মোহাচ্ছন্ন উম্মাহ || কালোজাদু সংক্রান্ত ঘটনা || কখনও ঝরে যেও না || Revive Your Iman
তারেক মাহান্না কর্তৃক রচিত 'কখনও ঝরে যেও না' বই এর কালো জাদু অধ্যায় থেকে সংগৃহীত।
কারুনের কাহিনী পড়ে দেখুন। দেখবেন মাত্র এক দিনের ব্যবধানে কীভাবে তার ব্যাপারে মানুষের ধারণা পুরোপুরি পাল্টে গেছে! আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেন,
“কারুন শান-শওকতের সাথে তার সম্প্রদায়ের সামনে হাজির হলো। যারা দুনিয়ার জীবন কামনা করে, তারা বলে উঠল, ‘হায়! কারুনকে যা দেওয়া হয়েছে, আমাদের জন্যও যদি তা হতো! সত্যই সে মহাভাগ্যবান ব্যক্তি।’
যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল, তারা বলল, ‘ধিক তোমাদের প্রতি। আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠতর তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে। আর সত্যপথে অবিচল ধৈর্যশীল ছাড়া অন্য কেউ তা প্রাপ্ত হয় না।’ অতঃপর আমি ভূগর্ভে প্রোথিত করলাম কারুনকে ও তার প্রাসাদকে। আল্লাহ্ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোনো দল ছিল না, আর সে নিজেও নিজেকে রক্ষা করতে পারল না। গতকাল যারা তার মর্যাদার ন্যায় কামনা করেছিল, তারা সকলে বলতে লাগল, ‘হায়! আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের যার জন্য ইচ্ছে রিযিক বর্ধিত করেন আর যার জন্য ইচ্ছে হ্রাস করেন। আল্লাহ্ যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করতেন, তবে তিনি আমাদেরও ভূগর্ভে প্রোথিত করে দিতেন। হায়! কাফিররা সাফল্যমণ্ডিত হয় না।” (সূরাহ আল-ক্বাসাস ২৮:৭৯-৮২)
কাজেই যখন তাগুত কারুন ‘নেই’ হয়ে গেল, তখন মানুষের ওপর থেকে তার জাদুর প্রভাব নষ্ট হয়ে গেল, আর মানুষ তার মোহ থেকে বেরিয়ে আসলো।
এমনটা ঘটেছিল কারুনের অনেক আগেও, ইবরাহীম (আঃ) এর জাতির সাথে। ইবরাহীম (আঃ) তাঁর জাতির মূর্তিগুলো টুকরো টুকরো করে ফেলার পরই কেবল তাঁর লোকেরা সুদীর্ঘকালের মোহ থেকে বেরিয়ে এসে সম্বিত ফিরে পায়। এমনকি “তারা বিষয়টি নিয়ে মনে মনে চিন্তা করল এবং পরস্পর বলাবলি করল,
‘তোমরা নিজেরাই তো অন্যায়কারী।” (সূরাহ আম্বিয়া ২১:৬৪)
এমনটা ঘটেছে কারুনের অনেক পরেও। নিজের মূর্তিগুলোকে ময়লার স্তূপে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে এবং এদের সাথে একটি মরা কুকুরকে বাঁধা অবস্থায় দেখেই কেবল আমর ইবনুল জামূহ (রাঃ) এর বোধোদয় ঘটে। তাঁকে হিদায়াত দেওয়ার কারণে তিনি আল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কবিতা রচনা করেন। কবিতার একাংশ এমন,
তিনি সেই সত্ত্বা, যিনি বাঁচালেন আমাকেই
আমি কবরের আঁধারে বন্দী হবার আগেই।
আধুনিক ইতিহাসে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরেই কেবল অসংখ্য মুসলিম টের পান যে, ইসলাম ও সমাজতন্ত্রের মাঝে সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা কতটা ভুল ছিল।
কিন্তু একই ভুল থেকে আজ বের হতে পারছে না অনেক মুসলিম দাবিদার, যারা আজকে ইসলাম ও আমেরিকার আদর্শের মধ্যে সমন্বয় করতে চাওয়ার সেই পুরোনো ভ্রান্তিতে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর তাদের ভাষায় যারা “খুবই সংখ্যালঘু”, সেই মৌলবাদী সম্প্রদায় যখন তাদেরকে এ জিনিস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, তখন তারা এমনভাবে তাকায় যেন এরাই হচ্ছে পাগল, এরাই ভ্রান্তির মধ্যে আছে! ওপরে যা বললাম, আলিমরা বলেন, যে জিনিসটির মাধ্যমে জাদু করা হয়েছে, তা যতদিন অক্ষত থাকে, জাদুর প্রভাবও ততদিন চলতে থাকে।
আলিমরা আরেকটি জিনিস বলেন। তা হলো, জাদুকররা নিজেরাও জানে যে, তাদের প্রভাব কেবল দুর্বল হৃদয়ের ব্যক্তির উপরই খাটে। যাদেরকে আল্লাহ ঈমান ও ইলম দিয়ে শক্তিশালী করেছেন, তাদের ওপর জাদুর প্রভাব নেই। লক্ষ্য করুন, যারা কারুনের যশ আর ধনদৌলত দেখে মোহাচ্ছন্ন হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তারা কারুনের জাদুর প্রভাব থেকে বের হয়েছে সত্যি, কিন্তু “যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল” তারা কখনও সেই জাদু দ্বারা প্রভাবিতই হননি। কেন? কারণ তাদের জ্ঞান ও ঈমান তাদেরকে জাদু থেকে রক্ষা করেছে। কারুনকে মাটি খেয়ে নেওয়ার অনেক আগে থেকেই তারা তার পরিণতি দেখতে পাচ্ছিলেন।
.
কালো জাদু
তারিক মেহান্না
বই: কখনও ঝরে যেও না