Description
বাল্যকাল: শৈশবের শেষ পর্যায়
৬.১ বাল্যকালের বিস্তৃতি
ছ-বছর থেকে শুরু করে যৌন পরিপক্বতা অর্জন না করা পর্যন্ত বয়সকে শিশু মনোবিজ্ঞানীরা শৈশবের শেষ পর্যায় হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। প্রচলিত, ধারণা অনুযায়ী জীবনের এ বয়সটিকে বাল্যকাল বলা যেতে পারে। এ বয়সটির সূচনায় এবং শেষ পর্যায়ে বিশেষ কিছু ক্ষমতার উন্মেষ হয় যা বালক-বালিকাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক অভিযোজনের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
এ বয়সে শিশুর জীবনে প্রধান পরিবর্তন হলো পাঁচ/ছয় বছর বয়সে শিশু প্রথম আবশ্যিকভাবে স্কুলে যাওয়া শুরু করা। অধিকাংশ শিশুর জন্য ছক বাঁধা জীবনে এটি একটি প্রধান পরিবর্তন। শিশু শ্রেণীতে ভর্তি হলে পরিবেশের সাথে সঙ্গতি-বিধান করতে যেয়ে শিশুদের আচরণের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
সেজন্য এদের মধ্যে আবেগের প্রধান্য ঘটে এবং এ বয়সে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা মুশকিল হয়ে পড়ে। শিশুদের জীবনে শিশুশ্রেণীতে প্রবেশ জীবনের পরিবর্তন নির্দেশক ফলক (mile stone)। অতএব স্কুল জীবনের শুরু শিশুদের মনোভাব, মূল্যবোধ আচরণ পরিবর্তনের জন্য দায়ী বলা চলে।
শৈশবের শেষের দু'এক বছরে যে দৈহিক পরিবর্তন সংঘটিত হয় তার কারণে মনোভাব, মূল্যবোধ ও আচরণের পরিবর্তন হয়। এই রকম পরিবর্তিত আচরণধারা নিয়ে শিশুরা তরুণ বয়সে পদার্পণ করে। শৈশবের শেষে যে দৈহিক পরিবর্তন হয় তাতে শিশুর প্রতিষ্ঠিত জীবনধারা ব্যাহত হওয়ায় সাময়িক অস্থিরতা দেখা দেয়। আবার যখন ও পরিবর্তনের সাথে নিজেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারে তখন আচরণের ভারসাম্য রক্ষা হয়।
শৈশবের শেষ পর্যায় কখন শুরু হয়েছে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হলেও কখন এর পরিসমাপ্তি হচ্ছে তা নির্ধারণ অসম্ভব কেননা যৌন-পরিপক্কতা অর্জনকে শৈশব ও কৈশোরের মধ্যবর্তী সীমারেখা হিসাবে ব্যবহার করার রীতি প্রচলিত থাকায় এবং যৌন পরিপক্কতা অর্জনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচী নেই.......
#মনোবিজ্ঞান
#বিকাশমনোবিজ্ঞান