বাংলার শেষ স্বাধীন রাজ্য || Ancient History of Bengal ||বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ||

Description

লক্ষ্মণসেনের রাজত্বের শেষভাগে মেঘনার পূর্বতীরে মধুমথনদেব একটি স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। মধুমথনদেবের পিতা পুরুষোত্তম 'দেবান্বয়-গ্রামণী' অর্থাৎ দেববংশের প্রধান বলিয়া আখ্যাত হইয়াছেন; কিন্তু এই বংশের কোন তাম্রশাসনেই তাঁহার সম্বন্ধে রাজপদবীজ্ঞাপক কোন উপাধি ব্যবহৃত হয় নাই। রাজা মধমথনদেব ও তাঁহার পুত্র বাসুদেব সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না। কিন্তু বাসুদেবের পুত্র দামোদরদেবের তিনখানি তাম্রশাসন আবিষ্কৃত হইয়াছে। ইহা হইতে জানা যায় যে, তিনি ১২৩১ অব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং অন্তত ১২৪৩ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। এই তাম্রশাসনগুলি হইতে অনুমিত হয় যে, দামোদরদেবের রাজ্য বর্তমান ত্রিপুরা, নোয়াখালি ও চট্টগ্রাম জিলায় সীমাবদ্ধ ছিল। 'সকল-ভূপাল- চক্রবর্তী' ও 'অরিরাজ-চালুর-মাধব' এই উপাধিদ্বয় হইতে অনুমিত হয়, দামোদর পরাক্লান্ত রাজা ছিলেন। সম্ভবত সেনবংশীয় রাজা বিশ্বরূপসেনের মৃত্যুর পর তিনি পৈতৃক রাজ্যের সীমা বিস্তার করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। কারণ তাঁহার পুত্র দশরথদেবের পাকামোড়া গ্রামে প্রাপ্ত তাম্রশাসনে উক্ত হইয়াছে যে, তাঁহার পিতা রাজা দামোদরদেব "দেশের নষ্টশ্রী পুনরুদ্ধার করিয়া গৌড়দেশে মহোৎসব সম্পন্ন করিয়াছিলেন।" দামোদরদেবের নিজের লিপিতে এরূপ কোন উল্লেখ না থাকায় মনে হয় যে তিনি তাঁহার রাজত্বের শেষভাবে গৌড়ে প্রাধান্য স্থাপন করিয়াছিলেন। দামোদরদেবের মৃত্যুর পর তাঁহার পুত্র দশরথদেব রাজা হন। ত্রিপুরা জিলার

পাকামোড়া ছাড়া ঢাকা জিলার আদাবাড়ী গ্রামে তাঁহার আর একখানি তাম্রশাসন পাওয়া গিয়াছে। এই তাম্রশাসনখানি অতিশয়, জীর্ণ এবং ইহার সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার সম্ভব হয় নাই। যেটুকু গিয়াছে, তাহা হইতে জানা যায় যে, পরমেশ্বর পরম- ভট্টারক মহারাজাধিরাজ অরিরাজদন জমাধব দশরথদেব বিক্রমপুর রাজধানী হইতে এই তাম্রশাসন দান করিয়াছিলেন। কেশবসেন ও বিশ্বরুপসেনের অনুকরণে তিনি অশ্বপতি, গজপতি, নরপতি, রাজত্রয়াধিপতি উপাধি ধারণ করিয়াছিলেন, এবং সেন- রাজগণের "সেনকুল-কমল-বিকাস-ভাস্কর" পদবীর পরিবর্তে তাঁহার শাসনে "দেবান্বয়- কমল-বিকাস-ভাস্কর" ব্যবহৃত হইয়াছে। এই শাসনখানিতে উত্ত হইয়াছে যে তিনি নারায়ণের কৃপায় গৌড়রাজ্য লাভ করিয়াছিলেন। ইহাতে তাঁহার নামের পূর্বে সম্রাটসূচক যে সকল পদবী আছে পাকামোড়া শাসনে তাহা নাই। সুতরাং অনুমান করা যাইতে পারে যে দামোদরদেব গৌড়ে প্রাধান্য স্থাপন করেন। ইহার ফলে দশরথদেব রাজসিংহাসনে আরোহণ করিবার কিছুকাল পরে গৌড়ের আধিপত্য লাভ করেন এবং সম্রাটসূচক পদবীগুলি তাঁহার নামের পূর্বে ব্যবহৃত হয়।।

পূর্বেই উত্ত হইয়াছে যে, লক্ষ্মণসেনের বংশধরগণ অন্তত ১২৪৫ অথবা ১২৬০ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। সম্ভবত ইহার পর কোন সময়ে দশরথদেব গৌড়রাজ্য বা ইহার কিয়দংশ অধিকার করিয়া থাকিবেন। মুসলমান ঐতিহাসিকগণের মতে গৌড় এই সময়ে তুর্কী রাজগণের অধীনে ছিল। তবে তুর্কী নায়কগণের গৃহ...

#বাংলাদেশের_ইতিহাস #historyofbengal #বাংলা
#অডিওবুক #history #ইতিহাস #বাংলারশেষস্বাধীনরাজ্য

Details

404 Views
লক্ষ্মণসেনের রাজত্বের শেষভাগে মেঘনার পূর্বতীরে মধুমথনদেব একটি স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। মধুমথনদেবের পিতা পুরুষোত্তম 'দেবান্বয়-গ্রামণী' অর্থাৎ দেববংশের প্রধান বলিয়া আখ্যাত হইয়াছেন; কিন্তু এই বংশের কোন তাম্রশাসনেই তাঁহার সম্বন্ধে রাজপদবীজ্ঞাপক কোন উপাধি ব্যবহৃত হয় নাই। রাজা মধমথনদেব ও তাঁহার পুত্র বাসুদেব সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না। কিন্তু বাসুদেবের পুত্র দামোদরদেবের তিনখানি তাম্রশাসন আবিষ্কৃত হইয়াছে। ইহা হইতে জানা যায় যে, তিনি ১২৩১ অব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং অন্তত ১২৪৩ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। এই তাম্রশাসনগুলি হইতে অনুমিত হয় যে, দামোদরদেবের রাজ্য বর্তমান ত্রিপুরা, নোয়াখালি ও চট্টগ্রাম জিলায় সীমাবদ্ধ ছিল। 'সকল-ভূপাল- চক্রবর্তী' ও 'অরিরাজ-চালুর-মাধব' এই উপাধিদ্বয় হইতে অনুমিত হয়, দামোদর পরাক্লান্ত রাজা ছিলেন। সম্ভবত সেনবংশীয় রাজা বিশ্বরূপসেনের মৃত্যুর পর তিনি পৈতৃক রাজ্যের সীমা বিস্তার করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। কারণ তাঁহার পুত্র দশরথদেবের পাকামোড়া গ্রামে প্রাপ্ত তাম্রশাসনে উক্ত হইয়াছে যে, তাঁহার পিতা রাজা দামোদরদেব "দেশের নষ্টশ্রী পুনরুদ্ধার করিয়া গৌড়দেশে মহোৎসব সম্পন্ন করিয়াছিলেন।" দামোদরদেবের নিজের লিপিতে এরূপ কোন উল্লেখ না থাকায় মনে হয় যে তিনি তাঁহার রাজত্বের শেষভাবে গৌড়ে প্রাধান্য স্থাপন করিয়াছিলেন। দামোদরদেবের মৃত্যুর পর তাঁহার পুত্র দশরথদেব রাজা হন। ত্রিপুরা জিলার

পাকামোড়া ছাড়া ঢাকা জিলার আদাবাড়ী গ্রামে তাঁহার আর একখানি তাম্রশাসন পাওয়া গিয়াছে। এই তাম্রশাসনখানি অতিশয়, জীর্ণ এবং ইহার সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার সম্ভব হয় নাই। যেটুকু গিয়াছে, তাহা হইতে জানা যায় যে, পরমেশ্বর পরম- ভট্টারক মহারাজাধিরাজ অরিরাজদন জমাধব দশরথদেব বিক্রমপুর রাজধানী হইতে এই তাম্রশাসন দান করিয়াছিলেন। কেশবসেন ও বিশ্বরুপসেনের অনুকরণে তিনি অশ্বপতি, গজপতি, নরপতি, রাজত্রয়াধিপতি উপাধি ধারণ করিয়াছিলেন, এবং সেন- রাজগণের "সেনকুল-কমল-বিকাস-ভাস্কর" পদবীর পরিবর্তে তাঁহার শাসনে "দেবান্বয়- কমল-বিকাস-ভাস্কর" ব্যবহৃত হইয়াছে। এই শাসনখানিতে উত্ত হইয়াছে যে তিনি নারায়ণের কৃপায় গৌড়রাজ্য লাভ করিয়াছিলেন। ইহাতে তাঁহার নামের পূর্বে সম্রাটসূচক যে সকল পদবী আছে পাকামোড়া শাসনে তাহা নাই। সুতরাং অনুমান করা যাইতে পারে যে দামোদরদেব গৌড়ে প্রাধান্য স্থাপন করেন। ইহার ফলে দশরথদেব রাজসিংহাসনে আরোহণ করিবার কিছুকাল পরে গৌড়ের আধিপত্য লাভ করেন এবং সম্রাটসূচক পদবীগুলি তাঁহার নামের পূর্বে ব্যবহৃত হয়।।

পূর্বেই উত্ত হইয়াছে যে, লক্ষ্মণসেনের বংশধরগণ অন্তত ১২৪৫ অথবা ১২৬০ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। সম্ভবত ইহার পর কোন সময়ে দশরথদেব গৌড়রাজ্য বা ইহার কিয়দংশ অধিকার করিয়া থাকিবেন। মুসলমান ঐতিহাসিকগণের মতে গৌড় এই সময়ে তুর্কী রাজগণের অধীনে ছিল। তবে তুর্কী নায়কগণের গৃহ...

#বাংলাদেশের_ইতিহাস #historyofbengal #বাংলা
#অডিওবুক #history #ইতিহাস #বাংলারশেষস্বাধীনরাজ্য

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার