নোটস ফ্রম দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড
অনেকবার ঘটেছে আয়কারণে মেজাজ বিগড়ে যায়। জীবনভর ফন্দি আঁটলাম, এমন কায়দা করে অভিযানগুলো সাজাব যেন শেষটা নিজেই আর সামলাতে না পারি। আর একবার...একবার নয়, আসলে দুবার প্রেমে পড়তে খুব চেষ্টা করেছি। সত্যি বলছি, বিশ্বাস করুন, দুবারই অনেক ভুগেছি। মনের মধ্যে সেই দুর্ভোগের পিছনে কোন বিশ্বাস ছিল না; ছিল শুধু মৃদু ব্যঙ্গ। তারপরও ভুগতে হয়েছে আমাকে; সেই আদি কারনে। কিছুই করার ছিল না। জানি না কার উপর প্রচ- ঈর্ষা হত, অভিমান হত, রাগ হত। শেষে বুঝলাম, এর আসল কারণটা কী। অবসাদ... মানসিক অবসাদ। জড়তা আমাকে গ্রাস করেছিল। জানেন তো, বেশি সচেতন মানুষের মধ্যেই জড়তাটা বেশি কাজ করে। মানে হাত গুটিয়ে সচেতনভাবে বসে থাকা আর কি! আবার বলছি, আবার জোর দিয়ে বলছি, সব 'কর্মবীর' কিংবা করিতকর্মা মানুষ সব সময় কাজে ডুবে থাকে, কারণ তারা নির্বোধ। বুঝিয়ে বলি। যাদের ধৈর্যশক্তি সীমিত তারা খুব দূরের বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে চায় না। যে সমস্যা ঠিক কাঁধের উপর এসে পড়েছে, সেটা সামাল দেয়াই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। ফলে তাদের সদাব্যস্ত না হয়ে কোন উপায় থাকে না। কোন কাজে আরম্ভ হবার শুরুতে কী হয় আপনার? মনটা সহজ-সচল করে নেবার দরকার হয়, এতে কি সন্দেহের কোন অবকাশ আছে? উদাহরণ হিসেবে আমার কথাই ধরুন না। কীভাবে মনটা থিতু করি? যা করতে যাচ্ছি তার মূল কারন কী? আমার দাঁড়ানোর জায়গা কোথায়? সেখান থেকে আমি কী পেতে পারি? এইসব প্রশ্ন নিয়ে আমার মনের মধ্যে একটির পর একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে এবং শেষ পর্যন্ত তা অসীমের দিকে গড়ায়। এই হচ্ছে সব সচেতনতা আর মানসিকতার মূল রহস্য। ঘুরেফিরে এই হয়ত প্রকৃতির বিধান। কিন্তু এর পরিণাম কী? সেই একই পরিণতি। মনে করে দেখুন, একটু আগেই প্রতিহিংসার কথা বলেছি। ভালোই জানি, মেনে নেন নি। বলেছি, মানুষ যে প্রতিশোধ নিতে চায় তার আসল কারণ প্রতিশোধের মধ্যে সে আসলে আনন্দ খুঁজে পায়। ন্যায়বিচারের আনন্দ। তিলে তিলে প্রতিহিংসার পথে সে এগিয়ে যায় সেই ন্যায়সঙ্গত আনন্দের অন্বেষণে। কিন্তু আমি তো এর মাঝে কোন ন্যায়বিচার খুঁজে পাই না। তাই আমি যখন প্রতিশোধের জন্য ছুটব-তার পিছনে বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। কিন্তু সেখানে বিদ্বেষও যদি না থাকে, তখন আমি কিসের পিছনে ছুটব? আমার চেতনা যে অভিশপ্ত পরিণতির দিকে আমাকে
#নোটস_ফ্রম_দ্যা_আন্ডারগ্রাউন্ড
#ফিওদর_দস্তয়েভস্কি'র
#অডিওবুক
#বাংলা_অডিওবুক
#সেরাঅডিওবুক