বয়ঃসন্ধিকালের উপর মনোভাবের প্রভাব ||Developmental Psychology Bangla || বিকাশ মনোবিজ্ঞান ||

Description

মনোভাব ও আচরণের উপর বয়ঃপ্রাপ্তির প্রভাব

উপরের আলোচনা থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে, ছেলেমেয়ের সার্বিক দৈহিক অবস্থার উপর বয়ঃপ্রাপ্তি প্রণালীর কার্যকরী পরিণতি হিসাবে কিশোর-কিশোরীর মনোভাব ও আচরণও বিঘ্নিত হয়। তবে এ সময় ছেলেমেয়ের মনোভাব ও আচরণের পরিবর্তন গ্রন্থির কার্যপ্রণালীর পরিবর্তনের জন্যে হয় না বরং সামাজিক কারণে হয় সে রকম অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। অবশ্য গ্রন্থির কারণে দেহাভ্যন্তরীণ ভারসাম্য (homeostasis) কিছুটা ব্যাহত হয় বলে আচরণের পরিবর্তন আংশিকভাবে গ্রন্থির কার্যাবলীর উপর নির্ভরশীল। ম বাবা, ভাই-বোন, শিক্ষক ও সঙ্গীর কাছ থেকে এ সময় ছেলেমেয়েরা যদি কথ সমবেদনা পায় অথচ তাদের কাছ থেকে সমাজের প্রত্যাশা যদি বেশী হয় তবে দৈহিক পরিবর্তনের ফলে মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা বেশী হবে। ছেলেমেয়ের মনোভাব ও আচরণের উপর বয়ঃপ্রাপ্তির দৈহিক পরিবর্তনের খুব স্বাভাবিক অথচ ক্ষতিকর প্রভাব নীচে উল্লেখ করা হলো।

১. একাকীত্বের ইচ্ছা (desire for isolation): যৌন পরিবর্তন শুরু হলে

ছেলে-মেয়েরা বাড়ীতে সবার সাথে বেশী থাকতে চায় না এবং সঙ্গীদের সাথে মিলেমিশে কোন কাজ যেমন, খেলাধুলা করতে চায় না। সবাই যে তাদের ভুলভাবে বিচার করে এবং খারাপ ব্যবহার করে সে সম্পর্কে দিনের অধিকাংশ সময় একা একা চিন্তা ভাবনা করে (day dreaming) অথবা হস্তমৈথুনের (masturbation) সাহায্যে যৌন-ক্রিয়া সম্বন্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। সামাজিক মেলামেশা বর্জনের আংশিক পরিণতি স্বরূপ কিশোর-কিশোরী কারো সাথে ভাবের আদান-প্রদান করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।

২. একঘেঁয়েমির অভিজ্ঞতা (boredom): এ বয়সের ছেলেমেয়েদের কাছে খেলা ধুলা, স্কুলের কাজ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ছোটবেলার মত আনন্দের সঞ্চার করতে পারে না। ফলে সেসব একঘেঁয়ে মনে হয়। ফল হিসেবে ছেলেমেয়ে যতটুকু কাজ করতে সক্ষম তার সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে চায় না এবং এভাবে তাদের মনে কর্মসাফল্য অর্জনের ইচ্ছা বা অভ্যাস গড়ে ওঠে।

৩. অসামাঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ (incoordination): দেহের দ্রুত ও অসামাঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশের জন্যে বয়ঃপ্রাপ্তি ছেলেমেয়েদের আচরণ বিশৃঙ্খলাময় ও অদ্ভুত মনে হয়। দৈহিক বৃদ্ধির গতি কমে এলে আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

৪. সামাজিক বৈরিতা (social antagonism): এ সময় ছেলেমেয়েরা প্রায়ই কোনো কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে চায় না। কারো সাথে একমত পোষণ করতে চায় না এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব পোষণ করে। ছেলে ও মেয়ে পরস্পরকে হিংসা করে। সব সময় একে অন্যের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে অথবা অবমাননামূলক মন্তব্য করে। বয়ঃপ্রাপ্তির শেষের দিকে ছেলেমেয়েরা একে অপরের প্রতি বন্ধুসুলভ হয়। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং একে অপরের প্রতি সহনশীল হয়ে ওঠে।

৫. আবেগের আধিক্য (heightened emotionality): ভাবপ্রবণতা, অভিমান, রাগে ফেটে পড়া এবং সামান্য কারণেই কেঁদে ফেলা ইত্যাদি প্রাথমিক বয়ঃসন্ধি কালের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

#বয়সন্ধিকালেরপ্রভাব




Details

215 Views
মনোভাব ও আচরণের উপর বয়ঃপ্রাপ্তির প্রভাব

উপরের আলোচনা থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে, ছেলেমেয়ের সার্বিক দৈহিক অবস্থার উপর বয়ঃপ্রাপ্তি প্রণালীর কার্যকরী পরিণতি হিসাবে কিশোর-কিশোরীর মনোভাব ও আচরণও বিঘ্নিত হয়। তবে এ সময় ছেলেমেয়ের মনোভাব ও আচরণের পরিবর্তন গ্রন্থির কার্যপ্রণালীর পরিবর্তনের জন্যে হয় না বরং সামাজিক কারণে হয় সে রকম অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। অবশ্য গ্রন্থির কারণে দেহাভ্যন্তরীণ ভারসাম্য (homeostasis) কিছুটা ব্যাহত হয় বলে আচরণের পরিবর্তন আংশিকভাবে গ্রন্থির কার্যাবলীর উপর নির্ভরশীল। ম বাবা, ভাই-বোন, শিক্ষক ও সঙ্গীর কাছ থেকে এ সময় ছেলেমেয়েরা যদি কথ সমবেদনা পায় অথচ তাদের কাছ থেকে সমাজের প্রত্যাশা যদি বেশী হয় তবে দৈহিক পরিবর্তনের ফলে মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা বেশী হবে। ছেলেমেয়ের মনোভাব ও আচরণের উপর বয়ঃপ্রাপ্তির দৈহিক পরিবর্তনের খুব স্বাভাবিক অথচ ক্ষতিকর প্রভাব নীচে উল্লেখ করা হলো।

১. একাকীত্বের ইচ্ছা (desire for isolation): যৌন পরিবর্তন শুরু হলে

ছেলে-মেয়েরা বাড়ীতে সবার সাথে বেশী থাকতে চায় না এবং সঙ্গীদের সাথে মিলেমিশে কোন কাজ যেমন, খেলাধুলা করতে চায় না। সবাই যে তাদের ভুলভাবে বিচার করে এবং খারাপ ব্যবহার করে সে সম্পর্কে দিনের অধিকাংশ সময় একা একা চিন্তা ভাবনা করে (day dreaming) অথবা হস্তমৈথুনের (masturbation) সাহায্যে যৌন-ক্রিয়া সম্বন্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। সামাজিক মেলামেশা বর্জনের আংশিক পরিণতি স্বরূপ কিশোর-কিশোরী কারো সাথে ভাবের আদান-প্রদান করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।

২. একঘেঁয়েমির অভিজ্ঞতা (boredom): এ বয়সের ছেলেমেয়েদের কাছে খেলা ধুলা, স্কুলের কাজ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ছোটবেলার মত আনন্দের সঞ্চার করতে পারে না। ফলে সেসব একঘেঁয়ে মনে হয়। ফল হিসেবে ছেলেমেয়ে যতটুকু কাজ করতে সক্ষম তার সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে চায় না এবং এভাবে তাদের মনে কর্মসাফল্য অর্জনের ইচ্ছা বা অভ্যাস গড়ে ওঠে।

৩. অসামাঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ (incoordination): দেহের দ্রুত ও অসামাঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশের জন্যে বয়ঃপ্রাপ্তি ছেলেমেয়েদের আচরণ বিশৃঙ্খলাময় ও অদ্ভুত মনে হয়। দৈহিক বৃদ্ধির গতি কমে এলে আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

৪. সামাজিক বৈরিতা (social antagonism): এ সময় ছেলেমেয়েরা প্রায়ই কোনো কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে চায় না। কারো সাথে একমত পোষণ করতে চায় না এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব পোষণ করে। ছেলে ও মেয়ে পরস্পরকে হিংসা করে। সব সময় একে অন্যের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে অথবা অবমাননামূলক মন্তব্য করে। বয়ঃপ্রাপ্তির শেষের দিকে ছেলেমেয়েরা একে অপরের প্রতি বন্ধুসুলভ হয়। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং একে অপরের প্রতি সহনশীল হয়ে ওঠে।

৫. আবেগের আধিক্য (heightened emotionality): ভাবপ্রবণতা, অভিমান, রাগে ফেটে পড়া এবং সামান্য কারণেই কেঁদে ফেলা ইত্যাদি প্রাথমিক বয়ঃসন্ধি কালের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

#বয়সন্ধিকালেরপ্রভাব




Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার