যবোধগুলো মানবপ্রকৃতি তথা ফিতরাতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
কিন্তু পশ্চিমা অবাধ স্বাধীনতার জগতে এই প্রকৃতির ওপরে প্রবৃত্তির একপ্রকার আরোপিত জয়জয়কার দেখানো হয়। দেখানো হয় স্বাধীনতামূলক(!) লিবারেল কালচার অধীনতামূলক(??) কনজারভেটিভ কালচারের ওপর জয়ী এবং কনজারভেটিভ কালচার একটা রিপ্রেসিভ কালচার। বাস্তবে কিন্তু কনজারভেটিভ কালচারই সেন্সর্ড।
দেখা যাচ্ছে, সমস্ত কনজারভেটিভ ধর্মের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রতিরোধী ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। কারন ইসলাম খুব স্পষ্টভাবে ডিফাইন করে কোনটা মুসলিম ফেইথ আর কোনটা নন মুসলিম ফেইথ, কোনটা মুসলিম প্রিন্সিপাল, কোনটা নন মুসলিম, কি করলে আপনি মুসলিম থাকবেন, কি করলে থাকবেন না। অন্যান্য ক্ষেত্রে Woke ধর্মের সাথে ধর্মগুলো নিজেকে এলাইন করতে বাধ্য হচ্ছে, কিন্তু ইসলাম করেছে উল্টোটা, ইসলাম উলটো আরো প্রটেক্টিভ হচ্ছে।
পশ্চিমা পুরুষদের জীবন এবং নারীদের একটা বিরাট অংশের জীবন এই Woke স্যুডোরিলিজিয়ন জীবন্ত জাহান্নাম বানিয়ে দিয়েছে। ক্রমেই তারা শান্তি খুজে পাচ্ছেন ইসলামের ছায়ায়।
ইসলাম আধুনিক জীবনের যে উদ্দেশ্যহীন যাত্রা, তার গন্তব্যহীনতাকে দেখায়, এবং মানুষকে জানায় এমন এক উদ্দেশ্যের সন্ধান, যা জীবনকে অর্থ এনে দেয়।
এন্ড্রিউ টেইটকে আপনি গ্রহন করেন বা না করেন, এটা স্পষ্ট, পৃথিবীর ওপর চেপে বসা রিপ্রেসিভ টোটালিটারিয়ান নিওলিবারেলিজমের বিপরীতে মানবজাতিকে যদি ফের ঘুরে দাড়াতে হয়, তার অনুপ্রেরনা ইসলাম থেকে নিতে হবে।
বাংলাদেশী মরহুম বুদ্ধিজীবী শাহ আব্দুল হান্নান পশ্চিমা সভ্যতাকে বলতেন (খোদাহীন) নৈরাজ্যের সভ্যতা।
ট্রান্স আটলান্টিক জায়োম্যাসনিক এনার্কিস্ট নিওলিবারেলিজমের বিরুদ্ধে ইউরেশিয়ান আব্রাহামিক নিও অর্থডক্স ট্র্যাডিশনালিজমের যে গ্লোবাল সংঘাত, এই সংঘাতে দিনশেষে ধর্ম একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়েই থাকবে এবং একমাত্র অবিকৃত ধর্ম হিসেবে ইসলাম এখানে মানবত্বের পরম আশ্রয় হিসেবেই হাজির থাকবে, যদিও ইসলামের এই অবিকৃতি অনেক মুসলমানই(!?) আজকাল পছন্দ করছে না।
মুহাম্মাদ সজল
25 অক্টোবর 2022