ক্লাস টেনের দিকে একজন শাইখের একটা লেখা পড়েছিলাম। লেখার হেডিং ছিল—ডিভোর্সকে সহজ করুন।
হেডিং দেখেই চমকে গেলাম। বলে কী উনি!
পরে লেখাটা পড়ে অনেক কিছুর সাথেই আসলে একমত হলাম।
আমাদের সমাজে বিয়ে তো কঠিনই, ডিভোর্সও একটা ট্যাবুর মত হয়ে গেছে। ডিভোর্স হওয়া মানুষদের (বিশেষ করে নারীদের) ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে আছে নেতিবাচক মানসিকতা। ডিভোর্স হওয়া মানেই তাদের সমস্যা আছে—এমন চিন্তা।
সাথে কারো ডিভোর্স হলে সমাজে চলতে থাকে নানা ধরণের কানাঘুষা, কারণ খোঁজার তদন্ত। আর এরা কেউ পাবলিক ফিগার হলে তো কথাই নেই!
এমনকি বাংলাদেশে মিডল ক্লাসে বিয়েগুলো হয় তালাক না হওয়ার চিন্তাকে কেন্দ্র করে। মধ্যবিত্ত ছোট পরিবারগুলোতে বিয়ের সময়ে পাহাড় সমান মোহরানা নির্ধারণ করার একটা বড় কারণ হলো ছেলে যাতে মেয়েকে তালাক দিতে না পারে।
কিন্তু সাহাবাদের সময় থেকেই ইসলামী সমাজে আমরা দেখি, ডিভোর্স এতো কঠিন ছিল না।
কারো যদি নিজেদের মধ্যে না মিলে, তাদের মনে হয় মানসিকতা মিলছে না, এভাবে থাকলে বিয়ের উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না, কিংবা জীবনটা টক্সিক হয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে তারা ডিভোর্স হয়ে নিতো। এরপর সব দিক থেকে আরেকটা বিয়ে করে নিতো।
এগুলো এতো বড় বিষয় ছিল না। পুরো সমাজ এটাতে কানাঘুষায় যুক্ত হয়ে যেতো না।
ইসলামে বিয়ে টেকা না টেকার উপরে কারো দ্বীনদারিতা নির্ভর করে না। রাসূলুল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রীদের একজন, যায়নাব বিনতে যাহশ রাদিআল্লাহু আনহারও তালাক হয়েছিল। অনেক মহিলা সাহাবারই এমন ধরণের ঘটনা আমরা লক্ষ্য করি।
তাই যেকারো তালাক বা ডিভোর্সের ব্যাপারে এতো কথা বলা, এতো কারণ খোঁজা, এতো সময় নষ্ট করার কোনো মানে নেই। বিশেষ করে, যখন ডিভোর্স কেন হয়েছে—সেটা তারা প্রকাশ্যে এনে বিষয়টা নোংরা না করার মত আত্মমর্যাদা বজায় রেখেছে।
ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সেভাবেই থাকুক।