বাংলার সেন সাম্রাজ্যের ইতিহাস,বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত।

Description

সেন রাজবংশ

১। উৎপত্তি

সেনরাজগণের পূর্বপুরুষগণ দাক্ষিণাত্যের অন্তর্গত কর্ণাটদেশের অধিবাসী ছিলেন। মহারাষ্ট্র ও হায়দ্রাবাদ অঞ্চলের দক্ষিণ এবং মহীশূর রাজ্যের উত্তর ও পশ্চিম ভাগ প্রাচীন কর্ণাটদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেনরাজগণের শিলালিপি অনুসারে তাঁহারা চন্দ্রবংশীয় এবং ব্রহ্মক্ষত্রিয় ছিলেন। বাংলা দেশের প্রাচীন কুলজী- গ্রন্থে তাঁহাদিগকে বৈদ্যজাতীয় বলা হইয়াছে। আধুনিক কালে তাঁহাদিগকে কায়স্থ এবং বাংলা দেশের অন্যান্য সুপরিচিত জাতিভুক্ত বলিয়া প্রতিপন্ন করিবার চেষ্টা হইয়াছে। কিন্তু এ বিষয়ে সমসাময়িক লিপিতে তাঁহাদের নিজেদের উক্তিই সত্য বলিয়া গ্রহণ করিতে হইবে। সুতরাং সেনারাজগণ যে জাতিতে ব্রহ্মক্ষত্রিয় ছিলেন, সে সম্বন্ধে সন্দেহ করিবার কোন কারণ নাই। বাংলা দেশে আসিবার পর তাঁহারা হয়ত বৈবাহিক সম্বন্ধ দ্বারা বৈদ্য অথবা অন্য কোন জাতির অন্তর্ভুক্ত হইয়াছিলেন, কিন্তু এ সম্বন্ধে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না।

ব্রহ্মক্ষত্রিয় একটি সুপরিচিত জাতি। অনেকে মনে করেন যে, প্রথমে ব্রাহ্মণ ও পরে ক্ষত্রিয় হওয়াতেই এই জাতির এরুপ নামকরণ হইয়াছে। সেনরাজগণের এক পূর্বপুরুষ ব্রহ্মবাদী বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছেন। এই সময় কর্ণাটদেশে (বর্তমান ধারবাড় জিলায়) সেন উপাধিধারী অনেক জৈন আচার্যের নাম পাওয়া যায়। ইহারা সেনবংশীয় বলিয়া অভিহিত হইয়াছেন। কেহ কেহ অনুমান করেন যে, বাংলার সেনরাজগণ এই জৈন আচার্যবংশে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে তাঁহারা জৈনধর্ম ত্যাগ করিয়া শৈবধর্ম ও পরবর্তী কালে ধর্মচর্যার পরিবর্তে শস্ত্রচর্যা গ্রহণ করেন। দাক্ষিণাত্যের হোয়সল রাজবংশে বল্লাল নামধারী একাধিক রাজা ছিলেন। বাংলার সেনবংশেও বল্লালসেন নামে এক রাজা ছিলেন। ইহা হইতে কেহ কেহ সেনদের সহিত তাঁহাদের সন্ধ স্থাপন করিয়াছেন। এই সমুদয় অনুমান কতদূর সত্য,

তাহা বলা কঠন।

সেনরাজগণ কোন সময়ে বাংলা দেশে প্রথম বসতি স্থাপন করেন, সে সম্বন্ধে সেনরাজগণের লিপিতে যে দুইটি উক্তি আছে, তাহা প্রথমে পরস্পর-বিরোধী বলিয়াই মনে হয়। বিজয়সেনের দেওপাড়া লিপিতে কথিত হইয়াছে যে, সামন্তসেন রামেশ্বর সেতুবন্ধ পর্যন্ত বহুদ যুদ্ধাভিযান করিয়া এবং দুর্বত্তে কর্ণাটলক্ষক্ষ্মীল, ঠনকারী শত্রুকুলকে ধ্বংস করিয়া শেষ বয়সে গঙ্গাতটে পুণ্যাশ্রমে জীবনযাপন করিয়াছিলেন। ইহা হইতে স্বতঃই অনুমিত হয় যে সামন্তসেনই প্রথমে কর্ণাট হইতে বঙ্গদেশে আসিয়া গঙ্গাতীরে বাস করেন। কিন্তু বল্লালসেনের নৈহাটী তাম্রশাসনে উত্ত হইয়াছে যে, চন্দ্রের বংশে জাত অনেক রাজপুত্র রাঢ়দেশের অলঙ্কারস্বরূপ ছিলেন ও তাঁহাদেরই বংশে সামন্তসেন জন্মগ্রহণ করেন। এখানে স্পষ্ট বলা হইয়াছে সামন্ত- সেনের পূর্বপুরুষগণ রাঢ়দেশে প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছিলেন। এই দুইটি উত্তির সামঞ্জস্য সাধন করিতে হইলে বলিতে হয় যে, কর্ণাটের এক সেনবংশ বহুদিন যাবৎ রাঢ়দেশে বাস করিতেছিলেন, কিন্তু তাঁহারা কর্ণাট দেশের সহিতও সম্বন্ধ রক্ষা করিয়া আসেতেছিলো।

#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#historyofbengal
#বাংলা
#অডিওবুক
#ইতিহাস
#history
#সেনরাজবংশ

Details

426 Views
সেন রাজবংশ

১। উৎপত্তি

সেনরাজগণের পূর্বপুরুষগণ দাক্ষিণাত্যের অন্তর্গত কর্ণাটদেশের অধিবাসী ছিলেন। মহারাষ্ট্র ও হায়দ্রাবাদ অঞ্চলের দক্ষিণ এবং মহীশূর রাজ্যের উত্তর ও পশ্চিম ভাগ প্রাচীন কর্ণাটদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেনরাজগণের শিলালিপি অনুসারে তাঁহারা চন্দ্রবংশীয় এবং ব্রহ্মক্ষত্রিয় ছিলেন। বাংলা দেশের প্রাচীন কুলজী- গ্রন্থে তাঁহাদিগকে বৈদ্যজাতীয় বলা হইয়াছে। আধুনিক কালে তাঁহাদিগকে কায়স্থ এবং বাংলা দেশের অন্যান্য সুপরিচিত জাতিভুক্ত বলিয়া প্রতিপন্ন করিবার চেষ্টা হইয়াছে। কিন্তু এ বিষয়ে সমসাময়িক লিপিতে তাঁহাদের নিজেদের উক্তিই সত্য বলিয়া গ্রহণ করিতে হইবে। সুতরাং সেনারাজগণ যে জাতিতে ব্রহ্মক্ষত্রিয় ছিলেন, সে সম্বন্ধে সন্দেহ করিবার কোন কারণ নাই। বাংলা দেশে আসিবার পর তাঁহারা হয়ত বৈবাহিক সম্বন্ধ দ্বারা বৈদ্য অথবা অন্য কোন জাতির অন্তর্ভুক্ত হইয়াছিলেন, কিন্তু এ সম্বন্ধে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না।

ব্রহ্মক্ষত্রিয় একটি সুপরিচিত জাতি। অনেকে মনে করেন যে, প্রথমে ব্রাহ্মণ ও পরে ক্ষত্রিয় হওয়াতেই এই জাতির এরুপ নামকরণ হইয়াছে। সেনরাজগণের এক পূর্বপুরুষ ব্রহ্মবাদী বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছেন। এই সময় কর্ণাটদেশে (বর্তমান ধারবাড় জিলায়) সেন উপাধিধারী অনেক জৈন আচার্যের নাম পাওয়া যায়। ইহারা সেনবংশীয় বলিয়া অভিহিত হইয়াছেন। কেহ কেহ অনুমান করেন যে, বাংলার সেনরাজগণ এই জৈন আচার্যবংশে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে তাঁহারা জৈনধর্ম ত্যাগ করিয়া শৈবধর্ম ও পরবর্তী কালে ধর্মচর্যার পরিবর্তে শস্ত্রচর্যা গ্রহণ করেন। দাক্ষিণাত্যের হোয়সল রাজবংশে বল্লাল নামধারী একাধিক রাজা ছিলেন। বাংলার সেনবংশেও বল্লালসেন নামে এক রাজা ছিলেন। ইহা হইতে কেহ কেহ সেনদের সহিত তাঁহাদের সন্ধ স্থাপন করিয়াছেন। এই সমুদয় অনুমান কতদূর সত্য,

তাহা বলা কঠন।

সেনরাজগণ কোন সময়ে বাংলা দেশে প্রথম বসতি স্থাপন করেন, সে সম্বন্ধে সেনরাজগণের লিপিতে যে দুইটি উক্তি আছে, তাহা প্রথমে পরস্পর-বিরোধী বলিয়াই মনে হয়। বিজয়সেনের দেওপাড়া লিপিতে কথিত হইয়াছে যে, সামন্তসেন রামেশ্বর সেতুবন্ধ পর্যন্ত বহুদ যুদ্ধাভিযান করিয়া এবং দুর্বত্তে কর্ণাটলক্ষক্ষ্মীল, ঠনকারী শত্রুকুলকে ধ্বংস করিয়া শেষ বয়সে গঙ্গাতটে পুণ্যাশ্রমে জীবনযাপন করিয়াছিলেন। ইহা হইতে স্বতঃই অনুমিত হয় যে সামন্তসেনই প্রথমে কর্ণাট হইতে বঙ্গদেশে আসিয়া গঙ্গাতীরে বাস করেন। কিন্তু বল্লালসেনের নৈহাটী তাম্রশাসনে উত্ত হইয়াছে যে, চন্দ্রের বংশে জাত অনেক রাজপুত্র রাঢ়দেশের অলঙ্কারস্বরূপ ছিলেন ও তাঁহাদেরই বংশে সামন্তসেন জন্মগ্রহণ করেন। এখানে স্পষ্ট বলা হইয়াছে সামন্ত- সেনের পূর্বপুরুষগণ রাঢ়দেশে প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছিলেন। এই দুইটি উত্তির সামঞ্জস্য সাধন করিতে হইলে বলিতে হয় যে, কর্ণাটের এক সেনবংশ বহুদিন যাবৎ রাঢ়দেশে বাস করিতেছিলেন, কিন্তু তাঁহারা কর্ণাট দেশের সহিতও সম্বন্ধ রক্ষা করিয়া আসেতেছিলো।

#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#historyofbengal
#বাংলা
#অডিওবুক
#ইতিহাস
#history
#সেনরাজবংশ

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার