পাল সাম্রাজ্যের ধ্বংসের কারন,বাংলাদেশের ইতিহাস ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত#বাংলাদেশের_ইতিহাস#history

Description

দশম পরিচ্ছেদ

পালরাজ্যের ধ্বংস

রামপালের মৃত্যুর পর তাঁহার পত্র কুমারপাল রাজা হইলেন। রামচরিতে উত্ত হইয়াছে যে, রামপালের দুই পুত্র বিত্তপাল ও রাজ্যপাল বরেন্দ্রের বিদ্রোহ দমনে যথেষ্ট সাহায্য করিয়াছিলেন। রামপালের আর এক পুত্র মদনপাল পরে পালরাজ্যের রাজা হইয়াছিলেন। রামপালের এই চারি পুত্রের মধ্যে কে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন, এবং কোন অধিকারে কুমারপাল পিতার মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করিয়াছিলেন, তাহা সঠিক জানিবার উপায় নাই।

ডঃ রাধাগোবিন্দ বসাকের মতে রাজ্যপালই জ্যেষ্ঠপুত্র ছিলেন এবং সম্ভবত রামপালের জ্যেষ্ঠপুত্র রাজ্যপাল পিতার জীবদ্দশাতেই মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিলেন (অবতরণিকা পুঃ ২০-২৮/০)।* রামচরিতের চতুর্থ সর্গের তৃতীয় শ্লোকের ব্যাখ্যা হইতে তিনি সিদ্ধান্ত করেন। এই অংশের টীকা নাই এবং এই ব্যাখ্যা সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ আছে।

কুমারপালের রাজত্বকালে (আঃ ১১৩০-১১৪০) দক্ষিণবঙ্গে বিদ্রোহ হইয়াছিল এবং তাঁহার "প্রাণাপেক্ষা প্রিয়তর বন্ধু প্রধান অমাত্য" বৈদ্যদেব নৌযুদ্ধে বিদ্রোহী- গণকে পরাজিত করিয়াছিলেন। ইহার কিছুদিন পরেই পূর্বভাগে, সম্ভবত কামরূপে, তিমগ্যদেব বিদ্রোহী হইয়াছিলেন, এবং বৈদ্যদেব তাঁহাকে পরাজিত করিয়া সেই রাজ্যের রাজা হইয়াছিলেন। পরবর্তী কালে, সম্ভবত কুমারপালের মৃত্যুর পর, বৈদ্যদেব কামরূপে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন।

পালরাজ্যের অন্তর্বিদ্রোহ সম্ভবত এই সময় খুবই ব্যাপক হয়। পূর্ববঙ্গে বর্মণ রাজারা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সুযোগ পাইয়া দক্ষিণ হইতে গঙ্গরাজগণ পালরাজ্য আক্রমণ করেন। ১১৩৫ অব্দের পূর্বে অনন্তবর্মা চোড়গঙ্গ, মেদিনীপুর ও হুগলী জেলার মধ্য দিয়া অগ্রসর হইয়া গঙ্গা-তীরবর্তী মন্দার প্রদেশ পর্যন্ত জয় করেন। তিনি যে মিথুনপুর ও আরম্য দূর্গ অধিকার করেন, তাহা সম্ভবত আধুনিক মেদিনীপুর ও আরামবাগ (হুগলী জিলা)। দাক্ষিণাত্যের চালুক্যরাজ- গণও পশ্চিমবঙ্গ আক্রমণ করেন এবং ইহার ফলে রাঢ়দেশের সেনারাজবংশ প্রবল হইয়া উঠে। গাহড়বাল রাজগণও মগধ আক্রমণ করিয়া পাটনা পর্যন্ত অধিকার করেন।

কুমারপালের পর তাঁহার পত্র তৃতীয় গোপাল রাজা হন। তাঁহার রাজত্বকালের (আঃ ১১৩০-১১৪৪) কোন ঘটনাই জানা যায় না। রাজশাহী জিলার নিমদীঘিতে প্রাপ্ত শিলালিপির দ্বিতীয় শ্লোক হইতে কেহ কেহ অনুমান করেন যে তিনি উতের নিকটে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণত্যাগ করেন। কিন্তু সম্ভবত তিনি শৈশবকালেই রাজা হন এবং ৩।৪ বৎসর রাজত্ব করেন।

রামচরিতে কুমারপাল ও তাঁহার পুত্র তৃতীয় গোপালের রাজত্ব সম্বন্ধে মাত্র একটি করিয়া শ্লোক আছে। কুমারপাল সম্বন্ধে কোন ঘটনার উল্লেখ নাই। তৃতীয়

* রামচরিত-ডঃ রাধাগোবিন্দ বসাক সম্পাদিত (১৯৫৩)
#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#পালসাম্রাজ্য
#historyofbengal
#ancienthistoryofbengal
#পালরাজাদেরইতিহাস
#পালসাম্রাজ্যেরপতন

Details

424 Views
দশম পরিচ্ছেদ

পালরাজ্যের ধ্বংস

রামপালের মৃত্যুর পর তাঁহার পত্র কুমারপাল রাজা হইলেন। রামচরিতে উত্ত হইয়াছে যে, রামপালের দুই পুত্র বিত্তপাল ও রাজ্যপাল বরেন্দ্রের বিদ্রোহ দমনে যথেষ্ট সাহায্য করিয়াছিলেন। রামপালের আর এক পুত্র মদনপাল পরে পালরাজ্যের রাজা হইয়াছিলেন। রামপালের এই চারি পুত্রের মধ্যে কে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন, এবং কোন অধিকারে কুমারপাল পিতার মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করিয়াছিলেন, তাহা সঠিক জানিবার উপায় নাই।

ডঃ রাধাগোবিন্দ বসাকের মতে রাজ্যপালই জ্যেষ্ঠপুত্র ছিলেন এবং সম্ভবত রামপালের জ্যেষ্ঠপুত্র রাজ্যপাল পিতার জীবদ্দশাতেই মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিলেন (অবতরণিকা পুঃ ২০-২৮/০)।* রামচরিতের চতুর্থ সর্গের তৃতীয় শ্লোকের ব্যাখ্যা হইতে তিনি সিদ্ধান্ত করেন। এই অংশের টীকা নাই এবং এই ব্যাখ্যা সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ আছে।

কুমারপালের রাজত্বকালে (আঃ ১১৩০-১১৪০) দক্ষিণবঙ্গে বিদ্রোহ হইয়াছিল এবং তাঁহার "প্রাণাপেক্ষা প্রিয়তর বন্ধু প্রধান অমাত্য" বৈদ্যদেব নৌযুদ্ধে বিদ্রোহী- গণকে পরাজিত করিয়াছিলেন। ইহার কিছুদিন পরেই পূর্বভাগে, সম্ভবত কামরূপে, তিমগ্যদেব বিদ্রোহী হইয়াছিলেন, এবং বৈদ্যদেব তাঁহাকে পরাজিত করিয়া সেই রাজ্যের রাজা হইয়াছিলেন। পরবর্তী কালে, সম্ভবত কুমারপালের মৃত্যুর পর, বৈদ্যদেব কামরূপে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন।

পালরাজ্যের অন্তর্বিদ্রোহ সম্ভবত এই সময় খুবই ব্যাপক হয়। পূর্ববঙ্গে বর্মণ রাজারা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সুযোগ পাইয়া দক্ষিণ হইতে গঙ্গরাজগণ পালরাজ্য আক্রমণ করেন। ১১৩৫ অব্দের পূর্বে অনন্তবর্মা চোড়গঙ্গ, মেদিনীপুর ও হুগলী জেলার মধ্য দিয়া অগ্রসর হইয়া গঙ্গা-তীরবর্তী মন্দার প্রদেশ পর্যন্ত জয় করেন। তিনি যে মিথুনপুর ও আরম্য দূর্গ অধিকার করেন, তাহা সম্ভবত আধুনিক মেদিনীপুর ও আরামবাগ (হুগলী জিলা)। দাক্ষিণাত্যের চালুক্যরাজ- গণও পশ্চিমবঙ্গ আক্রমণ করেন এবং ইহার ফলে রাঢ়দেশের সেনারাজবংশ প্রবল হইয়া উঠে। গাহড়বাল রাজগণও মগধ আক্রমণ করিয়া পাটনা পর্যন্ত অধিকার করেন।

কুমারপালের পর তাঁহার পত্র তৃতীয় গোপাল রাজা হন। তাঁহার রাজত্বকালের (আঃ ১১৩০-১১৪৪) কোন ঘটনাই জানা যায় না। রাজশাহী জিলার নিমদীঘিতে প্রাপ্ত শিলালিপির দ্বিতীয় শ্লোক হইতে কেহ কেহ অনুমান করেন যে তিনি উতের নিকটে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণত্যাগ করেন। কিন্তু সম্ভবত তিনি শৈশবকালেই রাজা হন এবং ৩।৪ বৎসর রাজত্ব করেন।

রামচরিতে কুমারপাল ও তাঁহার পুত্র তৃতীয় গোপালের রাজত্ব সম্বন্ধে মাত্র একটি করিয়া শ্লোক আছে। কুমারপাল সম্বন্ধে কোন ঘটনার উল্লেখ নাই। তৃতীয়

* রামচরিত-ডঃ রাধাগোবিন্দ বসাক সম্পাদিত (১৯৫৩)
#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#পালসাম্রাজ্য
#historyofbengal
#ancienthistoryofbengal
#পালরাজাদেরইতিহাস
#পালসাম্রাজ্যেরপতন

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার