যারা বিবর্তনবাদের উপর ভিত্তি করে নাস্তিকতার আদর্শ নিজেদের মাঝে ধারণ করে তাদের ঠিক কয়জনের কাছে প্রমাণসহ কনভিন্সিং উত্তর আছে যে প্রথম প্রাণের সৃষ্টি (জড় পদার্থ থেকে জীবনে রূপান্তর) আদৌ কিভাবে হয়েছে!
তাদের কয়জন আদৌ জানে বুঝে যে কিভাবে মানুষের মধ্যেই কেবল কনশাসনেস চলে আসলো যা দিয়ে মানুষ ন্যায়, অন্যায়, সত্য মিথ্যা যাচাই বাছাই করে, নিজ কৌতুহল এবং জ্ঞান বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে উন্নতি করতে করতে আজকের এই পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা কিনা অন্য কোন প্রাণির মাঝে দেখা যায়না!
তাদের ঠিক কয়জন প্রমাণসহ বলতে পারবে বিবর্তনের প্রক্রিয়ার প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে রুপান্তরের ধারা বজায় থাকলে বর্তমানে এমন কোন প্রাণি কেনো দেখা যায়না যারা কিনা এক প্রাণি থেকে অন্য প্রাণিতে রূপান্তরের মাঝামাঝি কোন পর্যায়ে আছে।
তারা কয়জন এটা স্পষ্টভাবে বলতে পারবে কেনো লাখো কোটি প্রজাতি মিলিয়ন বিলিয়ন বছরেও ওই এক প্রজাতিতেই অপরিবর্তিত থেকে গেছে, তাদের আর নেক্সট কোন পরিবর্তন আসেনি!
এইরকম হাজারো লাখো অজানা না বোঝা বিষয় থাকে প্রত্যেকটা বিশ্বাস এর পেছনেই। একজন আস্তিক যেমন সকল সৃষ্টি রহস্য জেনে বিশ্বাসী হয় এমন না, তেমনি একটা নাস্তিকও সব তথ্য প্রমাণ সহ জেনে বুঝে নাস্তিক এমন না। বিশ্বাসের ব্যাপারগুলো এমনই, আপনার কাছে সব প্রমাণ থাকবে না, থাকা সম্ভবও না।
কিন্তু দিন শেষে জীবনের সামগ্রিক চিত্র, ফিতরাত, পর্যবেক্ষণ, বাস্তবতার আলোকে একটা না একটা উপসংহারে আসতে হয় হাজারো লাখো না জানা বিষয় নিজের আদর্শের মাঝে থাকা সত্বেও, বা নিজ জানা বোঝার সীমাবদ্ধতা সত্বেও।
বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের হিপোক্রেসিটা হচ্ছে এই জায়গায় যে, তারা বিলিভারদের যেমন প্রমাণহীনতার দায়ে অভিযুক্ত করে, সেই একই অভিযোগে তারা পুরাই অভিযুক্ত আগে থেকেই, অথচ ভাব এমন যেনো তাদের কাছে সব প্রমাণ বিদ্যমাণ!
মাহফুজ আলামিন
22 অক্টোবর 2022